The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ইউরোপের কয়েকটি সবচেয়ে দরিদ্র দেশ [এক]

মলদোভা, ইউক্রেন, কসোভো, আলবেনিয়া ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে ইউরোপ হলো পছন্দের গন্তব্যস্থল। আজ পর্ব এক এ ইউরোপের কয়েকটি দেশ সম্পর্কে জেনে নিন।

বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা বা জীবিকার তাগিদে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অসংখ্য মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। এর কারণ হলো অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় ইউরোপ অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধিশালী। তবে ইউরোপেও এমন অনেক দেশ রয়েছে যেগুলো আর্থিকভাবে খুব একটা সচ্ছল নয়, জিডিপি বা পার ক্যাপিটা ইনকামের দিক থেকে এসব দেশ অনেকটা পিছিয়ে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের চোখে ইউরোপের সংজ্ঞা যে ধরনের, এসব দেশ তার থেকে একেবারেই ভিন্ন। হয়তোবা এসব দেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর কাতারেও নেই, তবে গড়পড়তা ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের তুলনায় এসব দেশ অনেকটা অনগ্রসর বলা যায়।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো একেবারেই পশ্চাৎপদ। একসময় পূর্ব ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই কমিউনিস্ট শাসনের অধীনেই ছিলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশ থেকে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছে এটি ঠিক, তবে পুরোপুরি এসব দেশ অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে মুক্ত হতে পারেনি আজও। আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো এমন কয়েকটি দেশ সম্পর্কে যেগুলোর গড় আয় বা জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে হিসাব করলে এদের ইউরোপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ বললে মোটেও ভুল হবে না। গড় হিসাবে এসব দেশের সাধারণ মানুষের মাসিক আয় ২৫০ ইউরোর মতো।

মলদোভা

সবথেকে গরিব রাষ্ট্রের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসতে হবে ইউরোপে সবচেয়ে গরিব রাষ্ট্র মলদোভার কথায়। পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত দেশটি একটি মূলত স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র, যার পশ্চিমে রয়েছে রোমানিয়া ও উত্তর, পূর্ব এবং দক্ষিণ—এ তিন দিক বরাবরই রয়েছে ইউক্রেন। ছিসনাউ দেশটির রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী। মলদোভা একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত মলদোভা ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৯১ সালে ইউএসএসআরের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন হতে পৃথক হয়ে মলদোভা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। তবে সমাজতান্ত্রিক কাঠামো থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করার কারণে দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির শিল্প ক্ষেত্রেও। অনুন্নত অবকাঠামো, আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা ও দুর্নীতি দেশটির প্রায় নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে দেখা দেয়। পার ক্যাপিটা হিসাবে মলদোভার বর্তমান জিডিপি হলো ১ হাজার ৬৭৯ ইউএস ডলার, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বনিম্ন বলা যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, দেশটির শতকরা ১৩ দশমিক ৩ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে সবার সামনে প্রথমেই ভেসে ওঠে আন্দ্রি শেভোচেঙ্কোর নাম, একসময় তাঁর পায়ের জাদুতে মুখরিত ছিল গোটা ইউরোপের ফুটবল। ২০০৪ সালে ফিফার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জেতা আন্দ্রি শেভোচেঙ্কোর জন্ম হলো এই ইউক্রেনে। ফ্রান্সের পর ইউক্রেই হলো আয়তনের দিকদিয়ে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। সমগ্র সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ইউক্রেনই ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে মলদোভার মতো ইউক্রেনও ইউএসএসআরের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন হতে পৃথক হয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠন করে। অবকাঠামোগত দিক হতে ইউক্রেন এখনও অনেক পিছিয়ে পড়েছে। দেশটিতে দুর্নীতির মাত্রা প্রবল থাকায় এমন হয়েছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার দখল নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে ইউক্রেন, যা মূলত দেশটির অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হলো দেশটিতে আরও একটি বড় সমস্যা। পার ক্যাপিটা হিসাবে ইউক্রেনের বর্তমান জিডিপির পরিমাণ ২ হাজার ১৩৩ ইউএস ডলার, যা ইউরোপের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে।

কসোভো

ইউরোপে বিতর্কিত অঞ্চলগুলার মধ্যে একটি হলো এই কসোভো। ২০০৮ সালে সার্বিয়া হতে পৃথক হয়ে কসোভো একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, তবে জাতিসংঘ কসোভোকে এখনও পরিপূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কসোভোর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই হলো আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির শতকরা ৩০ ভাগেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, দেশটিতে বেকারত্বের হার ৩৪.৮ শতাংশ ও পার ক্যাপিটা হিসাবে কসোভোর জিডিপির পরিমাণ হলো ৩ হাজার ৮৯৩ ইউএস ডলার।

আলবেনিয়া

গোটা ইউরোপে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে একটি হলো এই আলবেনিয়া। ইতিহাসের অন্যতম সমালোচিত রাষ্ট্রনায়ক এনভার হেক্সাই ছিলেন আলবেনিয়ার একসময়কার রাষ্ট্রপ্রধান। আড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী দেশটি বলকান পর্বতমালার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন দুর্গ ও বাঙ্কারের জন্য পর্যটকদের কাছে অধিক সুপরিচিত। ১৯৪১ সাল হত ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আলবেনিয়াতে কমিউনিস্ট শাসনের প্রচলন ছিল। বলাবাহুল্য এই সুদীর্ঘ সময় আলবেনিয়া ছিল আজকের দিনের উত্তর কোরিয়ার মতো গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি রাষ্ট্র। পার ক্যাপিটা হিসাবে আলবেনিয়ার জিডিপির পরিমাণ হলো ৪ হাজার ৫৩৭ ইউএস ডলার। যদিও আলবেনিয়া ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি হলেও দেশটিতে খনিজ তেল, জ্বালানি গ্যাস, কয়লা, লোহার আকরিক, চুনাপাথরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপক উৎস রয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন আশা দেখাচ্ছে।

বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা

বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশন হতে পৃথক হয়ে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে। কসোভোর মতো দেশটি এখনও যুগোস্লাভ যুদ্ধের বিভীষিকা বহন করে চলেছে। অবকাঠামোগত দিক হতে দেশটি বেশ অনুন্নত, সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময় দেশটিতে যুক্ত হয়েছে উদ্বাস্তু সমস্যাও। পার ক্যাপিটা হিসাবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার জিডিপির পরিমাণ হলো ৫ হাজার ৬৪৭ ইউএস ডলার। স্বাধীনতার পর দেশটির সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছিলো তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটি ঠিক সেভাবে অগ্রসর হতে পারেনি। কাগজে-কলমে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হলেও বাস্তবিকভাবে দেশটিতে ৩টি ভিন্ন মতাদর্শের সরকার বিদ্যমান। মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে বসনিয়ানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলেও সার্ব-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে তাদের কোনো কর্তৃত্বই নেই। একই অবস্থা ক্রোয়েট সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতেও। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর মানুষই তাদের নিজস্ব জাতিসত্তার সরকার দ্বারা পরিচালিত হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বেশ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় ক্ষমতাসীনদের।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...