The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অনিয়ম ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক! ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বার বার অনিয়মনগুলো ধরা পড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে অনিয়মের প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি দিন যত যাচ্ছে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে অনিয়মের প্রবণতা ততই বাড়ছে।
অনিয়ম ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক! ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি 1
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরেও বাড়ছে নানা অনিয়ম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকটি পরিদর্শনে নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকার্স সভাতেও ব্যাংকগুলোর অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সুদহার নির্ধারণ, মানিলন্ডারিং, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, আমানত ও সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা, মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধ, স্থিতিপত্রবহির্ভূত পরোক্ষ ঋণ সুবিধা, কনভেনশনাল ব্যাংকিংয়ের অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় পরিপালনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা ব্যাংকের হিসাবে দেখানো হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো নানা কৌশলে খেলাপি ঋণকে নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখাচ্ছে। ফলে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার ব্যাংকগুলোতে আমানতের হার কমে গেলেও ঋণের হার বেড়ে চলেছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এ প্রবণতা একটু বেশি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার আসল কাজ সুপারভিশন থেকে দূরে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও পেশাদারি ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, কোন ব্যাংক অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

শ্রেণীকৃত ঋণ বিশ্রেণীকরণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রেণীকৃত ঋণ হিসাবগুলো বিআরপিডি সার্কুলার নং ৫/২০০৬-এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পর্ষদের অনুমোদনসাপেক্ষে বিশ্রেণীকরণযোগ্য। তাই প্রায়ই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের ঋণ হিসাবগুলো বিশ্রেণীকরণ করা হচ্ছে। এছাড়া এ ধরনের বিশ্রেণীকরণ পর্ষদে উপস্থাপনের জন্য বিশ্রেণীকরণের যাবতীয় শর্তাবলী যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের প্রত্যয়নপত্রের আবশ্যকতা থাকলেও প্রায়ই তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এতে বিশ্রেণীকরণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে।

স্থিতিপত্রবহির্ভূত পরোক্ষ ঋণ সুবিধা প্রত্যক্ষ ঋণে রূপান্তর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে পরোক্ষ ঋণ সুবিধাগুলো যেমন- এলসি, এলটিআর ইত্যাদি প্রত্যক্ষ ঋণ সুবিধায় রূপান্তরিত হচ্ছে। এসব রূপান্তরিত ঋণ যথাসময়ে পরিশোধিত না হওয়ায় পরিশোধের মেয়াদ আরও প্রলম্বিত করে মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতি থাকছে না। ফলে ব্যাংকগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত তারল্য সংকট সৃষ্টি করছে।

কনভেনশনাল ব্যাংকিংয়ের অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোন কোন ব্যাংক তাদের কনভেনশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে উদ্ভূত ফান্ড ইসলামী ব্যাংকিং উইংয়ে বিনিয়োগ করছে। ব্যাংকের এ ধরনের কার্যক্রম ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া, ওইসব ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইংয়ে এডিআরও অনেক বেড়ে গেছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধ

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় মুদ্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধের বিষয়ে চারটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ওই চারটি ব্যাংকের হিসাব থেকে পাওনা টাকা কেটে নিয়ে অভিযোগকারী ব্যাংকের হিসাবে জমা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু ব্যাংক তাদের প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য অনুরূপ অভিযোগ দাখিল করেছে। এরই মধ্যে দুটি ব্যাংকের অনুরূপ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ছয়টি ব্যাংককে দশ দিনের মধ্যে দায় পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এভাবে ব্যাংকগুলোর দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হলে সাধারণ ব্যাংকিং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তাছাড়া, এ প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু ব্যাংক সাময়িকভাবে তারল্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে

ব্যাংকিং খাতে অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ বেড়ে গেছে। যে পরিমাণ পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র স্থাপন করা হচ্ছে, ওই পরিমাণ পণ্য দেশে আসছে না বলে আশংকা করা হচ্ছে। এর ফলে পণ্যের সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তদারকি শুরু করেছে। এলসি খোলা হয়েছে অথচ দেশে পণ্য আসেনি এমন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে অনিষ্পন্ন এলসির হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯টি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার বা দেড় লাখ কোটি টাকা। এ বিপুল অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে তদারকি করা হচ্ছে।

আমানত ও ঋণের সুদহার

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ খাত ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা প্রতাহারের ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে আমানত ও ঋণের সুদহারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকগুলো স্থায়ী বা মেয়াদি আমানতের ওপর ঘোষিত সুদহারের বাইরে অধিক হারে সুদ প্রদান করছে। আবার ঋণের ক্ষেত্রেও অধিক হারে সুদ গ্রহণ করছে। যেমন ব্র্যাক ব্যাংক সুদ নিচ্ছে ব্যবসা বা কোন কিছু ক্রয়ের ওপর ঋণের সুদ নিচ্ছে ২২ শতাংশ হারে। আবার ডাচ বাংলা ব্যাংক নিচ্ছে ১৯ শতাংশ। অনেকেই ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে অল্প টাকা ঋণ নিয়ে থাকেন। যেমন ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার এতো বেশি যে ব্যবসা চালিয়ে তা শোধ করা বড়ই কঠিন। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, এইসব ঋণের অর্থ ব্যাংক সবসময় সঠিকভাবে রিকভার করতে পারে। এখানে ঋণের টাকা সঠিকভাবেই ব্যবসায়িরা জমা করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...