হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক, লক নেস হ্রদের জলদানবসহ কয়েকটি বিস্ময়কর স্থান

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত এই ওয়াটার পার্কটির নাম বেইজিং জাতীয় জলজ সেন্টার। জাতীয়ভাবে এর নাম ন্যাশনাল অ্যাকুয়াটিক সেন্টার। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে তৈরি করা হয় এই ওয়াটার পার্ক। এ পার্কটি পুরোপুরি আয়তকার ঘনক। তাই এর আরেক নাম ওয়াটার কিউব। ২০০৩ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ওয়াটার পার্কের ডিজাইন ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল অস্ট্রেলিয়ার পিটিডব্লিউ আর্কিটেক্টস, চীনের দুটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেস কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন সংক্ষেপে সিএসসিইসি এবং চায়না কনস্ট্রাকশন ডিজাইন ইন্টারন্যাশনাল সংক্ষেপে সিসিডিআই। ২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি এ পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই ওয়াটার পার্কের আয়তন প্রায় ৩২ হাজার বর্গমিটার, যার উচ্চতা ৩১ মিটার। এ পার্ক তৈরিতে মোট ব্যয় হয় ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসে সাঁতারুরা গতির ঝড় তুলে এই ওয়াটার পার্কে সৃষ্টি করেন ২৫টি বিশ্বরেকর্ড, যার মধ্যে স্বর্ণপদক জয়ী মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফিলিপস একাই গড়েন ৮টি বিশ্বরেকর্ড। অন্যান্য অলিম্পিক পুলের তুলনায় এর সুইমিং পুল আরও ১.৩১৪ মিটার বেশি গভীর। এ কারণে সাঁতার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সুইমিং পুলে ঝাঁপ দেয়ার কারণে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তা সাঁতারুদের গতি আরও ত্বরান্বিত করেছিল। অলিম্পিক গেমস শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালের জুনের শুরু থেকে কয়েক দিনের জন্য এটি জনসাধারণকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মানুষের ঢল দেখে ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর চীন সরকার এ ওয়াটার পার্ক আবার জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেয়। মানুষের মুগ্ধতা দেখে বিস্মিত চীন সরকার এই ওয়াটার পার্ককে অ্যামিউজমেন্ট ওয়াটার পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট অলিম্পিক গেমস উদযাপনের দ্বিতীয় বার্ষিকী পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ওয়াটার পার্কটি নতুন নাম হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক নামে যাত্রা শুরু করে। তবে কানাডার টরেন্টোভিত্তিক ফরেক নামক ডিজাইন ফার্মের সহায়তায় পার্কটির অনেক পরিবর্তনও আনা হয়। ভিন গ্রহের পরিবেশের ধাঁচে গড়ে তোলা হয় নতুন এই ওয়াটার পার্ক। তৈরি করা হয় কৃত্রিম সাগর। যেখানে পানির নীল বুদবুদ তৈরি হয় এবং ভাসমান জেলি ফিশেরও দেখা মেলে। ওয়াটার পার্কের মূল আকর্ষণ টিউব স্লাইড, টানেল স্লাইড ও স্পিড স্লাইড তো রয়েছেই, সঙ্গে আছে ১০টি বিভিন্ন রকমের চমৎকার জলখেলা রাইড। সব মিলিয়ে চীনের মানুষের কাছে নতুন এ আকর্ষণ মহাপ্রাচীরের পরে পরিণত হয়েছে দ্বিতীয় দ্রষ্টব্য স্থানে। টিকিটের চড়া দাম সত্ত্বেও মানুষের ঢল ঠেকানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এই ওয়াটার পার্কটিই এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ অ্যামিউজমেন্ট ওয়াটার পার্ক ।

