দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আধুনিক ব্যস্ত জীবনে ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে শোবার পর অনেকেই দীর্ঘসময় জেগে থাকেন, ফলে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে ইনসমনিয়া বলা হয়। ঘুম না আসার পেছনে মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বা মোবাইল–কম্পিউটারের ব্যবহার প্রধান ভূমিকা রাখে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে রাতের ঘুম স্বাভাবিক করা সম্ভব।
ঘুম না হওয়ার কারণ
# মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা ঘুম না হওয়ার অন্যতম কারণ। দুশ্চিন্তা বা কাজের চাপ রাতে মনকে অস্থির রাখে।
# অতিরিক্ত মোবাইল বা টিভি দেখা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে এবং মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমায়, যা ঘুমের জন্য জরুরি।
# অতিরিক্ত চা, কফি বা ধূমপান স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
# অসুস্থ জীবনযাপন যেমন অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বা দিনের বেলা দীর্ঘসময় ঘুমানো রাতের ঘুম ব্যাহত করে।
করণীয় কী?
নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগ্রত হওয়া শরীরের ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখে। এতে রাতে সহজে ঘুম আসে।
ঘুমের পরিবেশ ঠিক করা
শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক ঘর ঘুমের জন্য উপযোগী। মোবাইল বা টিভির আলো এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে হালকা মৃদু আলো ব্যবহার করা যায়।
ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা
সন্ধ্যার পর থেকে চা, কফি, সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। এগুলো স্নায়ুকে উত্তেজিত করে ঘুমে বাধা দেয়।
শরীর ও মনকে শিথিল করা
ঘুমানোর আগে বই পড়া, মেডিটেশন, হালকা সঙ্গীত শোনা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমে যায়।
দিনের বেলা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম রাতে ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করা উচিত নয়।
দিনে ঘুম কমানো
দুপুরে ২০–৩০ মিনিটের বেশি ঘুম না দেওয়াই ভালো। বেশি সময়ের দুপুরের ঘুম রাতের ঘুম ব্যাহত করে।
গরম দুধ বা হারবাল চা
ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ বা ক্যাফেইন-মুক্ত হারবাল চা পান করলে শরীর শিথিল হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ
যদি দীর্ঘসময় ধরে অনিদ্রা চলতে থাকে, তবে এটি থাইরয়েড সমস্যা, ডিপ্রেশন বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রাতে ঘুম না আসা সাময়িক সমস্যা হলেও অবহেলা করলে তা স্থায়ী অনিদ্রায় পরিণত হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক অভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তি ঘুমের জন্য অপরিহার্য। তাই নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা এবং মনের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা শান্তিপূর্ণ ঘুমের প্রধান উপায়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org