সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ-৭

ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

কক্সবাজারে অলৌকিক কূপ ও পাথর

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে কক্সবাজারের ১৫০ বছরের অলৌকিক কূপ ও পাথর। অথচ এ কূপ ও পাথর থেকে মানত করে শত শত মানুষ বিভিন্ন রোগ এবং দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু এ কূপ ও পাথর সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই কারও। এতে করে দিনদিন কক্সবাজারের আশ্চর্য এবং ঐতিহ্যবহনকারী এ দুটি জিনিসের ঐতিহ্য যে কোন মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের জুমছড়ি হিন্দুপাড়া এলাকার পাহাড়ের ওপরে প্রায় ১৫০ বছর আগে একটি কূপ ও পাথর জমাট অবস্থায় ছিল। এর কয়েক বছর পর একটি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে কূপ ও পাথরটি অলৌকিকভাবে ১০-১২ ফুট পাহাড়ের ওপর থেকে পড়ে আশ্রয় নেয় ওই এলাকার জয় কুমার শর্মার বাড়ির পাশের একটি খালি জায়গায়। এরপর একদিন জয় কুমার শর্মার স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখায় কূপ এবং পাথরটিকে যত্নে রেখে পূজো করতে। সে থেকে পূজা করে আসছে জয় কুমার ধরের পরিবার। জয় কুমার মারা যাওয়ার পর সে কাজ অব্যাহত রেখেছেন তার পুত্র সুধনচন্দ্র শর্মা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ কূপ ও পাথরের কাজ থেকে শত শত নর-নারী উপকার পেলেও এ অলৌকিক জিনিসগুলো রক্ষায় কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসেনি কেউ। তবে ওই এলাকার জনৈক এখলাছুর রহমান কূপটির চারপাশ পাকা করে দিয়েছে। সেবায়েত সুধনচন্দ্র শর্মা জানান, আমরা নিঃস্বার্থভাবে এগুলো করে গেলেও দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে আমার একার পক্ষে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কূপ ও পাথরটিকে সুন্দরভাবে রাখার স্থান এখনও তৈরি করতে পারেননি। জুমছড়ি হিন্দুপাড়ার সমাজসেবক রাজবিহারি শর্মা রাজু জানান, দীর্ঘকালের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ খোদার কুয়া ও পাথর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রচারের অভাবে এটির অস্তিত্ব আজ বিলীনের পথে। পিএমখালী চেরাংঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, এ কূপের পানি খেয়ে এবং পাথরে নানা মানত করে আমরা অনেক রোগ-বালাই থেকে ভালো হয়েছি। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি রক্ষা করা প্রয়োজন। কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক বলরাম দাশ অনুপম জানান, কক্সবাজারে অনেক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হারিয়ে যেতে বসেছে অবহেলার কারণে।

ভাসমান দ্বীপে ভাসমান গ্রাম

পেরুর এক বিখ্যাত লেকের নাম টিটিকাকা লেক। এ লেকে দেখা মেলে অবাক করা কিছু ভাসমান গ্রাম। টিটিকাকা দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও অন্যতম গভীর লেক। এখানে সর্বমোট ৪২টি ভাসমান দ্বীপে বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। পেরুর উরোস সমপ্রদায়ের লোকজন বসবাস করে এসব গ্রামে। যুগ যুগ ধরে তারা এই লেকের ভাসমান দ্বীপে বসবাস করে আসছেন। ভাসমান এই দ্বীপগুলো টোটোরা নামক এক জাতীয় নলখাগড়া ঘাসের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। টেকসই এবং দেখতে খুবই সুন্দর। কিছু দ্বীপ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে। সেগুলো বসবাসের উপযোগী করে তার উপর তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে সবকিছু। কিছু দ্বীপ আবার মানুষেরও তৈরি। লেকের পানির গভীর থেকে টোটোরা গাছের শাখা-প্রশাখা অত্যন্ত শক্ত ও ঘনভাবে বেড়ে ওঠে এবং তা বিশাল জায়গা জুড়ে পানির উপর ভাসমান এই দ্বীপ সৃষ্টি করে। অনেকে আবার প্রচুর টোটোরা গাছ ব্যবহার করে এই দ্বীপ তৈরি করেছেন। দ্বীপের উপরিভাগ বেশ নরম হয়ে থাকে। হাঁটাচলার সময় তাই দেবে যায়। এখানে দ্বীপ অর্থাৎ গ্রামের মাঝে পুকুরের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাছাড়া প্রয়োজনে কেটে এই দ্বীপকে ভাগও করা যায়। কাটার পরে ভাগ হয়ে পৃথক দুটি দ্বীপ হয়ে তখন ভাসতে থাকে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে কারুকার্যখচিত নৌকা। এগুলোও টোটোরা গাছ দিয়েই তৈরি। এখানকার অধিবাসীরা এই গাছের শাখা-প্রশাখা দিয়েই তাদের ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে থাকেন। তারা বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজে খুবই পটু। এছাড়া খরগোশ ও হাঁস পালন করেন। টিটিকাকা লেকের গ্রামগুলো খুব সুন্দর ও পরিপাটি করে সাজানো। পেরুর এ ভাসমান দ্বীপ ও গ্রামগুলো পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

