অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে হুমকির মুখে শাহপরান সেতু

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের শাহপরান সেতু। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে শাহপরান সুরমা সেতুটি হুমকির সম্মুখিন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সিলেটের সুরমা নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে হুমকির মুখে শাহপরান সুরমা সেতু। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে বালু খেকো চক্র সেতুর গোড়ায় ড্রেজিং চালাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর পাদদেশে বিপজ্জনক ড্রেজিং চললেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এমন আশংকার কথা স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট দফতরে জানালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে আইনি সহযোগিতা চাইলে তারা ওপরের নির্দেশ রয়েছে বলে অপরাগতা প্রকাশ করে। তাই এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট তামাবিল বাইপাস সড়কের দক্ষিণ সুরমা এলাকার শ্রীরামপুর শেখপাড়া এলাকায় সুরমা নদীর ওপর শাহপরাণ সুরমা সেতু। সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-তামাবিল মহাসড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন চলাচলে সুবিধা পেয়ে আসছে জনসাধারণ।

উল্লেখ্য, বিগত গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সেতুটি নির্মিত হয়। এরপর এ সেতু দিয়ে জাফলং থেকে পাথরবাহী গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। এতে করে সেতুটি গুরুত্ব বেড়েছে অপরিসীম। ইদানীং একটি বালু খেকো চক্র সেতুর পাদদেশে অবাধে ড্রেজিং চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের একটি মহলকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলনের নামে এ ধ্বংসাত্বক কার্যক্রম চলছে। যে কারণে শর্তানুয়ায়ী সেতুর ৫০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে জনস্বার্থ বিবেচনায় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেরা বেগমের কাছে অভিযোগ দেন স্থানীয় শেখপাড়াবাসী। তিনি সরেজমিন এসে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডা. আবদুস শুকুর বলেন, ড্রেজিংয়ের নামে ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ড চলছে। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরও প্রতিকার পাচ্ছি না। তিনি বলেন, প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহপরাণ সুরমা সেতু বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে সেটি মেনে নেয়া যায় না। একই বিষয়ে স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা শাহ নিজাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি চরম জনস্বার্থবিরোধী। আমরা ড্রেজিং বন্ধে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নজরে দিয়েছি। তিনি অভিযানও চালিয়েছিলেন। বর্তমানে ড্রেজিং আবার শুরু হওয়ায় তাকে জানালে তিনি বলেন, ওপরের বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি এ ব্যাপারে কিছু করতে পারছেন না। এদিকে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ড্রেজিং হচ্ছে অভিযোগ পেয়েছি। এলাকাটি পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলাধীন। সুতরাং তিনিই অ্যাকশন নেয়ার এখতিয়ার রাখেন।

এদিকে শর্ত ভঙ্গ করে সেতুর নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক খান মুহাম্মদ বিল্লাল বলেন, তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন। তাই সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে সেতু হুমকিতে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেজিং ক্ষতিকারক। তিনি বলেন, আমার অবৈধ ড্রেজিং বন্ধের জন্য তৎপর হলেও প্রশাসনিক সহযোগিতা পাচ্ছি না।

অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, সবাই নিজের গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। এভাবে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে তা কখনও হতে পারে না। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Advertisements
Loading...