দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রাজীব মণি দাসের রচনা এবং পরিচালনায় সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘প্রাণের স্বামী’। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন স্ত্রী কতোটা উদগ্রীব থাকেন তার স্বামীকে নিয়ে, যদি তার স্বামী তার কাছ থেকে হারিয়েও যায়, এমনি একটি হাইপারনেস সাইকোপ্যাথ স্ত্রী’র গল্প নিয়ে নির্মিত ‘প্রাণের স্বামী’ গল্পটি।

‘প্রাণের স্বামী’গল্পে দেখা যাবে- আলিয়া স্বামী ভক্ত একজন পাগল স্ত্রী। যে কিনা স্বামীর জন্য সব সময়ই অস্থির থাকেন। পৃথিবীতে এইরকম স্বামীভক্ত স্ত্রী পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। সামান্য পান থেকে চুন খসতেই যেনো পাগল হয়ে উঠে আলিয়া। স্বামীকে নিয়ে সে সবসময়্ডি হাইপারনেসে ভোগে। এমনকি, তার কোনো বান্ধবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেয় না।
একদিন আলিয়া স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। খাবারের ম্যানুতে একটু প্রবলেম হলেই বাবা-মা’র উপর চড়াও হয় আলিয়া। ব্যাগ ঘুছিয়ে সোজা চলে যেতে চায় স্বামীর বাড়ি। সামির বুঝে তার স্ত্রী তাকে অনেক অনেক ভালোবাসে। তবে ঘুমের সময় যদি আড্ডা দিতেই চায়, আবার ঘুম থেকে উঠার পরই যদি দুগ্ধ পান করাতে চায়, স্ত্রী’র এমন কান্ডকীর্তি অতিরিক্ত ভালোবাসা ভালো না লাগার কথা। অযাচিত ভালোবাসায় তিক্ত বিরক্ত সামির নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মা আসমা বেগম মেয়েকে মানসিক চিকিৎসক দেখাতে বললে বাবা ক্ষেপে যান। কারণ হলো, জামাই যদি জানতে পারে এতে হিতে বিপরীতও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, আমি মূলত একজন নাট্যকার। গল্প, উপন্যাস, নাটক লেখাই হলো আমার মূল কাজ। তবে, মাঝে-মধ্যে কোনো ভালো গল্প হলে নিজে শখের বশে নির্মাণ করি। ‘প্রাণের স্বামী’ গল্পটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে বিধায় এটি নির্মাণের লোভ সামলাতেও পারিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন স্ত্রী কতোটা উদগ্রীব থাকেন তার স্বামীকে নিয়ে, যদি তার স্বামী তার কাছ থেকে হারিয়েও যায়, এমনি একটি হাইপারনেস সাইকোপ্যাথ স্ত্রী’র গল্প নিয়ে নির্মিত ‘প্রাণের স্বামী’ গল্পটি।
এই টেলিফিল্মের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- আখম হাসান, রেজমিন সেতু, শফিক খান দিলু, তারিক স্বপন, সায়কা আহমেদ, তাবাসসুম মিথিলা প্রমুখ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org