তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ-৯ (২৬-৫-১২)

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তথ্য প্রযুক্তির হাওয়া। তাইতো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া ভাবাই যায় না। আজ তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ-৯ এ বিশ্বের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তির খবর তুলে ধরা হলো।

আইফোন এবার নেশা শনাক্ত করবে!

একজন মানুষ নেশা করলেও অনেক সময় বোঝা যায় না সে কি পরিমাণ নেশা করেছে। আর এ নেশা শনাক্তকরণের ব্যাপারে গবেষকদেরও ছিল অনেক আগ্রহ। সমপ্রতি নেশা শনাক্তকরণের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করতে হবে অ্যাপলের আইফোন এবং আইপড টাচে। এ অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে একজন মানুষ কতটুকু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আছেন তা সহজেই জানা যাবে। নতুন এ অ্যাপ্লিকেশনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ব্রিদালআইজ’ (ইৎবধঃযধষঊুবং)। এটি মূলত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে থাকে।
নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করার পর এ অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করে আইফোনের ক্যামেরা চোখের মণির সামনে ধরতে হবে। অ্যাপ্লিকেশনটি চোখের মণি স্ক্যান করবে এবং চোখের হরাইজনটাল গেজ নিসট্যাগমাস (এইচজিএন) বিশ্লেষণ করবে।

তারপর সহজেই নিউমেরিক্যাল বিএসি অর্থাৎ ব্লাড অ্যালকোহল কন্টেন্ট ফলাফল সরবরাহ করবে। অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের মতে, নেশা শনাক্তকরণে এটি থেকে সঠিক এবং ভালো ফলাফলই পাওয়া যাবে। শুধু শতকরা ০.০২ ভাগ এদিক-সেদিক হতে পারে।

অ্যাপ্লিকেশনটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ক্যালকুলেশন বা হিসাব করার জন্য এতে কোন প্রকার ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না। অ্যাপ্লিকেশনটি নিজেই বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং ব্লাড অ্যালকোহল কন্টেন্ট (বিএসি) ফলাফল দিতে পারবে।

ডেভেলপাররা মনে করছেন, নেশা শনাক্তকরণে তাদের এ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে বেশ ভালোই সাড়া পাওয়া যাবে এবং জনগণও একে পছন্দ করবে।

বন্ধ করলেই অদৃশ্য হয়ে যাবে টিভি!

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষের চাহিদা মতো খুব শিগগিরই বাজারে আসছে এমন এক টেলিভিশন, যা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যাবে! ইলেক্ট্রনিক পর্দার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ‘টুলেড’র সাহায্যে এমন টেলিভিশন তৈরি সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ প্রযুক্তি এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আর বর্তমান কৌশল ব্যবহার করে অমন পাতলা প্যানেল তৈরি প্রায় অসম্ভব। টেলিভিশন নির্মাতা কোম্পানি খড়ববি ২০১১ সালের আইএফ কনসেপ্ট ডিজাইন প্রতিযোগিতায় টুলেড প্রযুক্তির একটি স্ক্রিন প্রদর্শন করেছিল। প্রযুক্তিবিদ মাইকেল ফ্রাইয়েবির ডিজাইন করা ওই স্ক্রিনটি প্রতিযোগিতায় সেরা উদ্ভাবনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল। ফ্রাইয়েবি এ ব্যাপারে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে বলেছেন, ‘খড়ববি ইনিভিসিও প্রচলিত এলসিডি এবং সর্বাধুনিক টুলেড প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে নয়া উদ্ভাবন এনেছে। এ পর্দা অস্বচ্ছ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে পারে। এর ছবির মানও অনেক উন্নত।’ খুব শিগগিরই ড্রইংরুমে এ ধরনের টেলিভিশন শোভা পাবে বলে আশা করা যায়। কারণ খড়ববি কোম্পানি এ ধরনের প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন নয়। তারা ১৯৯৮ সালেই ইন্টারনেট সংযোগে চলে এমন টেলিভিশন উদ্ভাবন করে। তখন পর্যন্ত আইটিউনস বা ইউটিউবের কোন অস্তিত্ব ছিল না।

