The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দিনকে দিন বাড়ছেই এলপি গ্যাসের দাম ॥ দেখার কেও নেই

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের দাম। গত তিন মাসে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা। প্রতিনিয়ত দাম বৃদ্ধি পেলেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এলপি গ্যাসের কোম্পানিগুলো কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দাম বাড়াচ্ছে, আর অন্যদিকে সরকার এ বিষয়ে শুধু বাক্য ব্যয় ছাড়া আর কোন উদ্যোগই নিচ্ছে না। ফলে এই খাতে তৈরি হয়েছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।
দিনকে দিন বাড়ছেই এলপি গ্যাসের দাম ॥ দেখার কেও নেই 1
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, এ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করা হলে উল্টো কথা শুনতে হয়। এছাড়া চাহিদামত সরকারি এলপি গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি দাম নিচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এলপি গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি মাসে টন প্রতি এক হাজার ৪শ’ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর এর কারণ দেখিয়ে দেশীয় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলপিজির দাম কমানো এবং তা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে চলতি বছরের বাজেটে এলপিজির আমদানি শুল্ক রহিত করেছে সরকার। কিন্তু এরপরও এলপিজি সহজলভ্য হয়নি, বরং গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম স্থানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর চলতি মাসে বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

গতমাসে ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লিনহিটের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে এখন রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭০০ টাকায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) যে সিলিন্ডার ৭৫০ টাকায় পাওয়ার কথা তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকায়।

বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইদানিং গ্যাস জেনারেটরেও এই এলপি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়া হোটেল রেস্টুরেন্টে এই এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যে কারণে বর্তমানে এর চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছেই। পক্ষান্তরে সীমিত কয়েকটি কোম্পানি মনোপরি এই ব্যবসায় নেতে তাদের ইচ্ছা স্বাধীন মতো ব্যবসা করছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এলপিজি বোতলজাত করার কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কম। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এগুচ্ছে না। অথচ বিপিসি গত বছরের জুলাই মাসে আগ্রহী কোম্পানির কাছ থেকে আগ্রহপত্র নিয়েছে।

এ মতাবস্থায় ডিলার ও ভোক্তারা এ সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...