দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের আবহাওয়া ঋতুভিত্তিক এবং হঠাৎ করেই পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে বর্ষাকাল বা গ্রীষ্মের শেষে হঠাৎ করে বৃষ্টি নামা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। হঠাৎ করে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে তখন কী করবেন?

অনেকেই ছাতা বা রেইনকোট ছাড়া বাইরে বেরিয়ে পড়েন, ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৃষ্টিতে ভিজে যান। বৃষ্টিতে ভিজে সাময়িকভাবে ভালো লাগলেও, শরীর ভিজে গেলে নানা ধরনের রোগ যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা, নিউমোনিয়া বা চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে কিছু সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যা আপনাকে এসব অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
প্রথমেই যেটি করতে হবে, তা হলো ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করা। ভেজা কাপড়ে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়, ফলে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বাড়ি বা কোনো আশ্রয়স্থলে পৌঁছেই যত দ্রুত সম্ভব শুকনো কাপড়ে পরিবর্তন করতে হবে। একইসঙ্গে ভেজা চুল ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে, বিশেষত মাথা যদি ঠান্ডা পানিতে ভিজে থাকে।
গরম পানি বা গরম পানীয় পান করা খুব উপকারী। বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়, তাই গরম চা, লেবু পানি বা আদা মিশ্রিত গরম পানি পান করলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয় এবং সর্দি-কাশির সম্ভাবনা কমে। চাইলে এক কাপ গরম স্যুপও খেতে পারেন, যা শরীরকে উষ্ণ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
গরম পানিতে গোসল করা অত্যন্ত কার্যকর। অনেকেই ভিজে এসে গোসল না করে শুকিয়ে নেন, যা ঠিক নয়। গরম পানিতে গোসল করলে শরীর পরিষ্কার হয়, মাংসপেশি শিথিল হয় এবং যেকোনো জীবাণু বা ভাইরাস ধুয়ে যায়। বিশেষত বৃষ্টির পানি প্রায়ই দূষিত থাকে, তাই দ্রুত শরীর পরিষ্কার করা জরুরি।
ভিজে যাওয়ার পরপরই ঘরে প্রবল ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে শরীরের ভেতর-বাহিরের তাপমাত্রার পার্থক্য বেড়ে যায়, যা ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আগে শরীর সম্পূর্ণ শুকিয়ে তারপর ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা উচিত।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেমন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল- কমলা, লেবু, পেয়ারা, টমেটো ইত্যাদি। এগুলো শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়ায়, যা সর্দি-কাশি বা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক। পাশাপাশি গরম দুধ, মধু এবং আদা শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
যদি বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় ভিজে থাকেন এবং ঠান্ডা, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা বা হাঁচি-কাশির উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় অবহেলা করলে সাধারণ সর্দি জটিল ফুসফুসজনিত রোগে রূপ নিতে পারে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভেজার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ব্যাগে একটি ছোট ছাতা বা রেইনকোট রাখা অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ভেজা কাপড় বদলে, গরম পানীয় পান করে এবং শরীর উষ্ণ রেখে সহজেই রোগ-ব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সামান্য সতর্কতাই আপনাকে রাখতে পারে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিরাপদ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org