The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পাকশী লালন শাহ সেতু ॥ সংযোগ সড়কের হার্ড সোল্ডারে বৈদ্যুতিক খুঁটি ॥ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল

ঈশ্বরদী থেকে প্রতিনিধি ॥ পাকশী লালন শাহ সেতু মহাসড়কের হার্ড সোল্ডারে স্থাপন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে এ সড়কে যানচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
পাকশী লালন শাহ সেতু ॥ সংযোগ সড়কের হার্ড সোল্ডারে বৈদ্যুতিক খুঁটি ॥ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল 1
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং মহাগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত এই পাকশী লালন শাহ সেতু। অথচ পাবনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা না করেই হার্ড সোল্ডারে স্থাপন করে এ বিপজ্জনক কাজটি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিনা অনুমতিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হার্ড সোল্ডারে খুঁটি স্থাপন করার কাজে বাধা দিতে গিয়ে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও হয়েছেন। এ নিয়ে দুই বিভাগে চলছে উত্তেজনা। জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইপিজেডে নতুন একটি বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ঈশ্বরদী-পাকশী সড়কের আলহাজ মোড় থেকে ইপিজেড পর্যন্ত আরবান নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ সম্প্রসারিত লাইনের মধ্যে তিন কিলোমিটার লালন শাহ সেতুর সংযোগ সড়কের মধ্যে পড়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বান করলে পাবনার ঈশ্বরদীর স্বপন ট্রেডার্স বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণের কাজ পায়। কাজ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের যোগাযোগ না করেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার ওপর পাকশী লালন শাহ সেতু মহাসড়কের হার্ড সোল্ডারে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো স্থাপন করে। সে সময় স্থাপিত খুঁটিগুলো সাত দিনের মধ্যে অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ এবং পাবনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সড়ক উপ-বিভাগ-২ শফিকুল হুদা উভয়ে পরপর ৩টি চিঠি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আরবান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, রাজশাহী অফিসে দেন। পরে আরবান প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ও পাবনা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। উভয় বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সর্বসম্মতিক্রমে একমত পোষণ করেন এবং বিউবোর প্রকল্প পরিচালক বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের হার্ড সোল্ডার থেকে তুলে নিরাপদ দূরত্বে স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়ে যান। কিন্তু এরপরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের হার্ড সোল্ডারে খুঁটি স্থাপনের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। গত ৪ জুলাই বিকেলে সড়ক উপ-বিভাগ-২ এর উপ-সহকারী মিজানুর রহমান মহাসড়কের হার্ড সোল্ডার থেকে খুঁটিগুলো অপসারণ করা হয়েছে কি না দেখতে গেলে ঠিকাদারের নেতৃত্বে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় উপ-সহকারী মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। উপ-সহকারী মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর তিনি ঈশ্বরদী থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা গ্রহণ না করে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে ৫ জুলাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্বপন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী স্বপনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন।

আরবান প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খন্দকার আবু হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই লাইন নির্মাণের ডিজাইনটি তাদের ঢাকা অফিস থেকে দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, সড়ক বিভাগের বিনা অনুমতিতেই খুঁটিগুলো সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হার্ড সোল্ডারে স্থাপন করা হচ্ছে। তবে তা স্বল্প পরিমাণ। পরে আমরা সরিয়ে নেব। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি না নিয়ে পাকশী লালন শাহ সেতু মহাসড়কের হার্ড সোল্ডারে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। হার্ড সোল্ডারে খুঁটি স্থাপন করায় সড়কের হার্ড সোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরদিকে সড়কে দুর্ঘটনাসহ যানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোজন এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের হার্ড লাইনে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করায় ৪ লেনে উন্নীত করার সময় এ খুঁটিগুলো আবার তুলে নতুন করে স্থাপন করতে হবে। এতে বর্তমানে যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলবে। অপরদিকে পরবর্তীতে বিপুল অর্থের অপচয় হবে।

বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Loading...