তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ-৭

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তথ্য প্রযুক্তির হাওয়া। তাইতো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া ভাবাই যায় না। আজ তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ-৭ এ বিশ্বের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তির খবর তুলে ধরা হলো।

আসছে গুগলের চালকবিহীন গাড়ি!

পেছনের সিটগুলোতে যাত্রী বসা। কেউ হয়তো আরামে ঘুমাচ্ছেন। গাড়ি ছুটছে হাওয়ার বেগে। ডানে-বায়ে সময়মতো অন্য গাড়িকে সাইড দিচ্ছে, বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে। দরকারে হর্ন বাজাচ্ছে। ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সঠিক স্থানে পার্কিং করছে। কিন্তু কেমন হবে যদি দেখেন এই গাড়ির আসল মানুষ, মানে ড্রাইভারই নেই! অবিশ্বাস্য মনে হবে। মনে প্রশ্ন জাগবে, তাহলে গাড়ি চালাচ্ছে কি ভূতে? আসল ঘটনা হল, ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি গুগল এমন এক সফটওয়্যার আবিষ্কার করেছে, যা দিয়ে মানব ড্রাইভারের চেয়ে বহুগুণ নিরাপদে চলবে গাড়ি। সমপ্রতি গুগল এই সফটওয়্যারের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সও সংগ্রহ করে ফেলেছে। এই লাইসেন্স প্রথমদিকে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হবে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অদৃশ্য ডাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স।

বিশ্বসেরা ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিটি পরীক্ষামূলকভাবে টয়োটা প্রায়াস মডেল ব্যবহার করেছে। ড্রাইভারবিহীন ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জন করতে গিয়ে গুগলের গাড়িকে অনেক পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ছিল বিখ্যাত লাস ভেগাস স্ট্রিপে নিরাপদে চালানো। কোন মানব চোখ এই গাড়িটিকে পথ চলার সময় তথ্য সরবরাহ করে না। এর ছাদে ক্যামেরা, সেন্সর এবং লেজার লাগানো আছে- যেগুলো সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে এবং বিশ্লেষণ করে। এমনকি চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ যদি কেও শুয়ে পড়ে তবে গাড়িটিও হঠাৎ ব্রেক করবে, তাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলবে না। গাড়িটি ইতিমধ্যে ২ লাখ ২৪ হাজার কিলোমিটার পথ চলেছে। কিন্তু একবারের জন্যও দুর্ঘটনা ঘটায়নি। একবারের জন্যও মানব ড্রাইভারটির হস্তক্ষেপ করার দরকার পড়েনি! গুগলের জন্য বিশেষ নাম্বার প্লেট সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে অন্যরা সহজে গাড়িটিকে চিনতে পারে। গাড়ির নাম্বার ০০১। গুগল বলেছে দুর্ঘটনাবিহীন গাড়িচালনার জন্য এটাই হবে ভবিষ্যতের গাড়ি।

মুনাফার আকাশ ছুঁবে অ্যাপল!

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে একটা বড় অংকের লাভের ঘোষণা দেয় অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির এ মুনাফা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯৪ ভাগ বেশি।

হঠাৎ অ্যাপলের এ ঘোষণার অন্তরালে যে সংবাদটি রয়েছে সেটি হল, অ্যাপলের শেয়ার মূল্য সাত শতাংশ বেড়ে গেছে। অর্থাৎ শেয়ার মূল্যের এ গতি চলতে থাকলে মুনাফা গিয়ে আকাশে ঠেকবে, এমনটাই আশা করছে অ্যাপল।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি ফেসবুকও তার শেয়ার ছাড়ে। এদিকে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অ্যাপলের আয় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। মাত্র এক বছর আগেও এ অংক ছিল ৬০০ কোটি ডলার। এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা গত বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৩০ ডলারে। এক বছর আগেও যা ৬.৪০ ডলার ছিল। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক পরিকল্পনাও সফল হয়েছে অ্যাপলের। এ সময়ে তারা সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি আইফোন বিক্রি করে।

আর আইপ্যাড বিক্রি করে ১ কোটিরও বেশি। প্রায় ৪০ লাখ ম্যাক কম্পিউটার বিক্রি করে রেকর্ড গড়ে প্রতিষ্ঠানটি।অ্যাপলের সিইও পিটার ওপেনহাইমার জানান, কেবল চীনেই তাদের আইফোনের বিক্রি গত বছরের তুলনায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। আর গত তিন মাসে সেখান থেকে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার আয় করে অ্যাপল।

