ফলো আপ পাকশী রিসোর্টঃ রেলওয়ের জায়গা দখলের নামে লুট-পাটের মহোৎসব!

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকলেও রেলওয়ের জায়গা দখলের নামে লুটপাটের এক মহোৎসব দেখলো আজ ১১ সেপ্টেম্বর পাকশীবাসী।

গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা টাইমস্‌-এ ‘আদালতের স্থিতাবস্থা সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের পাদদেশে প্রতিষ্ঠিত পাকশী রিসোর্ট ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে!’ শিরোনামে এ সংক্ষান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র রাজনীতির কারণে অত্র অঞ্চলের একমাত্র পর্যটন স্পট ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের পাদদেশে প্রতিষ্ঠিত পাকশী রিসোর্ট ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। খবরে আরো বলা হয়, উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিনোদন কেন্দ্র ঈশ্বরদীর পাকশী রিসোর্ট প্রতিহিংসার শিকার হতে চলেছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের পর পর কয়েকটি রায় ও সুনির্দিষ্ট স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে এ সমৃদ্ধ শিল্প নিদর্শন ধ্বংসের প্রস্তুতি চলছে। রেলওয়ে পাকশী বিভাগ এটি ভাঙা হবে বলে কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছেন। এ নিয়ে পর্যটক, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বলা হয়েছিল, অত্র এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু ও তাদের পরিবার আবদুল মান্ননের কাছ থেকে জমি কিনে তার ওপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত এবং অনুপম স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শনস্বরূপ বিনোদন কেন্দ্র পাকশী রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৩৩ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ রিসোর্টে শিশুকিশোরসহ সব বয়সের নারী-পুরুষের আনন্দ উপভোগ করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা আছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের জন্য রয়েছে থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের আবাসিক সুবিধাসংবলিত আধুনিক ব্যবস্থা। পাবনা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং ঈশ্বরদী উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পাকশী রিসোর্টের পাশেই রয়েছে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত শত বছরের পুরনো রেল সেতু ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এর পাশেই রয়েছে প্রায় এক দশক আগে নির্মিত লালন শাহ সেতু। এ দুই সেতু জোড়া সেতু হিসেবে পরিচিত হওয়ায় নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই প্রচুর পর্যটকের ভিড় জমে পাকশীতে। এছাড়াও পাকশীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে শত বছরের পুরনো বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার বৃক্ষরাজি। দুই সেতুর নিচে পদ্মা নদীর পাড়ে রয়েছে সহজলভ্য ডিঙি নৌকা, যাতে করে অনায়াসে ইচ্ছেমতো ঘুরে ফিরে দেখা যায় পদ্মা নদীর অনুপম সৌন্দর্য। পাকশীতে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আসার জন্য রয়েছে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পর্যটনের এ অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে পর্যটনের কোনই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিক আকরাম আলী খান ওরফে সঞ্জু খান কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেন বিনোদন কেন্দ্র পাকশী রিসোর্ট। কিন্তু এই রিসোর্টটি এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হচ্ছে।

পাকশি রেলওয়ে বিভাগ থেকে মাত্র এক দিনের নোটিশ প্রদান করার পর গতকাল থেকেই অত্র এলাকায় এক সাজ সাজ রব শুরু হয়। আজ সকালে সেখানে আদালতের নির্দেশনার সূত্র উল্লেখ করে একজন ব্যারিস্টারের লিখিত একটি নোটিশ টাঙ্গানো হয়। যাতে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা রয়েছে এই স্থাপনাটি স্থিতাবস্থায় রাখার। কিন্তু ওই নোটিশকে তোয়াক্কা না করে আজ সকালেই পাকশী রিসোর্ট ভাঙ্গার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সেখানে জায়গা দখলের নামে লুট-পাটের এক মহোৎসব বসেছিল। সৌন্দর্যের জন্য স্থাপিত সবকিছু ভাঙ্গার সাথে সাথে হরিণ, সাপ, ময়ূরসহ সংরক্ষিত বিভিন্ন জীব-জন্তু লুট-পাট করা হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। জানা গেছে, পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হলে ভাংচুর থামে। আমরা গতকালের সংবাদে বলেছিলাম, যদি কর্তৃপক্ষ আদালতকে সম্মান করতেন তাহলে পাকশী রিসোর্ট-এর দায়িত্ব নিয়ে পিপিপির পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে পারতেন। যেহেতু আদালতের রায় এখনও হয়নি, তাই চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত পিপিপির অধিনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি চালানো যেতো।

Advertisements
Loading...