দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের পরিচিত সবজিগুলোর মধ্যে বরবটি অন্যতম। ভাজি, তরকারি, ভর্তা কিংবা বিভিন্ন মিশ্র সবজির সঙ্গে বরবটি খাওয়া হয়।

সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তাই পরিমিত পরিমাণে বরবটি সুষম খাদ্যতালিকার একটি ভালো অংশও হতে পারে।
বরবটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে পানি এবং কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি কিছু প্রোটিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে রান্না করা লবণবিহীন বরবটির ১০০ গ্রামে প্রায় ৪৭ ক্যালরি, ২.৫৩ গ্রাম প্রোটিন, ৯.১৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, প্রায় ৪৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৯৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ৪২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম ও ২৯০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়।
বরবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর কম ক্যালরির প্রকৃতি। যারা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের সবজি রাখা উপকারী। বরবটি তুলনামূলক কম ক্যালরিতে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে পারে। তবে কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা হলে সবজিটির মোট ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
বরবটিতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। পটাশিয়াম শরীরের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পেশি এবং স্নায়ুর কাজসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পটাশিয়ামযুক্ত খাবারের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হতে পারে।
বরবটিতে আয়রণও রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। তবে শুধু বরবটি খেলেই আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে- এমন ধারণা ঠিক নয়। আয়রনের প্রয়োজন পূরণ করতে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, শাকসবজি এবং অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা দরকার।
বরবটির মতো সবজি খাদ্যতালিকায় রাখার আরেকটি সুবিধা হলো এতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। একটি বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় নানা রঙের সবজি রাখলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ যৌগ পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
বরবটি রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার। অতিরিক্ত সিদ্ধ করলে কিছু পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান রান্নার পানির সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তাই অল্প পানিতে কিংবা স্বল্প সময় রান্না করা ভালো। তবে কাঁচা বরবটি না খেয়ে ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।
অনেকেই মনে করেন কোনো একটি সবজি খেলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো রোগ ভালো হয়ে যাবে। বাস্তবে কোনো একক খাবারকে রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরবটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে, তবে রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
বরবটি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অন্যান্য সবজি, মাছ, ডাল, ডিম কিংবা স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের সঙ্গে মিলিয়ে সুষম খাবার তৈরি করা। অতিরিক্ত তেল, লবণ এবং ভাজাপোড়া কমিয়ে বরবটি রান্না করলে খাবারটি আরও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
তাই বরবটি শুধু সুস্বাদু একটি দেশীয় সবজি নয়; এতে প্রোটিন, আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। নিয়মিত বৈচিত্র্যময় সবজি খাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে বরবটিকে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতেই পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
istanbul escort