The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাজারে আগুন ॥ সাধারণ মানুষ দিশেহারা ॥ কোন কারণ ছাড়াই বাড়ছে ডাল তেল সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া, কোন প্রকার কারণ ছাড়া প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। মাঝে কয়েক দিনের হরতালে নিত্যপণ্যের মূল্যের ওপর একটা প্রভাব পড়েছিল। কারণ হরতালের জন্য পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাঘাত ঘটেছিল। কিন্তু এখন হরতাল বা অন্য কোন কারণ ছাড়াই প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডাল, তেল, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম।
বাজারে আগুন ॥ সাধারণ মানুষ দিশেহারা ॥ কোন কারণ ছাড়াই বাড়ছে ডাল তেল সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম 1
বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। গত সপ্তাহে হরতালসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বৃদ্ধিপাওয়া সব ধরনের পণ্যের দাম কোনভাবেই কমছে না। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর বাস্তবসম্মত কোন পদক্ষেপ বা নজরদারি না থাকায় বাজার চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। ফলে নিম্নবিত্তের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দ্রব্যমূল্য।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। সপ্তাহ খানেক আগে তেলের বাজার ১৩৭ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩-৪ টাকা বেশিতে। অন্যদিকে দাম বেড়েছে মসুর ডালের। এক সপ্তাহ আগের ৯৫ টাকা কেজি দেশী মসুর ডাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন থাকায় বিরাট বিপদে পড়েছে দেশের খেটে খাওয়া গরিব ও মধ্য আয়ের মানুষ। উচ্চবিত্তের খুব একটা সমস্যা না হলেও নিত্যপণ্যের বাজার বেশিরভাগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর বাজার, কল্যাণপুর নতুন বাজার, মিরপুর, ভাষাণটেক বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, নানা অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১৩৭ থেকে ১৪০ টাকা দরে। কিন্তু এখন সে সয়াবিন ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৬৫৫ থেকে ৬৬০ টাকা দরে। যদিও গত সপ্তাহে এর মূল্য ছিল ৬৩০ থেকে ৬৪০ টাকা। আর খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা কেজিতে। অবশ্য ক্যান্টনমেন্ট এলাকার রেশনের দোকানগুলোতে ১৩৩ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে সোয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, এর আগে টানা কয়েকদিন হরতালের কারণে পণ্যের সরবরাহ ঠিকভাবে হয়নি। ফলে হু হু করে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি বর্তমানে কেটে গেলেও পণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে পণ্য থাকলেও বিভিন্ন কারণে দাম কমানো হচ্ছে না। কল্যাণপুর নতুন বাজারে মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, যেভাবে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে তাতে করে সাধারণ মানুষ খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছে। যা বলতে গেলে অবণর্নীয়। একদিকে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে আমাদের আয় রোজগার কমে গেছে। ফলে ছেলেমেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
কাঁচামালের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আলু ২০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হয়, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, বরবটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

গতকাল ৪ মে শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। তবে কিছুটা স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। এদিকে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির বেড়ে যাওয়া দাম এ সপ্তাহে একই রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের দামও। কেজিপ্রতি ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। লাল রঙের লেয়ার মুরগি বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। তবে দেশী মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে। মাঝারি সাইজের একটি দেশী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি খাসির গোশত বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকায়, ধারি ছাগলের ৩৭০ টাকা। আবার হাড় ছাড়া গরুর গোশত ৩৫০ টাকা এবং হাড়সহ ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের দামেও কমতির কোন ছোঁয়া লাগেনি বরং কিছু মাছের দাম আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। এর মধ্যে ইলিশের দাম কমলেও বেড়েছে ছোট মাছসহ রুই মাছের দাম। বাজারে পাঙ্গাস মাছ কিনতে হচ্ছে ৯০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। রুই মাছ কিনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা দরে, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, টেংরা ২৬০ থেকে ৪০০ টাকা। আর ইলিশ মাঝারি (সাইজের) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা কেজিতে। আর প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা দরে। গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে। রূপচাঁদা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়, কাতল ১৭০-১৮০ টাকা, মাগুর মাছ ৬৫০-৭০০, কৈ মাছ ৫০০-৭০০ টাকা। হাঁস ও দেশী মুরগির ডিমের হালি কিনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকার দরে। ক্রেতাদের প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায়।

রসুনের দাম এবার কিছুটা কম। প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে, আদা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫২ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আর প্রতি কেজি ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়। আমদানি করা মসুর ডাল (তুরস্ক-কানাডা) বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। আর দেশী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবার সবচেয়ে কমদামি চাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩২ টাকা। একটু উন্নতজাতের চাল হলেই তার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকার ওপরে। নাজিরশাইল চালের দাম প্রতি কেজি ৪৬ টাকা, মিনিকেট ও লতা ৪২ টাকা ও বিআইপি চালের দাম ৪৮ টাকা করে রাখছেন খুচরা বিক্রেতারা। এদিকে পাইকারি বাজারে চিনির দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৭-৫৮ টাকা দরে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পণ্যবাজার যেভাবে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়বে। কেননা পণ্যের দাম বাড়ে কিন্তু মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বাড়ে না। উপরন্তু বিভিন্ন কারণে নিম্নবিত্তের আয়ও সীমিত হয়ে যায়। তখন আরও বিপদ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা নেই বলেই ধান কাটার মৌসুমেও চালের দাম তেমন একটা কমছে না। আবার দেখা যাচ্ছে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গিয়ে দামও পাচ্ছেন না। অথচ বাজারে সব দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। যে কারণে বাজার মনিটরিং এর কঠোর ব্যবস্থা প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুততার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...