দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেলিকম নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য কাজ করেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বাংলাদেশের ইন্টারনেট সিস্টেমের বিদ্যমান বিভিন্ন লাইসেন্সিং কাঠামো পর্যালোচনা করে পরিষেবার গুণমান নিশ্চিত ও সীমাহীন মেয়াদের জন্য ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) সাশ্রয়ী মূল্যের, বৈচিত্র্যময় এবং নিরাপদ পরিষেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে বলেছেন যে, নতুন বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা সরবরাহের মূল অংশ হিসাবেই ডেটার দাম কমাতে হবে। আমরা পরিষেবাগুলোকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং বৈচিত্র্যময় করতে চাই ও এর জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সবই করবো। ডেটা মূল্য হ্রাস করায় পরিষেবা সরবরাহের মূল চাবিকাঠি। ডেটা মূল্য অবশ্যই কমানো দরকার, কারণ এটি আমাদের পরিষেবা সরবরাহ পরিকল্পনারই অংশ।
এদিকে বিটিআরসির পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইআইজিএবি) ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর জন্য বিটিআরসির কাছে একটি প্রস্তাবনাও দিয়েছে। তারা বলেছেন যে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ইন্টারনেটের দাম আরও কমবে। তারা ব্যান্ডউইথের বিদ্যমান মূল্যের তুলনায় বিভিন্ন ¯¬্যাবে দাম কমানোর প্রস্তাবও করেছেন।
এই বিষয়ে আইআইজিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেছেন, আমরা ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে ও তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেটের আউটরিচের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়াতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইন্টারনেটের দাম কমাতে সরকারের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, আমরা সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছি। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ইন্টারনেটের দাম কমে আসবে ও ব্যবহারকারীরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
এদিকে সরকার ব্যবহারকারী ও শিল্পের সুবিধার্থে আরও বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, সরকার একটি ‘ব্যান্ডউইথ ব্যবহার নীতি’ ও ৫জি চালু করার জন্যও কাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম দামে ওয়াইফাই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই কর্মসূচির মধ্যে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org