The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চিত্র-বিচিত্র: গোয়াল ঘরের মোষ এবার বাড়িতে!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ গোয়াল ঘরে যে মোষ রাতে-দিনে ঘুমায় সে মোষ যদি মানুষের শোবার ঘরে উপস্থিত হয় তাহলে কেমন লাগবে? এমনই এক কাহিনী রয়েছে আজকের এ লেখায়!

wolf-cub-in-house_2227784k

এমনই এক মোষ ওয়াইল্ডথিং। চুপচাপ ঘুরে বেড়ায় বাড়িময়। হাজির হয় এমনকি শোবার ঘরেও। ছোট্ট টেবিলে মুখ লাগিয়ে ছবির মানুষদের সঙ্গে যেন মেলাতে চায় বাস্তবের বন্ধুদের। ঘুরে বেড়ায় বাড়ির অন্যদের পেছন পেছন। দুই হাজার ৪০০ পাউন্ডের বিশালকায় মোষটির প্রিয় খেলা ল্যাসোর ফাঁসে মাথা ঢোকানো। গরু-মোষ পালতে পালতে বুড়ো হয়ে গেছেন আরসি ব্রিজেস।

আরসি ব্রিজেস সঙ্গে গৃহপালিত এই প্রাণীগুলোর সঙ্গে তার সখ্য এত বেশি যে লোকে মজা করে ডাকে ‘ফিসফিস মোষ-মানব’। যৌবনে বেছে নিয়েছিলেন টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী পেশা গরু-মোষ পালন করে বিক্রি করা। অবসরে পোষ মানাতেন বুনো ঘোড়া। বছর দশেক আগে মোষের শিঙের গুঁতোয় হারিয়েছেন এক চোখ। এত বড় ক্ষতি হওয়ার পর রাতদিন ঝগড়া লেগে থাকত বউ শ্যারনের সঙ্গে। বউয়ের যুক্তির কাছে হেরে গিয়ে এবং সংসারে শান্তি ফেরানোর জন্য বাধ্য হয়েই বিক্রি করে দিলেন গরুর শেষ পালটিও।

dnews ParkCityZoo

আরসি ব্রিজেস যৌবনের স্মৃতি হিসেবে হাতে-পায়ে ধরে অনুমতি আদায় করেন- একটি মোষ পালবেন। সেই পুরুষ মোষটিই হলো ওয়াইল্ডথিং। শ্যারন পেশাদার ফটোগ্রাফার। অবসরে সেলাই মেশিন নিয়ে বসে পড়েন ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর টুপি বানাতে। তাদের সংসারে দুই ছেলেমেয়ে ছাড়াও অনেক দিনের বাসিন্দা দুটি অতিকায় মোষ। স্বামীর সঙ্গে একসময় ঝগড়া করলেও মোষ দুটির প্রতি মায়া পড়ে গেছে শ্যারনেরও- ওয়াইল্ডথিং আর বুলেটকে আমিও ভালোবাসি। আর কেও বুঝতে না পারলেও আমি অন্তত জানি, এগুলোর একটাও যদি না থাকে, নিঃসঙ্গতায় একেবারে শেষ হয়ে যাবে আরসি ব্রিজেস।

মোষ এমনিতে শান্ত হলেও খুব বিপজ্জনক প্রাণী। ওদের বাঁকানো-সুচালো শিং দুটি প্রায় দুই ফুট লম্বা। গুঁতো দিলে আর রক্ষে নেই। টানা দৌড়তে পারে ৪০ মাইলেরও বেশি। এগুলো খ্যাপাটে জীব, হাড়ে হাড়ে জানেন ব্রিজেস। তারপরও ভালবাসা কমেনি এতটুকু, এদের স্বভাব-চরিত্র ভালোই জানা আছে। কিন্তু লোকে যেমনটা মনে করে, আমার মনে হয়, ওরা ততটা বিপজ্জনক নয়।

বাড়ির নানা কাজে সাহায্য করে ওয়াইল্ডথিং। বাড়ি বয়ে নিয়ে আসে ভারি কিছু। শ্যারনের টুপি বানানোর জন্য জোগায় লোম। খেলা করে ছেলেমেয়ে উইল আর টেলরের সঙ্গে। খেলতে খেলতেই মোষটিকে নিয়ে আলাদা আলাদা বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ভাইবোন। উইল বালুতে মোষের গাড়ি টেনে গড়েছে বিশ্বরেকর্ড। টেলর কুকুর নয়, মোষ দিয়ে বরফের ওপর স্লেজ গাড়ি চালানোর বিশ্বরেকর্ডের মালিক। এমন বন্ধুসুলভ আচরণ দেখে মোষ ওয়াইল্ডথিং যেনো তার জাত ভাই-বোনদের কথায় ভুলে গেছেন। একটি সাধারণ জন্তু মোষ একটি পরিবারের এতো কাছের হতে পারে এমন কি কখনও শোনা গেছে। তথ্যসূত্র দৈনিক যুগান্তর

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...