দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সান ডে, মান ডে, টিউস্ ডে, ওয়েডনেস্ ডে নামেই তো দিনগুলোকে চিনতো সবাই। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষকাল শুরু হলেই আজকাল সবাই শুরু করেন রোজ় ডে, চকোলেট ডে, টেডি ডে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর শেষ হয় ভ্যালেন্টাইস্ ডে-তে।

চারদিকে ফুল, চকোলেট, টেডি, উপহারের যেনো ছড়াছড়ি। ‘কাপল গোলস্’-এর ট্রেন্ডে সোশ্যাল মিডিয়াতেও হইচই। এর মাঝে মনমরা হয়ে পড়ে থাকে বেচারা ‘সিঙ্গল’ মানুষগুলো। ‘এবারের ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহটাও একা কাটাতে হলো,’ এই ভেবে মন খারাপ না করে বরং সেলিব্রেট করতে পারেন! জীবনকে একা উপভোগ করার যে ইতিবাচক দিকগুলো রয়েছে সেটি একবার বুঝে গেলে দেখবেন নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হচ্ছে।
একা থাকার সুবিধাগুলো:
লক্ষ্যে স্থির থাকা
সিঙ্গলরা নিজের লক্ষ্যেই অনেক বেশি স্থির থাকতে পারেন। আসলে সঙ্গী না থাকায় তার ভালো-মন্দর দায়িত্ব নিতে বা তার জন্য ভেবে সময় নষ্টও করতে হয় না। যে কারণে নিজের চাহিদা, লক্ষ্য, ইচ্ছে খুব সহজেই পূরণ করতে পারেন। অন্যের মতামতের প্রয়োজনই হয় না।
আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা
যারা একা রয়েছেন, তারা জীবনের সব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিতে পারেন। ঠিক হোক কিংবা ভুলই হোক, সেজন্য কাওকে দোষী করার প্রয়োজন পড়ে না। যে কারণে মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। আত্মবিশ্বাসও অনেকের থেকে বেশিই থাকে।
উঁচু লক্ষ্য ও সাবলম্বীতা
সিঙ্গলরা যেহেতু নিজের জন্য অনেকটা বেশি সময় পান, তাই ইচ্ছে করলে তারা কেরিয়ার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে অনেক উঁচু লক্ষ্যে দ্রুত পৌঁাংতে পারেন। এছাড়াও নিজের জীবনের ও রোজকার কাজকর্মের দায়িত্বও নিজেকেই নিতে হয়, তাই সিঙ্গলরা খুব সহজেই সাবলম্বী হয়ে ওঠেন। এক গবেষণা বলছে, বিবাহিত মহিলাদের থেকে অবিবাহিত কিংবা সিঙ্গল মহিলারা বাইরের কাজে অনেক বেশি পারদর্শী হয়ে থাকেন।
মানসিক শান্তি ও দৃঢ়তা বেশি
সিঙ্গলদের যেহেতু নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়, তাই সিঙ্গলরা মানসিকভাবে খুব দৃঢ় হয়ে থাকেন। নিজের জীবনে অন্যের দখলদারি পছন্দ করেন না। এছাড়াও কাওকে কৈফিয়ত দেওয়ারও কোনো দরকার নেই, কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই। তাই মানসিকভাবে শান্তিও বেশিই থাকে। সিঙ্গলরা খুব গোছানো স্বভাবের হয়ে থাকেন। নিজেকে সব দায়িত্ব নিতে হয় বলে অনেক বেশি পরিণত মনের মানুষ হয়ে থাকেন এরা।
নিজেকে সময় দেওয়া
সাধারণ যারা সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাদের নিজের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় মানুষদের কথাও তখন ভাবতে হয়। তবে সিঙ্গলদের কোনো দায়িত্ব নিতে হয় না। তাই শুধু কাজের ক্ষেত্রেই নয়- সিঙ্গলরা নিজেকেও অনেক বেশি সময় দিতে পারেন। ভেবে দেখুন এমন সুযোগ ও স্বাধীনতা সবাই পায় কি না। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org