রাজস্ব দিতে হবে এখন বাড়িওয়ালাকেও!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ রাজধানীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় এনবিআর কর্মকর্তা, পরিদর্শকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়িওয়ালাদের খোঁজ করছেন। বাড়িওয়ালারা বাড়ি ভাড়া থেকে আয় করে সঠিকভাবে আয়কর দিচ্ছেন কি না, তাদের নিজস্ব টিআইএন (TIN) নম্বর রয়েছে কি না, এসব খতিয়ে দেখতেই এনবিআরের এই উদ্যোগ।


Tolet

এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের নির্দেশে সব কর অঞ্চলভুক্ত এলাকায় বাড়িওয়ালাদের খোঁজ খবর নেয়ার মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিপণিবিতানগুলোতেও খোঁজ নিচ্ছে এনবিআর। কোনো বাড়িওয়ালা বা বিপণিবিতান মালিকদের টিআইএন না থাকলে তা গ্রহণের জন্য নোটিশও দেওয়া হচ্ছে।

বাড়িওয়ালা চিহ্নিত করার জন্য এনবিআরের কর্মকর্তারা দুটি উপায় অবলম্বন করছেন – একটি হলো স্বশরীরে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাওয়া, অন্যটি হলো সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসা, ডেসকো, তিতাস গ্যাস কোম্পানিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বাড়িওয়ালা শনাক্ত করা। এনবিআরের সূত্র বলেছে, এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রায় ৬৩ হাজার বাড়িওয়ালা ও দোকানদার পাওয়া গেছে যাদের টিআইএন নেই। এর মধ্যে বাড়িওয়ালার সংখ্যা অত্যাধিক। নোটিশ দেয়ার পর প্রায় ৫০ হাজার বাড়িওয়ালার ভেতর ১৯ হাজার বাড়িওয়ালা টিআইএন নাম্বার নিয়েছেন।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কর পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ দিয়েছেন অনেক বাড়িওয়ালাই। তাদের ভাষ্যমতে, শুধু টিআইএন আছে কি না, সেই তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি এত দিন ধরে টিআইএন না নেওয়ায় মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেছেন, “এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখন বাড়িওয়ালাদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। তবে হয়রানির বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। কোনো কর কর্মকর্তা বা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধেও এনবিআর অভিযোগ করে বলেছে, “বেশির ভাগ বাড়িওয়ালাই ভাড়ার টাকা নেওয়ার সময় ভাড়াটিয়াকে রসিদ দেন না। ফলে অর্থ লেনদেনের কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকায় বছর শেষে তাঁরা ভাড়া বাবদ কম আয় দেখান। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়।

কিছুদিন আগে ৩৪ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও অকার্যকর টিআইএন বাদ দিয়ে ১৭ লাখ সক্রিয় টিআইএন সচল রেখেছে এনবিআর। ২০১৭ সালের মধ্যে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৫৫ লাখে উন্নীত করতে বাড়িওয়ালাদের করের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে এনবিআর।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

Advertisements
Loading...