দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ উৎপাদন ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে জাপানে অটোমোবাইল জায়ান্ট টয়োটা কারখানায় তাদের গাড়ি তৈরির কাজ স্থগিত করেছে।

যে কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এই গাড়ি তৈরি কোম্পানির দেশীয় উৎপাদন একেবারে থমকে গেছে। ত্রুটির কারণে কোম্পানিটি যন্ত্রাংশ কেনার অর্ডারও দিতে পারছে না। -খবর বিবিসি জাপান টাইমসের।
টয়োটার এক মুখপাত্র জাপান টাইমসকে বলেছেন যে, সোমবার থেকে টয়োটা ত্রুটির কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বুধবার থেকে ১৪ কারখানার মধ্যে ১২টি কারখানায় ত্রুটি সংশোধন করে আবারও উৎপাদনে আসে।
সব কারখানায় কাজ আবার কবে থেকে শুরু হবে এই বিষয়ে কোম্পানিটি এখনও কিছুই বলেনি এবং হঠাৎ কাজ বন্ধের কারণে আনুমানিক কতোটা ক্ষতি হবে সে বিষয়েও কোনও ধারণা দেওয়া হয়নি।
টয়োটার ওই ১৪টি কারখানায় কোম্পানিটির বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গাড়ি তৈরি করা হয়।
নানা কারণে টয়োটার উৎপাদন বেশ কমে গিয়েছিল গত কয়েক বছর ধরেই। গত বছর সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় টয়োটা কোম্পানি। কাজ বন্ধ থাকায় গাড়ির উৎপাদনও ব্যাহত হয়। কোভিডের কারণেও টয়োটায় কাজ বন্ধ ছিল।
অবশ্য এ বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির উৎপাদন আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছিল। গত দুই বছরের মধ্যে এই বছরই প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধির মুখ দেখছিল এই কোম্পানিটি। উৎপাদন বাড়ানোর ছন্দে থাকার সময়ই আবার কাজ স্থগিতের ঘটনাটি ঘটলো।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org