The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৭৫ বর্গ কিলোমিটার দেশে বাস করেন মাত্র একটি পরিবার!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এক দেশের আয়তন ৭৫ বর্গ কিলোমিটার। তবে এই আয়তনের ওই দেশটিতে বসবাস করে মাত্র একটি পরিবার। বিস্ময়কর এই দেশটিই হলো বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ। এই দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ২৬ জন।

৭৫ বর্গ কিলোমিটার দেশে বাস করেন মাত্র একটি পরিবার! 1

আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এই দেশটির নাম ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার’। তবে ছোট দেশ হলেও এই দেশটির নিজস্ব মুদ্রা, নিজস্ব পাসপোর্ট, ভিসা-সবই কিন্তু রয়েছে! তবে প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার নিজেকে দেশ ঘোষণা করলেও অস্ট্রেলিয়ার বাকি দেশগুলো এই দেশকে দেশ হিসাবে মানতে নারাজ।

আজকের কথা নয়, সেই ৫১ বছর পূর্বে এক বিশেষ কারণে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওই ভূখণ্ডকে দেশ হিসাবে ঘোষণা করেন লিওনার্দ ক্যাসলে নামে জনৈক ব্যক্তি। যেখানে তিনি থাকতেন, সেই পুরো ভূখণ্ডই প্রকৃতপক্ষে লিওনার্দের সম্পত্তি ছিল। চাষের জমিও ছিল তার। যা থেকে প্রতিবছর ৪ হাজার হেক্টর গম উৎপাদন হতো। তবে প্রশাসন গম কেনাবেচার নতুন নিয়ম চালু করে। যে কারণে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল নয়, মাত্র ৯৯ একর জমিতে যে ফসল জন্মাতো তা তিনি বিক্রি করতে পারতেন।

সেখানকার প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বদলের জন্য বহু দেন-দরবার করেও কোনও লাভ হয়নি। তারপরই তিনি নিজের ভূখণ্ডকে পৃথক দেশ হিসাবে ঘোষণা করেন। নাম দেন প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার।

তিনি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন। দেশের জন্য পৃথক মুদ্রা চালু করেন। সেই মুদ্রার নাম দেন হাট রিভার ডলার। এক হাট রিভার ডলারের মূল্য এক অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমান।

তিনি দেশের জন্য পৃথক পতাকাও তৈরি করেন। সরকারি কাজকর্মের জন্য পৃথক সিলমোহর। তাছাড়াও পাসপোর্ট, ভিসা সবই আলাদা করে ফেলেন তিনি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বাকি দেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশও প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারকে স্বতন্ত্র দেশ মানতে নারাজ। স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তাই ১৯৭০ সালে ২১ এপ্রিল দেশটির প্রতিষ্ঠা দিবসে ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনি।

কারণ ব্রিটেনের রাণী তখন অস্ট্রেলিয়ারও রাণী ছিলেন। তবে রাণী যাননি, তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিটিই হাতিয়ার হয়ে যায় লিওনার্দের।

আসলে বিষয়টি পড়তে যতোটা সহজ, বাস্তবে কিন্তু তেমন ছিল না। প্রচুর আইনি জটিলতার মধ্যেদিয়ে তাকে যেতে হয়। এদিকে তার নামে বকেয়া সরকারি করের বোঝাও বাড়ছিল। কারণ হলো প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারকে পৃথক দেশ হিসাবে কোনও দিনই মানতে পারেনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া।

৭৫ বর্গ কিলোমিটার দেশে বাস করেন মাত্র একটি পরিবার! 2

যে কারণে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত আইনই তার উপর প্রযোজ্য ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর নাগরিকদেরও কর দিতে হয় সরকারকে। আবার লিওনার্দের নামেও সেই কর বরাদ্দ করা হতো। যে কারণে বারবারই বিচার চেয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় তাকে। তবে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় তাকে। তবে তারপরও হাল ছাড়েননি লিওনার্দ।

লিওনার্দ ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি নিজেই রাজা ছিলেন। তারপর তার ছেলে গ্রেমির মাথায় রাজ মুকুট পরিয়ে দেন তিনি। ওই বছরই সুপ্রিম কোর্ট তাকে নোটিস পাঠিয়ে বকেয়া ২৭ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কর দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। যতো দিন যাচ্ছিল আরও যেনো আইনি জটিলতায় ফেঁসে যাচ্ছিলেন লিওনার্দ।

তার মৃত্যু ঘটে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে এই সবের মধ্যে একটিই লাভ হয়েছিল প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারের। পর্যটকদের ভিড় জমতে শুরু করে স্বঘোষিত বিশ্বের ছোট এই দেশটি দেখার জন্য।

প্রতিবছর এর থেকেই মোটা অর্থ উপার্জন হতে শুরু করে লিওনার্দ’র পরিবার। এই দেশে ঢুকতে গেলে পৃথক ভিসা নিতে হততো পর্যটকদের। তবে লিওনার্দের মৃত্যুর পর থেহতে দেশের অর্থনীতি ক্রমেই ক্ষতির মুখ দেখতে শুরু করে। পর্যটকদের আনাগোনাও কমতে শুরু করে। তার উপর অতিমারির ধাক্কা অনেকটা দোসরের মতোই কাজ করে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি লিওনার্দের বংশধররা দেশের সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি এমন হয় যে, দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে করের যে বোঝা প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারের উপর চাপানো হয়, তা পরিশোধ করতে গেলে পুরো দেশটাকেই বেচে দিতে হতো।

তাছাড়া এই দেশে সেভাবে ঘুরে দেখার কিছুই নেই। একটি অফিস, ৪/৫টি বাড়ি ও বিস্তৃত চাষের জমি রয়েছে। তবে দেশটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। সে কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পর্যটকরা আসতেন এই দেশটিতে।

তবে বিশ্বের অন্য কোনও দেশ একে দেশ হিসাবে মনেই করে না। ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল হাট রিভারের জনতার পাসপোর্টকে ‘ফ্যান্টাসি পাসপোর্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার শহর পারথের ৫১৭ কিলোমিটার উত্তরে হাট নদীর তীরে অবস্থিত প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আজও ভরসা রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ওই চিঠিটুকু! আর তাই নিয়ে টিকে আছে একটি দেশ!

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের কাপড়ের মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...