সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ-১৪ (২৭-৬-১২)

ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়িটির খেতাব দখল করে আছে ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত ‘আন্তিলিয়া’ (Antilia) নামক বাড়ি। বাড়িটির মালিক ভারতের অন্যতম ধনকুবের ও বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি ও তার স্ত্রী নীতা আম্বানি। এটি দক্ষিণ মুম্বাইয়ে কুম্বালা হিলে আলটামাউন্ট রোডে অবস্থিত। বাড়িটি ২৭ তলাবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক বিল্ডিং। ভূমিতে এটি ৪০ হাজার বর্গ ফুটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে বাড়িটি ৫৭০ ফুট উঁচু। শুধু কার পার্কিংয়ের জন্যই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ছয়টি তলা। পার্কিংয়ে মোট ১৬৮টি গাড়ি একসঙ্গে রাখা যাবে। প্রত্যেকটি তলাই ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনবিশিষ্ট। প্রত্যেক লবিতে ৯টি করে চলন্ত সিঁড়ি আছে। এর বলরুম ও আসবাবপত্র, ক্রিস্টালের ঝাড়বাতিগুলো সবই চাকচিক্যময়। বাড়িটির তত্ত্বাবধানে ৬০০ কর্মচারী রয়েছে। এর ছাদে রয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড এবং একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম। আরও রয়েছে স্পা রুম, যোগব্যায়াম স্টুডিও এবং এর অষ্টম তলায় রয়েছে ৫০ সিটের থিয়েটার। বাড়িটিতে বলরুম তো আছেই। আরও আছে সুইমিং পুল এবং একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি বরফাচ্ছাদিত আইস রুম। এর তিনটি তলায় আকর্ষণীয়ভাবে ঝুলন্ত বাগান তৈরি করা হয়েছে। আন্তিলিয়াই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি। এর বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাড়িটির স্থপতি আমেরিকার ধনী প্রদেশ ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলসের দুটি ফার্ম যথাক্রমে ‘পারকিন্স’ ও ‘উইল অ্যান্ড হিরশ বেডনার’ আম্বানী পরিবার হতে বাড়িরটির নাম ‘ আন্তিলিয়া’ রাখা হয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি কল্পিত দ্বীপ আন্তিলিয়ার নামানুসারে। এ বাড়ির কারণে এলাকাটির জমির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে আল্টামাউন্ট রোড বিশ্বের ১০টি দামি রাস্তার মধ্যে একটি, আগস্ট ২০০৮ সাল থেকে যার প্রতি বর্গমিটারের মূল্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।

গুহা স্বর্গ

হোটেলটির নাম বেকহাম ক্রিক গুহা স্বর্গ। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস (অন্য নাম ওজার্ক) অঙ্গরাজ্যের বাফালো ন্যাশনাল রিভার (Buffalo National River country) প্রদেশে এ হোটেল অবস্থিত। অন্য সব হোটেল থেকে এর বিশেষ পার্থক্য বা বিশেষত্ব হল হোটেলটি একটি প্রাকৃতিক গুহার ভেতর তৈরি করা হয়েছে। এর আয়তন ২ হাজার বর্গফুট। এতে রয়েছে ৫টি থাকার কক্ষ। গুহার ভেতর হলেও আদিম মানবদের মতো নয়, এ হোটেলের প্রতিটি কক্ষে রয়েছে সব অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। রয়েছ প্রাকৃতিক ঝরনা। তাই এ হোটেলের প্রতি রাত ১ রুম ভাড়া ৪০০ থেকে ৫৫০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৪ হাজার ৮০০ টাকার বেশি। এ হোটেল তৈরিতে সময় লেগেছিল ৪ বছর। তবে এ গুহা হোটেলে রাত্রিযাপনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে এর চারপাশে ৫৩০ একর জায়গা নিয়ে চিত্তাকর্ষক ব্যবস্থা। এখানে পর্যটকদের জন্য খাড়া পাহাড়ে চূড়া, মাছ ধরা, নৌকা চালানো, সাঁতার, বিলিয়ার্ড খেলা ইত্যাদি মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাদুর কল

জাদুর কল বা ম্যাজিক ট্যাপ মূলত একটি ফোয়ারা যা এর প্রকৌশলীর সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। ফোয়ারাটি দেখলে মনে হবে একটি বড় আকারের পানির কল শূন্যে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং এ কলে অদৃশ্য স্থান থেকে অলৌকিকভাবে অনবরত পানি পড়ছে। প্রাথমিকভাবে পুরো ফোয়ারাকেই অলৌকিক মনে হবে। কিন্তু এর পেছনে রহস্য হচ্ছে, পানি কল থেকে পড়ছে না। বরং নিচ থেকে কলের মুখ পর্যন্ত পানি একটি পাইপ দ্বারা নিরবচ্ছিন্নভাবে উঠছে এবং তারপর নিচে পড়ছে।