লক নেস হ্রদের জলদানব

লক নেস হ্রদ ঘিরেই কিংবদন্তির জলদানব ‘নেসি’র রহস্য অনেক পুরনো। ২০১১ সালের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় স্কটল্যান্ডের লক নেস হ্রদে দুটি নৌকা হঠাৎ বিশাল এক ঢেউ এসে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর এ জলদানব বিষয়ে আবারও কৌতূহল তৈরি হয়। গবেষকেরা এ জলদানবের কোন খোঁজ দিতে না পারলেও তাদের ধারণা এটা প্রাগৈতিহাসিক জলদানবের কাজ। গবেষকেরা এ প্রাণীটির অস্তিত্ব খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছেন। এদেরই একজনড. রবার্ট রাইসন। রহস্যময় জলদানব নিয়ে তার অভিযানে ১৯৭২ সালে সূক্ষ্ম কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলেন। আগস্টের আট তারিখে তার দলের সদস্যরা নৌকায় অপেক্ষা করছিল। রাত একটার দিকে পর্যবেক্ষণে এক বিচিত্র প্রাণীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে, যার রয়েছে বিরাট আকারের ডানা। লম্বায় সেই ডানা ছয় ফুটের মতো। ড. রাইনসের মতে, আজ থেকে সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এরকম প্রাণী ছিল। জাপানের টেলিভিশনের একদল কর্মী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে পানির নিচে অভিযান চালালো। একটি ডুবোজাহাজে করে নেমেছিল। ৯৫০ ফুট নিচে একটি গভীর গুহা আবিষ্কার করছিল তারা। তাদের ধারণা, ওই গুহটি ছিল সেই জলদানবের আশ্রয়স্থল। এর পরের বছর অভিযানে দলটি একটি প্রামাণ্য ছবি তুলল। তাতে দেখা গেল, বারো ফুট লম্বা লাল-খয়েরি রংয়ের একটি প্রাণী। তার মাথা দেখা যাচ্ছিল না। গলা ছিল ধনুকের মতো বাঁকা, আট ফুট লম্বা। অনেক প্রাণীবিজ্ঞানীর মতে, লক নেস হ্রদের রহস্যময় প্রাণীটি হল প্রাগৈতিহাসিক আমলের মৎস্যভোজী সরীসৃপ। এই জাতীয় প্রাণীর অস্তিত্ব সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল বলে সবার ধারণা ছিল। অনেকের মতে, ১০-১৫ হাজার বছর আগে বরফ যুগ শেষ হওয়ার সময় বরফ গলা পানির স্রোতে এই জাতীয় কিছু প্রাণী অন্য স্থান থেকে এই হ্রদে ভেসে চলে আসে। এ রহস্যময় প্রাণীটি নিয়ে অনেক রকম বর্ণনা করা হয়েছে।

