গ্রীষ্মের তাপদাহের হাত থেকে রেহাই পেতে বাহারি শরবতের নামে মানুষ গিলছে ক্যান্সারের জীবাণু!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে মানুষ। সারাদেশে এবার যে গরম পড়ছে এর আগের বছরগুলোতে এতোটা দেখা যায়নি। এই প্রচণ্ড তাপদাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ মরিয়া। তাই রাজধানীর ফুটপাত ও অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে রং চঙা শরবত। অথচ এই শরবত কতটা ভয়ঙ্কর তা কেও জানতেও পারছে না!

গ্রীষ্মের তাপদাহের সুযোগে রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তার ছোট-বড় মোড়, ফুটপাত, অলিগলিতে আকর্ষণীয় বাহারি রঙের সরবতের আড়ালে নগদ অর্থ দিয়ে গিলছে রোগজীবাণু । এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে যেসব শরবত বিক্রি হচ্ছে তাতে যে রঙ মেশানো হয় তা বড় বড় টেক্সটাইল মিলে কাপড়ে ব্যবহূত হয়ে থাকে। জিহ্বায় স্বাদ লাগাতে যে মিষ্টি ব্যবহূত হয় তা সেকারিন। আর তৃষ্ণা মেটাতে পানিকে হিমশীতল করতে ব্যবহূত বরফটি তৈরি হয় দেড় কোটি মানুষের পয়ঃপ্রবাহিত বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি থেকে। শরবতে ব্যবহূত পানি সরাসরি ওয়াসার কোন ফাটা পাইপ, রাস্তার পাশের ট্যাপ থেকে এসে থাকে। বিক্রেতাদের সঙ্গে ভোক্তা সেজে আলাপকালে অনেকেই জানান, তারা যে বরফ ব্যবহার করেন তা মূলত তৈরি হয় মাছের জন্য। কিন্তু বেশি লাভের আশায় তারা ওই বরফই শরবতে মেশান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিক্রেতার রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। শতাধিক ব্যক্তির একটি সিন্ডিকেট রাজধানীর ফুটপাতের এই শরবত ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা দাদন ব্যবসার মতো ফুটপাতের বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে দোকান বসিয়ে দিয়েছে। দিন শেষে এসে লাভের ভাগটি নিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটে পুলিশ পর্যন্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দোকানপ্রতি দৈনিক ১০০ টাকা পুলিশের পকেটে যায়। একাধিক ডাক্তার জানিয়েছেন, শরবতের নামে মানুষ যা খাচ্ছে তার মাধ্যমে নির্ঘাত মৃত্যুকেই ডেকে আনছে। সবই ক্যান্সারের জীবাণু। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারা পর্যন্ত একই কথা বলেছেন। একটি শক্ত আইন হলে পুলিশের পক্ষে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এরা ফুটপাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিসে শরবত বিক্রি করছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার আরেকটি পন্থা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্টের অভিযান। অপরদিকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ছেলেমেয়েদের এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি যারা এসবের ভোক্তা তাদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম জানান, ওই বিষাক্ত শরবত বিক্রি বন্ধ করা একান্তই প্রয়োজন। প্রতিদিন লক্ষাধিক লোক এ বিষাক্ত শরবত পান করছে। এ বিষাক্ত শরবতে পানিবাহিত সব রোগের জীবাণু রয়েছে। এতে লিভার ও কিডনি দ্রুত নষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে পানিবাহিত রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, তাদের অনেকেই রাস্তার পাশ থেকে রঙ-বেরঙের শরবতসহ নোংরা পানি পান করেছেন। তিনি বলেন, যারা এসব বিষাক্ত শরবত বিক্রি করছে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। সামাজিকভাবে তা প্রতিরোধ করা জরুরি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব শরবত বিক্রি হতে দেখা যায়। বিশেষ করে গুলিস্তান, মতিঝিল, টিকাটুলি, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, মহাখালি, গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লাতেও এই শরবত বিক্রি হতে দেখা যায়। ফার্মগেটে গিয়ে দেখা গেলো প্রকাশ্যে এসব শরবত বিক্রি হচ্ছে। মানুষ গো-গ্রাসে গিলছে এসব জীবাণুবাহী শরবত। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তৎপর হওয়া জরুরি।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...