The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সিদ্ধান্তহীনতা ও ক্ষণে ক্ষণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ

একটি টিভি চ্যানেলে একজন গার্মেন্টস মালিক সংগঠনের পক্ষে বলা হলো, তারা নাকি জানতেন না যে, শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যেই চলে আসবেন!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খুব স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন জনগণের মধ্যে আসতে পারে আর তা হলো আজ কেনো গণপরিবহন খোলা? হয়তো উত্তর হলো গার্মেন্টস কর্মীরা আসবে তাই। কিন্তু ওরা তো পায়ে হেটে গতকালই চলে এসেছেন!

সিদ্ধান্তহীনতা ও ক্ষণে ক্ষণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ 1

খুব স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন জনগণের মধ্যে আসতে পারে আর তা হলো আজ কেনো গণপরিবহন খোলা? হয়তো উত্তর হলো গার্মেন্টস কর্মীরা আসবে তাই। কিন্তু ওরা তো পায়ে হেটে গতকালই চলে এসেছেন! তাহলে কেনো আজ লঞ্চ ও গণপরিবহন খোলা হলো?

আসলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে লাখ লাখ গার্মেন্টস ও কারখানা শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আজ সকাল থেকে অফিস শুরু হলে গতকালই তারা ঢাকায় ফিরবেন সেটিই স্বাভাবিক।

ঈদের আগে ১৪ দিনের লকডাউনের কারণে তারা বাড়ি গিয়েছিলেন। এখন সেই ১৪ দিন পূরণ না হতেই কেনো অফিস খোলা? তারপরও প্রয়োজনে খোলা হয়েছে। যেহেতু এগুলো রফতানীমুখি কারখানা। সেহেতু এগুলো না খুললে দেশের ক্ষতি হবে। যে কারণে খোলার সেই সিদ্ধান্ত হয়তো ঠিক আছে। আবার যদি খোলা হলো তাহলে দুদিন সময় দেওয়া হলো না কেনো? কেনো পরিবহন খোলা হলো না। সরকার ও পোশাক শ্রমিকদের সংগঠন থেকে বারং বার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকদের এই নাজেহাল হতে হচ্ছে।

শুক্রবার যখন ঘোষণা দেওয়া হলো তখন কিন্তু বলা হয়নি যে, যারা ঢাকায় রয়েছেন তাদের নিয়েই আপাতত ফ্যাক্টরি চালানো হবে। শনিবার যখন হাজার হাজার শ্রমিক আসতে শুরু করলো তখন ঘোষণা দেওয়া হলো যে, যারা ঢাকায় আছেন তাদের দিয়েই ফ্যাক্টরি করা হবে, কারও চাকরি যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। শ্রমিকরাতো এই সময় সব রাস্তায়!

তারপর যখন শ্রমিকরা টিভি চ্যানেলগুলো বললো আমরা কি অফিস করতে উড়ে যাবো? তখন সরকারের বোধদয় ঘটলো। দিন শেষে ঘোষণা করা হলো লঞ্চ চলবে। টিভির স্ক্রলে সেই নিউজ দেখানো হলো। তারপর আবার মনে হলো শুধু লঞ্চ ছাড়লে তো হবে না, তারপর তারা কিভাবে আসবে? তখন আবার ঘোষণা করা হলো রবিবার ১২টা পর্যন্ত গণ পরিবহন খোলা থাকবে শ্রমিকদের সুবিধার্থে! যখন ফ্যাক্টরি খোলার সিদ্ধান্ত হলো তখনই তো পরিবহন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা উচিত ছিলো। কিন্তু তা করা হয়নি। যে কারণে সামান্য বেতনভোগী ওইসব গার্মেন্টস কর্মীদের একশ বা দুইশো টাকার স্থলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ করে এবং চরমতম কষ্ট শিকার করে ঢাকায় আসতে হয়েছে।

একটি টিভি চ্যানেলে একজন গার্মেন্টস মালিক সংগঠনের পক্ষে বলা হলো, তারা নাকি জানতেন না যে, শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যেই চলে আসবেন! তারা খুলে দিলেন আর শ্রমিকরা আসবে না এটা আবার কেমন কথা! তারা কি গত বছর দেখেননি? শ্রমিকদের টেলিফোন করে বলা হয় হাজির না হলে চাকরি থাকবে না। এরপরও তিনি এমন কথা কিভাবে বললেন সত্যিই আশ্চর্য লাগে!

আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি না। তবে সবদিক চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। আমাদের মতো এই গরীব দেশে সাধারণ শ্রমিকরা কতো টাকা বেতন পান সেটি আমাদের সকলের জানা। তারা চাকরি হারানোর কথা চিন্তাও করতে পারেন না। তাইতো তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার এই সময় করোনার ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন।

আমরা আশা রাখবো ভবিষ্যতে পোশাক মালিক ও সরকার যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুন না কেনো অন্তত শ্রমিকদের কথা যেনো তারা চিন্তা করেন। করোনা সংকটের এই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পোশাক শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের কোনোই আপত্তি নেই। বাড়ি থেকে যে কোনো সময় তারা ফিরতেও রাজি ছিলেন সব সময়। কিন্তু তাদের আসার মাধ্যমগুলো নির্ধারণ করে সময় দিয়ে তবেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত ছিলো বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...