দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান হলিউড তারকা টম ক্রুজকে বিয়ের সময় অনেকেই সতর্ক করেন যে, বড় তারকার ছায়ায় ঢাকা পড়ে শেষ হয়ে যেতে পারে তার অভিনয়জীবন।

তবে প্রেমে অন্ধ নিকোল কিডম্যান সেসব সতর্কবার্তাকে মোটেও পাত্তাই দেননি। ভোগ সাময়িকীর ব্রিটিশ সংস্করণের সেপ্টেম্বর সংখ্যার জন্য দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ফেলে আসা জীবন ও বিয়ে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ৫৯ বছর বয়সী এই অস্কারজয়ী অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান।
১৯৯০ সালে ডেজ অব থান্ডার সিনেমার সেটে টম ক্রুজের সঙ্গে পরিচয় এবং প্রেম হয় কিডম্যানের। ওই বছর ক্রিসমাসের আগের দিন বিয়ে করেন তারা। টম ক্রুজের সঙ্গে কাটানো এক দশকের বৈবাহিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে কিডম্যান বলেন, ‘হুট করেই দেখলাম যে, ২২–২৩ বছর বয়সে আমি এক মহাতারকার স্ত্রী। তবে পুরো বিষয়টি তখন আমার কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিকই লেগেছিল। আমরা একে অপরের গভীর প্রেমে পড়ে যায়। তখন অনেকেই বলেছিল যে, এটা আমার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে আমার সাফ কথা ছিল, আমার কিচ্ছুই যায় আসে না, আমি ভালোবাসার মানুষকেই বিয়ে করতে চাই।’
বিয়ের পর নানা মাধ্যমে তাকে যখন শুধুই ‘টম ক্রুজের স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু হয়ে যায়, তখন বন্ধুরাও পুরোনো সতর্কবার্তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
কিডম্যান বলেন, ‘বন্ধুরা বলতো, দেখেছো, আমরা তো আগেই বলেছিলাম! তখনই আমার মনে হতো, তাতে কী? আমি যাকে ভালোবাসি তাকে কী বিয়ে করবো না? ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতেও আমি রাজি ছিলাম।’
২০০১ সালে ক্রুজ এবং কিডম্যানের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের ধাক্কা সামলে ২০০৩ সালে দ্য আওয়ার্স সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতে নেন। এরপর ২০০৬ সালে সংগীতশিল্পী কিথ আরবানকে বিয়ে করেন কিডম্যান। দীর্ঘ ১৯ বছর সংসার করার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে বিচ্ছেদের আবেদন করেন তারা।
দ্বিতীয় বিচ্ছেদ সম্পর্কে নিকোল কিডম্যান অকপটে জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত এই পরিবর্তন তাকে চরমভাবে অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের মুখে ফেলে দিয়েছিল। নিকোল কিডম্যানের ভাষায়, ‘জীবনের এই বাঁকে এসে একসময় খুব আতঙ্কিত এবং দুর্বল বোধ করছিলাম। তখন মনে হয়েছিলো যে, নিজেকে গুটিয়ে না রেখে কেবল বুকভরা আশা নিয়েই আমাকে সামনের দিকে আগাতে হবে।’
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org