সে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ॥ শিশু বয়সেই এতিম হতে হলো মেঘকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশু বয়সেই এতিম হতে হলো সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সরোয়ার মেঘকে। কে তাকে বুকে আগলে রাখবে? কে দেবে তাকে স্নেহ আর ভালোবাসা? ছোট্ট শিশু মেঘ চোখের সামনে দেখেছে বাবা-মার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ। সে চিৎকার করে ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে। কিন্তু তার কান্না চার দেয়ালের বাইরে যায়নি। এক পর্যায়ে নিজেই কৌশল করে বাসার মোবাইল থেকে তার নানীকে ফোন করে খবরটি জানায়। তখন সকাল ৭টা। ‘নানু কারা যেন আব্বু-আম্মুকে মেরেছে। আম্মু- আব্বুর গায়ে রক্ত। ঘরের মধ্যে পড়ে আছে। কথা বলছে না। তুমি তাড়াতাড়ি আস।’ ছোট্ট নাতির আর্ত কণ্ঠের এ ফোন পেয়ে নানী নুরনাহার মির্জা দিকবিদিক দিশেহারা হয়ে পড়েন। ছুটে আসেন মেয়ের বাসায়। নুরনাহার মির্জা ঘরে ঢুকেই জামাই সাগর সরোয়ার ও মেয়ে মেহেরুন রুনীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ দেখে চিৎকার করে ওঠেন। ঘরের মেঝেতে চাপ চাপ তাজা রক্ত। তিনি মেঘকে বুকে জড়িয়ে কাছের সব স্বজনকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানান।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার-মেহেরুন রুনীর আদরের ধন মাহির সরোয়ার মেঘ। ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম ভেঙে মা-বাবার ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত লাশ দেখে আঁতকে ওঠে মেঘ। মেঘ বলেছে, রাতে দু’জন লোক তাদের বাসায় আসে। তাদের দুইজনকে একটি বনভোজনে এর আগে সে দেখেছে। আঙ্কেল বলে সম্বোধনও করেছে তাদের। তাদের দেখলে সে চিনবে বলেও জানিয়েছে সাংবাদিক, পুলিশ ও তার স্বজনদের।
হত্যাকারীরা চিরদিনের জন্য ৬ বছর বয়সী এ শিশুটিকে পিতা-মাতা ছাড়া করল। পিতার আদর আর মায়ের স্নেহ আর কখনও তার ভাগ্যে জুটবে না। এ বয়সেই এতিম হতে হল তাকে। মা-বাবার মৃত্যুর শোকে কাতর ছেলে মেঘকে ৩য় তলার আমেনা বেগমের বাসায় নিয়ে রেখেছেন স্বজনরা। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা মেঘকে ঘিরে বসে আছে। নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে সে। ভয়ে কাঁপছে।
রাতে কাউকে বাসায় দেখেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছে মেঘ। বলতে পারছে না। থেমে থেমে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে রাতের ও সকালের ঘটনা বলে মেঘ। বলে, রাতে দু’জন আঙ্কেল এসেছিল। এর আগে ওই আঙ্কেলদের পিকনিকে দেখেছিলাম। আঙ্কেলদের হাতে চাকু ছিল। পিস্তল ছিল। আমাকে বলে, তোমাকে গুলি করে মারব। আমি আঙ্গেলদের দেখে খুব ভয় পেয়েছি। এরপর আমাকে আমার ঘরে রেখে দেয় তারা। মেঘ ইন্দিরা রোডের উইলিয়াম কেরী নামে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কেজিতে পড়ছে। বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম মেঘ এখন কার আশ্রয়ে বড় হবে, কে তার লেখাপড়াসহ মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেবে? সে প্রশ্ন এখন সবার।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...