প্রসঙ্গ গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন ঃ গান্ধী-শেখ মুজিবও বিভিন্ন সময় আত্মগোপন করেছিলেন -মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তার আত্মগোপন সম্পর্কে বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধী-শেখ মুজিবও রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় আত্মগোপন করেছিলেন। দেশের রাজনৈতিক নেতারা দেশের জন্য মামলা-হামলার শিকার হন এটি নতুন নয়। তবে সেটির মূল কারণটি জানা দরকার। কেও দেশের জন্য, আবার কেওবা কোন নেত্রীর সম্পদ রক্ষার জন্য অথবা কোন একজন ব্যক্তির জন্য। কারণ দেশে সামপ্রতিক সময় হত্যা-গুমের ঘটনা বেড়েছে কিন্তু আমাদের দেশের নেতা-নেত্রীরা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কি কখনও লাগাতার আন্দোলন-ধর্মঘট করেছেন?

এক সময় ছিল যেমন ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের ছাত্র-জনতা নিজের রক্ত দিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছুই করে গেছেন। ১৯৭১ এ দেশের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণও দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের জন্য বজ্রকণ্ঠে হুঙ্কার করেছেন- তারজন্য তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে, এখন দেশের থেকে দলবড় আর দলের থেকে নেতা বড়, আবার নেতার থেকে ব্যক্তি বড় হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনটি সঠিক তা বলা মুশকিল!

উল্লেখ্য, হরতালের সময় গাড়ি পোড়ানো ও বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকার সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক ছিল দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গান্ধী-মুজিবও আত্মগোপন করেছিলেন। কারাবন্দি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে ৯ মে তার আদাবরের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যুগে যুগে রাজনৈতিক নেতারা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি মোকাবেলায় গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন- এমন নজির অনেক রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আত্মগোপন করেছেন। সুতরাং একে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। তার দাবি, হরতালে বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুটি মামলাই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ৪১ বছরের ইতিহাসে এভাবে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রায় সবাইকে মামলা দিয়ে আসামি করার নজির নেই। মামলা দেয়ার পর আদালতে জামিনের জন্য যেতে বাধা প্রদানের ঘটনাও অতীতে ঘটেনি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এর মোকাবেলা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নিলেই বিএনপি সংলাপে বসতে রাজি বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যে কোন স্থানে আলোচনা বা সংলাপ করতে আমরা প্রস্তুত আছি। তার আগে তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি নীতিগতভাবে মেনে নেয়ার ঘোষণা দিতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন জরিপ চালালে দেখা যাবে, শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। তাই সরকার যত কৌশল করুক, কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। এ সময় তিনি রিজভীর স্ত্রী আরজুমান্দ বানু আইভীর সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।

এদিকে ৯ মে রাতে হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও সচিবালয়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতনের বাসায় যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বনানীর ডিওএইচএসে রতনের বাসায় প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। রতনের স্ত্রী নূর-ই জান্নাত রোশনী, মেয়ে লুবাবা আরিয়া জামান এবং ছেলে আইমান ইবনে জামান ও আরাফ ইবনে জামানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রতনের জামিনের বিষয়ে সর্বশেষ আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে চান। এ সময় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, শাম্মী আখতার এমপি, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements
Loading...