ছোট্ট পাখি হামিংবার্ড

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ আজ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

ছোট্ট পাখি হামিংবার্ড

হামিং বার্ড যার মস্তিষ্কের আয়তন এবং ওজন একটা চালের কণার মতো অথচ তার স্মৃতিশক্তি কত প্রখর। অবশ্যই খাদ্যের ব্যাপারে। মধু খেয়ে পেট ভরানোর জন্য প্রত্যেকদিন তাদের প্রায় দু’হাজারটি ফুলের কাছে যেতে হয়। এজন্য কুড়ি গ্রামের চেয়েও কম ওজনের পাখিটিকে মনে রাখতে হয় কোথায় ফুল আছে, গত বছর কোন কোন জায়গায় বেশি ফুল ছিল। এসব কথা মনে রেখেই তাকে পরিকল্পনা করতে হয় এবং সেভাবে কম সময়ে পরিশ্রম কমিয়ে পেট ভরাতে হয়। বিজ্ঞানীরা কানাডার পার্বত্য অঞ্চলের রোটাস হামিং বার্ডের স্বভাব ও গতিবিধির ওপর গবেষণা করে দেখেছেন বিশেষ ধরনের ফুল কোন এক জায়গায় পাওয়া যায় এবং শেষবার তারা কখন সেই জায়গায় গেছে সঠিকভাবে তা মনে রাখে, অথচ এ ধরনের স্মৃতিশক্তির অধিকারী কেবল মানুষ। বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে তৈরি ফুলে শর্করা দ্রবণ রেখে পাখির নকল খাদ্যসংগ্রহ ক্ষেত্র তৈরি করে দেখেছেন বেশি খাবার পাওয়ার জন্য পাখিগুলো বারবার সেখানে আসছে। এরপর তারা ফুলগুলো প্রথমে দশ মিনিট পরপর তারপর কুড়ি মিনিট পরপর ভর্তি করতে থাকলেন। আবার সেটাকে বারো ঘণ্টার জন্য খালি রাখলেন কয়েকদিন। দেখা গেল পাখিগুলোও এ নকল খাদ্যক্ষেত্র বা ফুলক্ষেত্রে তাদের আসার সময় একইভাবে বদলাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করেন, আট-দশ রকমভাবে সময়সূচি পরিবর্তন করলে পাখিরাও নিখুঁতভাবে তাদের সময়সূচি বদলায়।

বুলেট পিপড়া

বুলেট অ্যান্টের কামড়ে হয়ত আপনি মারা পড়বেন না ঠিকই কিন্তু এই কামড়ের কথা আপনি কোনদিনও ভুলতে পারবেন না। জীব জগতের সকল প্রাণীর মধ্যে এই পিঁপড়ার কামড়েই সবচেয়ে বেশি ব্যথা অনুভূত হয় বলে কথিত আছে, যা আপনি কখনও কল্পনাও করতে পারবেন না। আপনি যদি এর ভুক্তভোগী হন, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের নাম মনে না করতে পারাটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইলেকট্রিক ইল

ইলেকট্রিক ইল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আমাজন এবং অরিনকো নদীতে। দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলোর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীগুলোর মধ্যে ইলেকট্রিক ইল অন্যতম। এর একটি নয় বরং তিন তিনটি ংঢ়বপরধষরুবফ ড়ৎমধহং থাকে শক্তিশালী বিদ্যুৎ (৬০০ ভোল্ট বা তার চেয়েও বেশি) উৎপাদনের জন্য, যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। এরা মানুষ খায় না, কিন্তু নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে কাছে গিয়ে একটা শক্‌ দিয়ে দেয়! অর্থাৎ ইলেকট্রিক ইল থেকে সাবধান।

পিরানহা

যারা মোটামুটি হলিউডি সিনেমা দেখেন তারা এই মাছটি সম্পর্কে অবগত আছেন। অবশ্য সিনেমার কাহিনিতে একটু বেশিই রঞ্জিত করে দেখানো হয়। বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। সূক্ষ্ম ধারালো দাঁতবিশিষ্ট এই কদাকার মাছটি দক্ষিণ আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পিরানহার মোট ত্রিশটিরও বেশি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে প্রায় পঁচিশটি প্রজাতির দেখা মেলে ব্রাজিলের আমাজনসহ অন্যান্য নদীতে, যার বেশির ভাগই মাংসাশী নয়। মাত্র ছয়টি প জাতির দেখা মেলে, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর মাংসাশী হয়ে ওঠে। এরা সাধারণত দল বেঁধে নিজের চাইতেও বড় আকারের শিকার ধরে থাকে। থিওডোর রুসভেল্ট (ঞযবড়ফড়ৎব জড়ড়ংবাবষঃ) তার ব্রাজিল ভ্রমণের সময় দেখেন, পিরানহার একটি ঝাঁক একটি মহিষকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। বোঝাই যাচ্ছে, এরকম একটি খাদকের সামনে মানুষ অবশ্যই নিরাপদ নয়। অতএব সাবধান।

সাপের বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঙ্গরাজ্য আইডাহো। রেক্সবার্গ নামের এখানকারই এক এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাঁচ রুমের বাড়ির মালিক বেন ও অ্যাম্বার দম্পতি। একরাতের ঘটনা- এ দম্পতির ঘুম ভেঙে গেল হিস হিস শব্দে। ভয় পেয়ে আলো জ্বালালেন তারা এবং দেখলেন- বাড়ির আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে শত শত সাপ। সেই থেকে অনেকের কাছেই বাড়িটি ‘সাপের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আশপাশে তেমন বড় বনজঙ্গল না থাকলেও বাড়িটির মধ্যে গিজগিজ করছে সাপ। তবে নিজের স্বপ্নের বাড়িত সাপের অত্যাচার মোটেও সইতে পারেননি বেন। সাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে একদিনেই তিনি মেরেছিলেন ৪২টি। কিন্তু প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা দিনে দিনে এতটাই বাড়তে লাগল যে, অসহায়ভাবে পরাজয় স্বীকার করতে হয় বেনকে। নিরুপায় হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়ি বিক্রির। কিন্তু সাপের বাড়ি কিনবেই বা কে? প্রায় দুই লাখ ডলারের বাড়িটি পানির দামে (মাত্র ৬০ হাজার ডলার) বিক্রির চেষ্টা করলেও পাওয়া গেল না ক্রেতা। আইডাহো কর্তৃপক্ষ অবশ্য এমন অদ্ভুত ব্যাপারের একটি যুক্তি হাজির করেছেন- অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে নিচু এলাকা। পলি মাটির নিচের ফাঁকফোকরে একসময় থাকত প্রচুর সাপ। মাটি ভরাট করে বাড়ি বানালেও অঞ্চলটি থেকে বিদায় নেয়নি আদি বাসিন্দারা। ইট-কংক্রিটের আড়ালেই এখন জীবনযাপন করছে তারা। বাড়িটি পরে বিক্রি হয়েছে তা কিন্তু আমরা জানি না।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...