রেডউড ফরেস্টের ভুতুড়ে জায়গা

ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ফরেস্ট বারমুডা ট্রায়াঙ্গালের চেয়ে কম রহস্যময় নয় । এ বনের ভেতর ১৫০ ফুট প্রশস্ত এমন একটি জায়গা আছে যেখানে পদার্থবিদ্যা এবং অভিকর্ষের কোন সূত্র খাটে না। জায়গাটির নাম মিস্ট্রি স্পট বা রহহস্যময় স্থান। মিস্ট্রি স্পটে ঢোকার পর একজন লম্বাটে মানুষকে তুলনামূলকভাবে মনে হয় খাটো। আবার পেছনে শূন্যের দিকে হেলে কোন দেয়াল বেয়ে ওঠার সময় কেউ নিচে পড়ে যায় না। অভিকর্ষের আজব আচরণের জন্য শূন্যে দু’পা তুলে দিয়ে চেয়ারের পেছনের দু’পায়ে ভর করে অনায়াসে হেলান দিয়ে বসে থাকলেও পড়ে যাবার ভয় থাকে না। কম্পাসও মাথা খারাপের মতো ভুল দিক নির্দেশ করে। সমতলে গলফ বল গড়ায় উপরের দিকে। এখানে আসা লোকজনের কেউ কেউ শরীরের ওজন হালকা অনুভব করলেও, অনেকেই আবার ভেতর ভেতর প্রচণ্ডচাপ অনুভব করেন। হালকা জুতো পায়ের লোকেদেরও কেমন যেন এক ধরনের ভর ভর অনুভব হয়। মিস্ট্রি স্পটের মাঝ বরাবর রয়েছে একটি কাঠের ঘর। জায়গাটির মালিকই ঘরটি তৈরি করেন। কিন্তু তখন তার জায়গাটির ভুতুড়ে আচরণ সম্বন্ধে একদমই জানা ছিল না। কাঠের বাড়ি বানাতে গিয়ে একইভাবে বারবার হেলে পড়ার কারণে তার টনক নড়ে। কী আর করা! হাজার চেষ্টা করেও সোজা করে ঘরটি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে শেষে দৈবের হাতেই এর ভাগ্য সঁপে দেন। কেনার পর পর মি. পার্থার নামের এই ভদ্রলোক জায়গাটি সমতল করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। ঘরটির দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কারো দিকে তাকালে দেখা যাবে সে হাস্যকরভাবে ঠিক কতটা পেছনের দিকে হেলে আছেন। আর ঘরের ভেতর রাখা টেবিলের কিনারা ঘেঁসে একদম বাইরের দিকে হেলে কোন একটি ছোট্ট মেয়ের অনায়াসে হেঁটে যাবার দৃশ্য দেখার পর নিজের চোখকেই বিশ্বাস করা কষ্টকর হবে। তারপরও নিজের চোখকে মেনে নিতেই হবে, কারণ পুরোপুরি একটি বাস্তব ছবি এটি। কেউ নিজে সেই টেবিলের কিনারা ঘেঁসে হাঁটলেও এই একই ঘটনা ঘটবে। কারণ আর কিছুই নয়, অভিকর্ষের আজব খেয়াল। আর কাঠের দেয়ালের সঙ্গে ৩৫ ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকা ছাদ ধরে ঝুলে থাকা কেউ ৪৫ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকবে। এ অবস্থায় তাকে মনে হবে গোল্ড মেডেল জেতা কোন বিশ্বখ্যাত জিমন্যাস্ট। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে উত্তর গোলার্র্ধের সব গাছই কোন কারণে বাঁকালে ঘড়ির কাঁটার দিকে বাঁকায়। কিন্তু মিস্ট্রি স্পটের গাছগুলো ঠিক এর উল্টো পাশে মানে দক্ষিণ গোলার্ধের গাছেদের মতো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। জায়গাটির অনেক গাছই এভাবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বেঁকে থাকতে দেখা যায়। ক্যালির্ফোনিয়ার তিনজন বিখ্যাত উদ্ভিদবিদেরও দাবি, এখানের গাছগুলো এমন আচরণ করে যেন তারা পৃথিবীর বিপরীত মানে নিরক্ষ রেখার অপর পাশে আছে। এই মিস্ট্রি স্পটে পুরোপুরি সমতল কোন কিছুকে মনে হয় অসমান। বার বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ধাঁধায় পরতে হয়। বৈজ্ঞানিক সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। পর্যটকদের অনেকের কাছেই প্রথম প্রথম এর সবকিছুই দেখার ভুল বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বারবার এসেছেন এমন অনেকেরই শেষ পর্যন্ত ভুল ভেঙেছে। তাদের বেশির ভাগের মতে জায়গাটির চুম্বকক্ষেত্রে বড় ধরনের গণ্ডগোল আছে, ঠিক রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো। ১৯৩৯-এর দিকে জায়গাটির অবাক করা সব বৈশিষ্ট জানতে প্রথম সার্ভে করা হয়। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে আবারও ক্যালির্ফোনিয়া থেকে তিনজন সার্ভেয়ার উপসাগরের দিকে সার্ভে করার জন্য আসেন। এসময় তারা এমন একটি অবাক করা এই জায়গা খুঁজে পান যেখানে তাদের যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকঠাক কাজ করছিল না। কিন্তু মিস্ট্রি স্পটের এতসব রহস্যময় আচরণের পেছনে আসলে কী আছে তার সমাধান এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

