দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এখন শুধু বড় এআই মডেল তৈরি করলেই হচ্ছে না- সেগুলোকে দ্রুত উত্তর দেওয়ানো, বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর অনুরোধ একসঙ্গে সামলানো এবং বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে কাজ করানোও বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রতিযোগিতায় Nvidia-র পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে Cerebras Systems। ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন CS-4 AI কম্পিউটিং সিস্টেম উন্মোচন করেছে, যার লক্ষ্য মূলত এআই মডেলের inference কিংবা ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরির কাজকে দ্রুত করা।
Cerebras-এর প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত GPU-নির্ভর পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অত্যন্ত বড় আকারের wafer-scale processor ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। CS-4 সিস্টেমে তিনটি WSE-3 Turbo chip pluggable module হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো Nexus server architecture-এর সঙ্গে কাজ করে। কোম্পানির দাবি, নতুন নকশায় আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম component ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে AI data center-এ সিস্টেম স্থাপন অপেক্ষাকৃত দ্রুত করা সম্ভব হবে।
এআই মডেলের inference কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে বিষয়টি সহজ। আপনি কোনো এআই chatbot-কে প্রশ্ন করলেন এবং উত্তর পেতে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করলেন- এই উত্তর তৈরির পুরো প্রক্রিয়াই inference-এর অংশ। কোটি কোটি মানুষ একই সময়ে এআই ব্যবহার করলে data center-কে বিপুল পরিমাণ computation করতে হয়। ফলে এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে inference-এর খরচ ও গতি এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অন্যতম বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।
Cerebras-এর নতুন সিস্টেমে উন্নত networking components-ও রয়েছে, যাতে বিভিন্ন processing unit-এর মধ্যে data transfer আরও দ্রুত করা যায়। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক AI computing-এ শুধু processor কত দ্রুত হিসাব করতে পারে তা নয়, processor ও memory-এর মধ্যে তথ্য কত দ্রুত চলাচল করতে পারে সেটিও বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালে পরবর্তী প্রজন্মের chip আনার পরিকল্পনা করছে। Cerebras-এর লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ৬০০ megawatts computing power সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ performance চারগুণ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে throughput প্রায় ২০ গুণ বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যও জানিয়েছে।
এই প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকও। এআই-এর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে data center নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, cooling system এবং advanced semiconductor-এর প্রয়োজন দ্রুত বাড়ছে। একই সময় এআই কোম্পানিগুলো চায় কম সময়ে বেশি computation করতে।
তবে Cerebras-এর দাবি করা performance-এর সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারিক ফলাফল কতটা মিলবে, তা সময়ই বলবে। AI accelerator বাজারে Nvidia-র শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং অন্যান্য chip নির্মাতারাও দ্রুত নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে।
তারপরও CS-4-এর আবির্ভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে- এআই যুগে ভবিষ্যতের কম্পিউটার হয়তো শুধু ছোট ছোট শক্তিশালী processor-এর সমষ্টি হবে না; বরং বিশাল আকারের integrated computing architecture-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অর্থাৎ এআই-এর ভবিষ্যৎ লড়াই এখন শুধু কে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মডেল বানাবে তা নিয়ে নয়। কে সেই মডেলকে সবচেয়ে দ্রুত, কম খরচে এবং বিশাল পরিসরে চালাতে পারবে- সেই প্রতিযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org