বায়োস্টারের এক্সপ্রেস কার্ড

বিজনেসলিংক কম্পিউটারস প্রযুক্তি বাজারে এনেছে তাইওয়ানের বায়োস্টার জিফোর্স জিটি ৪৪০ জিপিইউ পিসিআই এবং জিফোর্স জিটি ৫২০ জিপিইউ পিসিআই এক্সপ্রেস কার্ড। জিফোর্স জিটি ৪৪০ হচ্ছে ৪ জিবি ডিডিআর-৩ সাপোর্টেড কার্ড। ১২৮ বিট সাপোর্টেড এ কার্ডটি ১০৬৬ মেগাহার্জ মেমোরি ক্লক, ৮১০ মেগাহার্জ ইঞ্জিন ক্লক, ডুয়েল লিংক ডিভিআই, ডিসাব আউটপুট, এইচডি সিপি, নেটিভ এইচডি এমআই ও পিউর হাইডেফিনেশন ডিসপ্লে, এনভিডিয়া ফিসিক্স ও কুডা টেকনোলজি সংবলিত গেমিং পিসিআই এক্সপ্রেস কার্ডটি সম্পূর্ণ ডিরেক্ট এক্স ১১.০ ও ওপেনজিএল ৪.০ সাপোর্ট করে থাকে। অপর দিকে জিফোর্স জিটি ৫২০ কার্ডটি ২ জিবি ডিডিআর-৩ সাপোর্টেড। ৬৪ বিট সাপোর্টেড এ কার্ডটি ১০৬৬ মেগাহার্জ মেমোরি ক্লক, ৮১০ মেগাহার্জ ইঞ্জিন ক্লক, ডুয়েল লিংক ডিভিআই, ডিসাব আউটপুট, এইচডি সিপি, নেটিভ এইচডি এমআই ও পিউর হাইডেফিনেশন ডিসপ্লে, এনভিডিয়া ফিসিক্স ও কুডা টেকনোলজি সংবলিত গেমিং পিসিআই এক্সপ্রেস কার্ডটি সম্পূর্ণ ডিরেক্ট এক্স ১১.০ ও ওপেনজিএল ৪.০ সাপোর্ট করে।

বাংলাদেশে অ্যাপলের বিক্রি বাড়ছে !

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যতগুলো আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে প্রথম সারির তালিকায় রয়েছে অ্যাপলের নাম; কিন্তু আমাদের দেশে বৈধভাবে অ্যাপল ক্রয়-বিক্রয় হয় কম। দেশে অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। ২০১১ সালে অ্যাপলের শুধু ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ বিক্রি হয় প্রায় ২০ কোটি টাকার। অ্যাপলের পণ্য বিক্রয়কারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর দেশে অ্যাপলের বিক্রি বাড়ছে ২৫ শতাংশ। তাদের মতে, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও দুর্দান্ত কার্যক্ষমতা অ্যাপল পণ্যের চাহিদা বাড়িয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় এখনও অ্যাপল উচ্চবিত্ত ও পেশাজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দেশে বর্তমানে অ্যাপলের চার ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার, আইফোন, আইপ্যাড ও আইপড। আইফোন ও আইপ্যাড বিক্রি হচ্ছে অ্যাপলের অনুমোদন ছাড়াই। অন্য পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মাসে অ্যাপল অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ২০০ ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ল্যাপটপই বিক্রি হয় প্রায় ১৫০টি।

১৯৮৮ সাল থেকে দেশে অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যালোহা আইশপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, ২০০৭ সালের পর থেকে দেশে অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। মূলত বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাপলের পণ্য কিনছেন। গ্রাফিকস ও সাউন্ড নিয়ে কাজ করে এমন পেশাজীবীর সিংহভাগই অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করেন। এর বাইরে সম্প্র্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে কিনছেন অ্যাপল। বাংলাদেশে সরাসরি উপস্থিতি নেই অ্যাপলের। রিসেলারের মাধ্যমে এ দেশে অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়। বর্তমানে মোট চারটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের অনুমোদিত রিসেলার। এগুলো হল- অ্যালোহা আইশপ, কম্পিউটার সোর্স মেশিন, স্যাটকম কম্পিউটার্স লিমিটেড ও আই সেন্টার। দেশে অ্যাপলের একমাত্র প্রিমিয়াম রিসেলার (এপিআর) প্রতিষ্ঠান এক্সিকিউটিভ মেশিনস।

Advertisements
Loading...