পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় ॥ ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ দেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের বহু আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

BDR Killing jpg

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৫৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলার বিচারে গঠিত বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আজ ৫ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। খবর বাংলাদেশ নিউজ২৪

জানা গেছে, পিন্টু ও তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন; অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই ২ জনসহ ৮৫০ জন আসামির মধ্যে ১৫৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া এঁদের প্রত্যেককে অবৈধভাবে অস্ত্র লুণ্ঠনের দায়ে আদালত আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

এ মামলায় আদালত ২০৭ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। একইসঙ্গে তাঁদেরকে আরেকটি অভিযোগে আরও তিন বছরের সাজা দিয়েছেন। এ নিয়ে তাঁদের মোট সাজার পরিমাণ ১৩ বছর। ৫৪ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলা হতে খালাস পেয়েছেন ২৭১ জন। রায় ঘোষণা উপলক্ষে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সকাল ১০টায় বিচারকার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আদালতের কার্যক্রম দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর আদালতের কার্যক্রম শুরু করায় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান শুরুতেই দুঃখপ্রকাশ করেন।

BDR

রায় ঘোষণা উপলক্ষে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল ১০টায় বিচারকার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আদালতে যান। সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। বিদ্রোহের মামলার আসামি ছয় হাজার ৪৬ জন। হত্যা মামলার আসামি ৮৫০ জন। বিস্ফোরক দ্রব্য মামলার আসামি ৭৮৭ জন।

কিভাবে লাশ উদ্ধার হয় সেদিন

হাসপাতালের হিমঘর থেকে ৯টি, গণকবর থেকে ৪৮টি, ডিজির বাংলো থেকে দুটি ও অন্যান্য জায়গা থেকে বাকি লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ৭৪ জনের মধ্যে সেনা কর্মকর্তা ছিলেন ৫৭ জন ও বিডিআর সদস্য ছিলেন ১০ জন। দরবার হল ও আশপাশে হত্যা করা হয় ৪৫ জনকে।

এ ঘটনায় দুই হাজার ৪১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করা হয়েছিল। এর মধ্যে এক হাজার ৮৪৫টি রাইফেল, ৫২৮টি সাব মেশিন গান, ২৩টি পিস্তল ও ১৮টি এলএমজি।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ৮৫০ বিডিআর জওয়ান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।

Advertisements
Loading...