আর এ পাইপ কলটির শূন্যে দাঁড়িয়ে থাকার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। নিচে পড়ন্ত পানির জন্য ভেতরের পাইপ কখনও দৃষ্টিতে পড়ে না। এ ম্যাজিক ট্যাপ স্পেনের অ্যাকুয়াল্যান্ডের ক্যাডিজে অবস্থিত। তবে পরে এর দেখাদেখি স্পেনের আরও দুটি স্থানে এরকম ফোয়ারা বা ম্যাজিক ট্যাপ বানানো হয়েছে। জায়গাগুলো হল স্পেনের মেনোরকা-এর সান্তা গ্যাল্ডানা এবং অলিভেঞ্জাতে। এ ছাড়া বেলজিয়ামের লেপারে ওয়াই প্রেস (ণঢ়ৎবং) নামক স্থানেও এরকম ম্যাজিক ট্যাপ বানানো হয়েছে।

রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে পৃথিবীর রহস্যময় স্থানগুলোর অন্যতম বলা হয় । কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে, কিছু প্রকৃতিগত ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ছাড়া এই ট্রায়াঙ্গল অন্য সব এলাকার মতোই স্বাভাবিক। তবে এটা ঠিক, পৃথিবীর সবচাইতে অভিশপ্ত স্থানগুলোর মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বা ত্রিভুজকেই অন্যতম বলে মনে করা হয়। কারণ এ যাবৎ এখানে যত রহস্যময় ও কারণহীন দুর্ঘটনা ঘটার কথা শোনা গেছে, অন্য কোথাও এত বেশি এরকম দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ জন্যে স্থানীয় অধিবাসীরা এ এলাকাটির নামকরণ করেছে পাপাত্মাদের ত্রিভুজ।

বারমুডা ত্রিভুজের অবস্থান আটলান্টিক মহাসাগরে। মোট তিনটি প্রান্ত দিয়ে এ অঞ্চলটি সীমাবদ্ধ বলে এর নামকরণ হয়েছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বা বারমুডা ত্রিভুজ। এ অঞ্চলটি যে তিনটি প্রান্ত দিয়ে সীমাবদ্ধ তার এক প্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, একপ্রান্তে পুয়ের্টো রিকো এবং অপর প্রান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপ অবস্থিত। ত্রিভুজাকার এই অঞ্চলটির মোট আয়তন ১১৪ লাখ বর্গ কিলোমিটার। এটি ২৫-৪০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৫৫-৫৮ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

এ অঞ্চলের রহস্যময় একটি দিক হল, কোন জাহাজ এই ত্রিভুজ এলাকায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বেতার তরঙ্গ প্রেরণে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং এর ফলে জাহাজটি উপকূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়। একসময় তা দিক নির্ণয় করতে না পেরে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। মার্কিন নেভির সূত্র অনুযায়ী, গত ২০০ বছরে এ এলাকায় কমপক্ষে ৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০টি বিমান চিরতরে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালের মে মাসে হারিয়ে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের ঘটনাটি সারা বিশ্বে সবচাইতে বেশি আলোড়ন তোলে।

এর মধ্যে সবচাইতে বিজ্ঞানসম্মত যে ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে তা হল, এলাকাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে স্বাভাবিকের চাইতে কুয়াশা অনেক বেশি এবং এর ঘনত্বও তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে নাবিকেরা প্রবেশের পরই দিক হারিয়ে ফেলে এবং তাদের মধ্যে একপ্রকার বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। হয়তো এ বিভ্রান্তির ফলেই তারা যথাযথভাবে বেতার তরঙ্গ পাঠাতে পারে না। প্রমাণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, আধুনিককালে যে সমস্ত জাহাজ জিএসএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে, তাদের একটিও এ সমস্যায় পড়েনি।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো আরেকটি আগ্রহ-উদ্দীপক কাহিনী হচ্ছে- ফ্লাইং সসারের আগমন। অনেকে মনে করেন, এ এলাকাটি উন্নত গ্রহের প্রাণীদের পৃথিবীতে অবতরণ স্থান। এ ধারণার কারণ হিসেবে তারা কিছু নাবিকের কথা বলে থাকেন যারা নাকি এ এলাকায় মাঝে মাঝে উড়ন্ত সসারের আনাগোনা দেখতে পান। তবে এটি এখনও নিছক কল্পনা হিসেবেই চিহ্নিত। এর কোন সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি।

Advertisements
Loading...