দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ১৯৬৮ সালের কথা, তখন বিয়ে করেছিলেন তারা। আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন দু’জনেই। ৫৬ বছর পর নিজেদের বিয়ের সেই ছবি উপহার পেয়ে বাক্যহারা একবৃদ্ধ দম্পতি!

বিয়ের মূহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে এক আলোকচিত্রশিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তারা। ৫৬ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল এই দম্পতির। জীবনের বিশেষ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দিও করে রাখেন তারা। তবে অর্থাভাবে সেই ছবি নিতে পারেননি তারা। ৫৬ বছর ধরে বিয়ের স্মৃতি মনের ক্যামেরায় বন্দি করে রেখেছেন দু’জনে। ৫৬ বছর পর সেই ছবি দেখতে পেলেন তারা। এটি ছিলো তাদের বড়দিনের উপহার। তবে কী সান্তা ক্লজ কোনওভাবে এই ‘ম্যাজিক’ সম্ভব করলো?
কানাডার বাসিন্দা মার্গারেট শারমান ও ব্যারি শারমান। ১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন তারা। আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবকে নিমন্ত্রণও করেছিলেন দু’জনে। বিয়ের মূহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার জন্য এক আলোকচিত্রশিল্পীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন তারা। বিয়ের দিন সেই আলোকচিত্রশিল্পী প্রচুর ছবি তোলেন। তবে একটি ছবিও পাননি মার্গারেট ও ব্যারি। কারণ ছবিগুলো নেওয়ার মতো টাকা তাদের ছিলো না।
বর্তমানে ব্যারির বয়স ৭৮ বছর ও ৭৭ বছরে পা রেখেছেন মার্গারেট। স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর হলো, সেই সময় মার্গারেট ও ব্যারির আর্থিক পরিস্থিতি মোটেও সুখকর ছিল না। আলোকচিত্রশিল্পীর ছবি তোলার পারিশ্রমিক তারা দিতে পেরেছিলেন ঠিক। তবে ছবিগুলো প্রিন্ট করানোর জন্য যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন ছিল, সেই টাকা আর জোগাড় করতেই পারেননি মার্গারেট ও ব্যারি। কেবলমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সেই ছবিগুলো দম্পতিকে দেননি ওই আলোকচিত্রশিল্পী। এরপর কেটে যায় ৫৬টি বছর। সন্তান ও নাতি-নাতনি নিয়ে সংসার মার্গারেট ও ব্যারির। বিয়ের মূহুর্তগুলো দু’জনের স্মৃতির ক্যামেরায় বন্দি।
মার্গারেটের খুব কাছের বান্ধবী সান্দ্রা ফেরিনুক। তিনি জাদুঘরে কাজ করেন। মার্গারেটের বিয়েতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সান্দ্রা ফেরিনুক। জাদুঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি সাদা-কালো ছবি নজরে পড়ে যায় তার। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি। পাত্র-পাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাদেরই বন্ধুবান্ধব। মুখগুলোও খুবই চেনা চেনা লাগছিলো সান্দ্রার। এ তো সান্দ্রারই তরুণীবেলার ছবি! সান্দ্রার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তারই বান্ধবী মার্গারেট।
ওই ছবি যে মার্গারেটের বিয়ের তা বুঝতে আর দেরি হয় না সান্দ্রার। তাই বড়দিন উপলক্ষে ওই ছবি বান্ধবীকে উপহার দিলেন তিনি। ৫৬ বছর পর সেই ছবিই জাদুঘরে কী করে পৌঁছাল তা এখনও রহস্যই হয়ে থাকলেও এই উপহার পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি। ছবিটি দেখে বাক্যহারা হয়ে গিয়েছেন তারা। বিয়ের ছবি দেখার পর নতুন করে স্মৃতির পাতাগুলো ঝালিয়ে ফেললেন এই দম্পতি! তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org