চিরুনি নিয়ে আদি কথা

চুলের পরিচর্যার জন্য চিরুনি খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণ। দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই চিরুনির আবিষ্কার নিয়ে রয়েছে বিচিত্র ধরনের ইতিহাস। ধারণা করা হয়, মিসরে সর্বপ্রথম চিরুনি আবিষ্কার করা হয়। খ্রিস্ট জন্মের অনেক আগে মিসরে চিরুনির আবিষ্কার হয়েছিল। তবে ভারতে সেই চিরুনি এসেছিল তারও কিছু পরে।
মজার ব্যাপার হল, সেই চিরুনির সঙ্গে বর্তমান চিরুনির কোন মিল নেই। উপমহাদেশে মোটামুটি ব্যবহারযোগ্য চিরুনি এসেছিল ব্রিটিশ শাসনের আগে। সেগুলো ছিল কাঠ, পশুর হাড়, মোষের শিং, হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোল ও পিতলের তৈরি। তবে এসব চিরুনি ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কারণ এগুলো কেবল রাজা-জমিদাররাই ব্যবহার করতে পারতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে কলকাতা ও ঢাকায় পশুর হাড় থেকে সামগ্রী তৈরির কারিগররা চিরুনি বানাত। কিন্তু তখনও চিরুনি শিল্প হিসেবে উঠে আসেনি। ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ রসায়নবিদ লাইন সাহেব ইংল্যান্ডে প্রথম রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে চিরুনি তৈরি করেন। সেই চিরুনি ১৯ শতকের মাঝামাঝি অবিভক্ত ভারতে আসে। তবে সে সময় জার্মানির গাটাপার্চারের চিরুনি ছিল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। ১৯ শতকের শেষের দিকে সেলুলয়েডের চিরুনি জাপানে কুটিরশিল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তা চীন ও ইউরোপের দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে তখনও ভারতীয় উপমহাদেশে চিরুনি-শিল্প গড়ে ওঠেনি। পরবর্তী সময় যশোরের ঝিনাইদহের মথুরাপুরের মন্মথবাবু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বদেশী কারখানা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯০৬ সালে জাপানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি চিরুনি তৈরির কৌশল শিখে ১৯০৯ সালে দেশে ফিরেন। এরপর ১৯১০ সালের মাঝামাঝি যশোর শহরে তিনি প্রথম চিরুনি কারখানা স্থাপন করেন। এ কারখানার সব যন্ত্রাদি জাপান থেকে এসেছিল। যশোরের জমিদার প্রমথভূষণ দেব রায়, কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র নন্দা ও বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাপ বাহাদুর মহাশয় এ কাজে তাকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। কারখানার নাম দেয়া হয়েছিল ‘যশোর কম্ব বাটন অ্যান্ড ম্যাট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।’ এখান থেকে তৈরি চিরুনি সারা বাংলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে পড়ে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...