দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরেও উপত্যকাটিতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে গতকাল (২ আগস্ট) ভোর থেকে চালানো এইসব হামলায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী এবং ৫ বছরের শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও খান ইউনিসের আল-কারারায় অপর একটি ফ্ল্যাটে হামলায় একই পরিবারের আরও ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেইর আল-বালাহে দম্পতিসহ ২ মোটরসাইকেল আরোহী, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ১ জন, আল-মাওয়াসিতে ১ জন, রিমাল পাড়ায় ড্রোন হামলায় ২ জন ও গাজা শহরে একটি গাড়িতে হামলায় আরও ৪ জন নিহত হন।
শনিবার দেইর আল-বালাহের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ গুদামে হামলা চালিয়ে দু’টি স্থাপনা ধ্বংস ও দু’টি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইসরায়েল।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেছেন যে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস করে ওষুধ এবং অসুস্থতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার করা হচ্ছে। আল জাজিরার সংবাদদাতা মোয়াজ আল-কাহলৌত জানিয়েছেন, সরেজমিনে একটি বিশাল গর্ত দেখা গেছে ও এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
বিগত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক ভবন এবং জনসমাগমে হামলা চালায় ইসরায়েল। এইসব হামলায় শনিবার অন্তত ৮ জন ও শুক্রবার বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ৩১ জুলাই ওয়াশিংটনের ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত বোর্ড অব পিস এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল সরকার এখনও কোনো রকম আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তথ্যসূত্র: জাজিরা
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org