রহস্যময় জাহাজ কুইন মেরি

চমৎকার এক জাহাজ কুইন মেরি। সুবিশাল আর্টলান্টিক পাড়ি দেওয়ার জন্য উপযুক্ত জলযানই বটে। তবে যাত্রার শুরু থেকেই জাহাজটিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য আর অদ্ভুত সব ঘটনা। ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘ সৈকত দিয়ে সবচেয়ে বেশি চলাচল করা কুইন মেরির অদ্ভুত ঘটনাগুলো ক্রমেই কিংবদন্তী হয়ে উঠেছে।

কুইন মেরির কেবিন এবং করিডোরে যাত্রীরা প্রেতাত্মাদের অবয়ব দেখার পাশাপাশি রহস্যময় শব্দ শুনতে পায়। অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু কেউই সেটা স্পষ্ট ব্যাখ্যা করতে পারেন না।

কুইন মেরির যাত্রী সার্ভার ক্যারল নামে এক ব্যক্তি মুখোমুখি হয়েছিলেন এমন অভিজ্ঞতার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন চৌদ্দ তখন আমার এই অদ্ভুত যানটি দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। জাহাজটির যাত্রী হয়ে যখন আমি কেবিনের কাছাকাছি গিয়েছিলাম তখন দেখেছিলাম একজন নারী সেখানে বসে ছিলেন। আমি তার পোশাক দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তার ছিল গাঢ় কালো চুল। তার কোনো মেকাপ ছিল না। তাকে দেখতে খানিকটা ফ্যাকাসে মনে হচ্ছিল। আমি কখনও তাকে নড়তে দেখেনি। আমি যখন তার খুব কাছে এগিয়ে গেলাম, তখনি ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। সেই নারীর কাছাকাছি এগুতেই তিনি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন। আমি হতভম্ব হয়ে চারদিকে তাকে খুঁজলাম। কিন্তু কোথাও তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি।’

জাহাজটির সাবেক গাইড ন্যান্সি আন্নিও এরকম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একদিন আমি যখন জাহাজটির সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলাম তখন আমি ষাট-সত্তর বছর বয়সী এক সাদা চামড়ার মহিলাকে দেখতে পেয়েছিলাম। তাকে একা একা ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমি খানিকটা অবাক হয়েছিলাম। কৌতূহলবশত সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেলেন তিনি। এই ঘটনার কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।’

১৯৩৬ সাল থেকে এই বিলাসবহুল জাহাজটি সমুদ্রে যাতায়াত শুরু করে। দ্রুতগামী কুইন মেরি মাত্র পাঁচদিনে বিশাল আটলান্টিক পাড়ি দিতে সক্ষম। জন স্মিথ নামে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাহাজটির মধ্যে প্রথম কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় দুই মাস যাবৎ কাজ করেছিলেন। জন প্রায়ই জাহাজের সম্মুখ ভাগে এক ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেতেন। নিজের দুঃসহ স্মৃতির কথা বর্ণনা করে জন বলেন- ‘আমি যখন ভয়ঙ্কর শব্দ শুনতাম তখন আমার দু’চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরতে থাকত। ভীষণ ভয় করত। সেটা যে কী বিভীষিকাময় মুহূর্ত ছিল তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

রহস্যময় কুইন মেরি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল এবং একসময় এটিকে সৈন্যদের জাহাজে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ কিউরা কেরার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একবার কুইন মেরির তিন শতাধিক যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছিল। ধারণা করা হয় এই দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রেতাত্মাই জাহাজটিতে ঘুরে বেড়ায়। জাহাজটির সুপারভাইজার কেথি বলেন, ‘আমরা যখন জাহাজটির অগ্রভাগে গিয়েছিলাম তখন আমরা এক ধরনের অদ্ভুত হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। পরে এক তরুণীকে দেখা গেছে ওখানে খেলা করছে। অনবরত হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। একটি বদ্ধরুমে সে চলাচল করছে।’
কুইন মেরির রহস্য আজও অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে।

Advertisements
Loading...