দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমরা সবাই জানি সন্তানকে দেখাশোনার দায়িত্ব মায়ের উপরেই বর্তায়। তাই এতো কিছুর মধ্যে নিজেকে ভালো রাখার উপায় খুঁজে নিতে হবে মায়েদেরকেই।

মা হওয়া যে সহজ কাজ নয়, সেটি একমাত্র মায়েরাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন। বিশেষ করে নতুন মায়েদের অনেক দায়িত্বও রয়েছে। একরত্তিদের রাত জেগে, দিনে ঘুমোনোর প্রবণতা থাকে বেশি। যে কারণে গোটা রাত মায়েদের নিদ্রাহীন সময় কাটে। মা হওয়ার শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই একটানা এই অনিয়মে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে সময়। আর তখন শারীরিক দুর্বলতা জাঁকিয়ে বসে। যার প্রভাব মনেও পড়তে পারে। সন্তানকে দেখাশোনার দায়িত্ব মা তো আর অস্বীকার করতে পারেন না। তাই এতো কিছুর মধ্যে নিজেকে ভালো রাখার উপায় খুঁজে নিতে হবে মায়েদেরকেই।
দায়িত্ব ভাগ
সন্তানের যত্নআত্তির ভার রয়েছে যতোটা মায়ের, ততোটা কিন্তু বাবারও। তাই প্রথম থেকে সন্তানের দায়িত্ব দু’জন মিলে ভাগ করে নিতে হবে। তাহলে কখনও মায়ের একার উপর চাপ পড়বে না। এক রাতে মা জাগলে, পরের রাতে একরত্তিকে সামলাবে বাবা। সকলেরই বিশ্রাম দরকার।
খাওয়াদাওয়া
নতুন মা হওয়ার পর ভালোভাবে খাবার খেতে হবে। সকাল-দুপুর-বিকাল-রাত্রি এই চারবেলা পরিমাণ মতো তাকে খেতে হবে। এই সময় বাইরের খাবার এড়িয়ে চলাটা জরুরি। বেশি করে পানি- মৌসুমি ফল-শাকসব্জিও খেতে হবে। ভাজাভুজি-ময়দা-মিষ্টি কিছুদিন এড়িয়ে চলাই ভালো।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম
প্রসবের পর ৬-৮ সপ্তাহ একজন মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। চিকিৎসকরা এই সময় পর্যাপ্ত ঘুমোনোর কথা বলে থাকেন। রাতে ঘুম না হলে দুপুরে অন্তত ঘণ্টা দু’য়েক নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুম পাড়াটা জরুরি।
নির্দিষ্ট রুটিন ফলো
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শিশুকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানোর কাজটি সেরে নিতে হবে। ধীরে ধীরে শিশুও নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। তাতে বাবা-মায়েরাও বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি গ্রহণ করতে পারবেন। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org