The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চলছে এক ধ্বংসযজ্ঞ ॥ পোশাকশিল্প রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ পোশাল শিল্পে নেমে এসেছে এক অশনি সংকেত। এই শিল্প রক্ষায় দেশের সকল রাজনৈতিক দলসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

Asulia

আশুলিয়ায় আবারও শ্রমিক বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই এলাকার বহু পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন ঘটছে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা।

# শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ২ জন নিহত বহু আহত

# অর্ধশত কারখানায় ছুটি ঘোষণা

# নেপথ্যে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র

# লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকা

গতকাল মঙ্গলবার সকালে পিস রেট বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে শ্রমিকরা কোনাবাড়ীতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা জড়ো হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার বিকালে কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় জিএমএক্স কারখানার শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমে হামলা করে কারখানা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে শ্রমিকরার পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় সংঘর্ষ লাগলে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বাদশা মিয়া ও রুমা আক্তার। এছাড়া নাসিমা নামে অপর এক নারী শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, পলাশবাড়ী, জিরাব এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে পোশাক শ্রমিকরা। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে নাশকতার আশঙ্কায় কারখানাগুলোতে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এঘটনায় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের উপর চড়াও হলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায়-দফায় চলা সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্প মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তার বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ শ্রেণী এদেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এদিকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মালিকপক্ষ।

সামপ্রতিক সময়ে পোশাক শিল্পের অচলাবস্থার কারণে বিদেশী বায়াররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। সঠিক কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি ও লাগাতার শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এই পোশাক শিল্পে নেমে এসেছে এক অমানিষা। দেশের পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে মালিক, শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...