আবারও পদ্মা সেতু নিয়ে ধুম্রজাল ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ৮০৪ কোটি টাকা?

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ পদ্মা সেতু নিয়ে আবারও নতুন ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে। পদ্মা সেতু নিয়ে বর্তমান সরকার এমনিতেই নানা ধরণের প্রতিকূলতা কাটাচ্ছে। এবার নতুন করে এই সেতুর প্রকৃত বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা সেতুর বরাদ্দ নাকি মাত্র ৮০৪ কোটি টাকা!

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮০৪ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরের এডিপিতে পদ্মা সেতুর জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা থাকলেও খোদ পরিকল্পনা বিভাগের কাগজে-কলমে মাত্র ৮০৪ কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে সরকার। বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল বারী বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম হয়তো ভুলবশত ওই পরিমাণ টাকার কথা বলে ফেলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতু করার বিষয়ে সরকারের একান্ত আগ্রহ রয়েছে। যে করেই হোক, এ সেতু করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ সেতু প্রকল্পে এডিপিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেন তিনি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের নতুন এডিপিতে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণ প্রকল্পে ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন ৫৭২ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে আইডিবি দেবে ২৩২ কোটি টাকা।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২৯২ কোটি টাকার বরাদ্দ রেখে গত বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় পদ্মা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার, জাপানের সহযোগী সংস্থার সঙ্গে ৪০ কোটি ডলার, এডিপির সঙ্গে ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১৪ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ্য, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৫৫ হাজার কোটি টাকার নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন হয়েছে। যাতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের সংখ্যা হচ্ছে এক হাজার ৩৭টি। এবারের এডিপিতে মোট বরাদ্দের মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম প্রধান ইস্যুর একটি। কিন্তু সরকারের মেয়াদের তিন বছর পার হয়ে গেলেও অর্থায়নের অভাবে এ সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর বিষয়ে ঋণচুক্তি বাতিলের কথা ভাবছে না। বরং সংস্থাটি আশা করছে, কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও গুরুত্ব সহকারে অধিকতর তদন্ত সম্পাদন করবে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে আবুল হোসেনকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সরকার। এজন্য বিশ্বব্যাংকও এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে কোন সাড়া দেয়নি। এ কারণে সরকার বিশ্বব্যাংকের বাইরে গিয়ে অর্থায়নের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে।

এদিকে ৪টি উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে সরকারের করা ২৩৭ কোটি ডলারের চুক্তি দীর্ঘদিন কার্যকর না হওয়ায় সরকার বিকল্প এ অর্থায়নের চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়। এরই অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাব আসে বলে সূত্র জানায়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু সে সময় সেতু বিভাগ থেকে বলা হয়, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যে চুক্তি কার্যকর আছে, তা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না। এখন মালয়েশিয়া সরকার সবকিছু বিবেচনা করে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে কিনা তা নিয়ে এখনও সন্দেহ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হলে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে করা বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। অন্যদিকে পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের বৈঠক নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রতিবছর উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ২০১০ সালের পর আর কোন বৈঠক হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিলে এ বৈঠক হওয়ার বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা আগ্রহ দেখালেও সরকার পদ্মা সেতুর কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

তবে সরকার পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। কারণ বিশ্ব ব্যাংক যখন অর্থায়নের বিষয়টি এড়িয়ে চলেছে, তখন সরকারের কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংক সহযোগিতা না করলেও পদ্মা সেতু আমরা করবো।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...