দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইতালির রোমে কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে হোটেলের কক্ষ নোংরা এবং বিশৃঙ্খল অবস্থায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার নগর বাউল জেমস এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় ওই হোটেল রুম পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে বলে জানান হোটেল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট রোমের একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে জেমস এবং তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেন। চেক-আউটের পর কক্ষটির কিছু ছবি ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায় যে, হোটেল ম্যানেজমেন্ট আয়োজক প্রতিনিধি মোয়াজকে পাঠানো বার্তায় কক্ষটির অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ছবিতে মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ বিভিন্ন আবর্জনা, ডাইনিং টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিন ব্যাগ এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট দেখা যায়।
এ ছাড়াও রান্নাঘরের সিঙ্কে নোংরা থালা-বাসনের ওপর কাঁচা ডিম পড়ে থাকতেও দেখা যায়। কক্ষের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়।
হোটেল ম্যানেজমেন্টের বার্তায় বলা হয় যে, ‘শুভ সকাল মোয়াজ, এগুলো সেই অতিথিদের অ্যাপার্টমেন্ট, যারা আজ সকালে সুবিধাটি ছেড়ে গেছেন…. আমরা কোনো মন্তব্য করবো না, তবে আপনার দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকবো।’
বার্তায় আরও বলা হয় যে, ভবিষ্যতে ওই হোটেলের সুবিধা ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্য চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার এই অর্থ পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট আয়োজক কিংবা অতিথিদের সেখানে কক্ষ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যাও হতে পারে।
রোমের ওই কনসার্টকে ঘিরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জেমসের ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কিংবা এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং স্ক্রিনশটের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলো সামনে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনও জেমস, তার ম্যানেজার কিংবা সফরসঙ্গীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org