ইউটিউবে বাংলার শিক্ষক নোয়াখালীর সাওসান

ইন্টারনেটে রয়েছে বিভিন্ন ভাষা শেখার নানা রকম আয়োজন। বিশেষ করে ইংরেজি, জার্মান কিংবা চীনা ভাষা শেখানোর ওয়েবসাইটের কমতি নেই। কিন্তু বাংলা? হ্যাঁ, বিশ্বের ৩০ কোটি মানুষের এ ভাষা শেখারও একটি ভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে।

মজার ব্যাপার হল, এ কাজটি করছে স্বয়ং বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার এক মেয়ে। তার নাম সাওসান। সে উচ্চশিক্ষা নিতে মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমায় বিদেশে। একসময় আরবি শেখার ইচ্ছা জাগে। এ ভাষা শিখতে গিয়েই তার খেয়াল পড়ে নিজের মায়ের ভাষার দিকে। ইন্টারনেটে নিষ্পলক চোখ রেখে খুঁজতে শুরু করে মাতৃভাষা। ইন্টারনেটে বাংলা শিক্ষার তেমন কোন ব্যবস্থাই চোখে পড়ল না তার। শেষমেশ নিজেই নিয়ে নিল এক মহৎ উদ্যোগ। সে ইউটিউবে চালু করে একটি ভিডিও চ্যানেল। যেখানে বাংলা ভাষার শিক্ষক সাওসান নিজেই।

সাওসান ইউটিউবের ওই চ্যানেলে বাংলা শেখানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভিন্নভাষী যারা বাংলা শিখতে আগ্রহী কিংবা বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাঙালি প্রজন্ম, যাদের কাছ থেকে বাংলা ভাষা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য এ ভিডিও চ্যানেল। সাওসানের প্রশিক্ষণের ধরনও খানিকটা ভিন্ন। ইউটিউবে প্রকাশিত তার ভিডিওর অংশবিশেষ শুনলেই খানিকটা আন্দাজ করা যেতে পারে এর ধরন।

সাওসানের এই ইউটিউব চ্যানেল এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে। গত এক বছর ধরে সে নিয়মিত বাংলা শিক্ষার বিভিন্ন পর্ব চ্যানেলে প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত পর্বের সংখ্যা ৩৪।এসব ভিডিও প্রদর্শিত হয়েছে প্রায় দেড় লাখবার। এ ছাড়া তার চ্যানেলের নিয়মিত সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩২০।সহজে বাংলা শেখাতে সাওসান নিত্যদিনের বিভিন্ন বিষয়াদি বেছে নেয়। কেনাকাটা কিংবা রান্নার সময় কী ধরনের বাংলা ব্যবহার করা হয় কিংবা পরিবারের বিভিন্ন জনের মধ্যকার সম্পর্কের বাংলা উচ্চারণ ইত্যাদি।

সাওসানের ভিডিও চ্যানেলে মন্তব্য করেন বিভিন্ন দেশের মানুষ। ওই মন্তব্যগুলোয় রয়েছে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ, উচ্চারণের কথা। তবে সাওসানের প্রশংসাই থাকে বেশি, সঙ্গে নানা রকম জিজ্ঞাসা। এই যেমন পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দা আরমান লিখেছেন, ‘কেমন আছো আপু?’ এটুকু বাংলা তিনি শিখেছেন সাওসানের ভিডিও দেখে এবং ভবিষ্যতে আরও বাংলা শেখার আগ্রহ রয়েছে তার। সাওসান আবার ধৈর্য ধরে এসব মন্তব্যের উত্তরও প্রদান করে। বাংলা শেখার প্রতি মানুষের এত আগ্রহ দেখে সাওসান এবার তৈরি করেছে একটি অ্যাডভান্স কোর্স। শুরুর পর্বের বিষয় ছিল নববর্ষ। সম্প্রতি এ ভিডিওটি আপলোড করে সে। এতে কিছু বাংলা বাক্য ইংরেজিতে ভাষান্তরও করে।

পাঠকদের আগ্রহ মেটাতে সাওসানের ভিডিও চ্যানেলের ঠিকানাটি দেয়া হল :youtube.com/84Enchantress এই চ্যানেলটি ইউটিউবে আরও সহজে পেতে সার্চইঞ্জিন বক্সে লার্ন বাংলা টাইপ করুন।

আরও একটি মজার ব্যাপার হল, সাওসানের ভিডিও চ্যানেলটি চলতি বছর ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতার ‘বেস্ট ভিডিও চ্যানেল’ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছে।
এ বিভাগে বাংলা ভাষার প্রতিনিধি সে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে আরও ১০টি ভাষার বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও চ্যানেল। তাই সাওসান আমাদের দেশের জন্য গর্ব।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...