দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশের কোটি গ্রাহকের দৈনন্দিন ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই’র সঙ্গে নতুন কৌশলগত বিনিয়োগে যুক্ত হয়েছে মোবাইল অপারেটরটি।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকের প্রাত্যহিক জীবনে বাংলালিংকের ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করা। আরও বৈচিত্র্যময় ডিজিটাল সেবা, বাসার ভেতরে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স এবং নিজেদের বিস্তৃত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম জুড়ে স্মার্ট এআই-চালিত অপটিমাইজেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাংলালিংক তাদের গ্রাহক-কেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করেছে।
গত ২৩ নভেম্বর বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সময় দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, আগামী প্রজন্মের জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সাইটগুলোকে আপগ্রেড করছে বাংলালিংক। যে কারণে, কাভারেজের মান বাড়বে, সামগ্রিক সেবা-গ্রহণের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং সামনে তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে।
এই অংশীদারিত্ব নিয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, “ডিজিটাল সেবা এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, শেখা কিংবা সৃজনশীল যেকোন কাজ করা-সব ক্ষেত্রেই এসব সেবা ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য খুবই সহজ- মাইবিএল, টফি, রাইজ এবং আমাদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বত্র ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আরও উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়া। জেডটিই এর সঙ্গে নতুন এই বিনিয়োগ গ্রাহকের ডিজিটাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করে, যা সত্যিকার অর্থে তাদের প্রয়োজনের প্রতি যত্নশীল। একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার বাংলালিংকের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন এই পদক্ষেপ। লক্ষ্য শুধু দেশকে সংযুক্ত রাখা নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য এবং অর্থবহ ডিজিটাল সেবা দিয়ে মানুষের জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করা।”
জেডটিই গ্লোবাল অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াউ হুই বলেন, “ঢাকার রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জেডটিই এবং বাংলালিংক নিজেদের মধ্যকার কৌশলগত সহায়তা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করছে। জেডটিইর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেমন: উদ্ভাবনী, সবুজ প্রযুক্তি ও এআই-ভিত্তিক সমাধান, ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগ ভিওন গ্রুপ এবং বাংলালিংককে দেশে ‘ডিজিটাল অপারেটর’ কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা।”
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org