আবারও প্রমাণিত হলো মানবাধিকার সংরক্ষণ কতটা জরুরি ॥ মালালার ওপর হামলাকারী তিন সন্দেহভাজন আটক

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আবারও প্রমাণিত হলো বিশ্বে মানবাধিকার সংরক্ষণ কতটা জরুরি। পাকিস্তানে একজন কম বয়সী মানবাধিকার কর্মীর ওপর হামলার কারণে সেদেশের জনগণ ফুসে উঠেছে। সমগ্র বিশ্বেই আজ মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। আর তাই মানবাধিকার সংরক্ষণে যারা নিয়োজিত তাদের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে। অন্তত পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী মালালা তার এক জলন্ত প্রমাণ।

পাকিস্তানে তালেবান বিরোধী কিশোরী ব্লগার মালালা ইউসুফজাইর ওপর হামলায় জড়িত প্রধান তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে সোয়াতের পুলিশ। গত ১২ অক্টোবর সোয়াতের জেলা পুলিশ অফিসার (ডিপিও) এই ঘোষণা দেন। তবে আকট হওয়া তালেবান সদস্যদের ছবি কিংবা নাম প্রকাশ করা হয়নি। ডিপিও জানিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা সনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এক নিষ্পাপ কিশোরীকে যারা চলার পথের কাঁটা মনে করতে পারে তাদের কঠোর সাজা পেতে হবে।

উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর সোয়াত উপত্যকার মিনগোরাতে ১৪ বছর বয়সী মালালা ও তার দুই বান্ধবী স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে বাসের মধ্যে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে তালেবান বিদ্রোহীরা। এতে তার শরীরে দুটি গুলি বিদ্ধ হয়। পরদিন সার্জনরা অপারেশন করে গুলি বের করে। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। মালালার জ্ঞান ফেরার জন্য এর মধ্যেই করাচি, লাহোর, ফয়সালাবাদ, সোয়াতসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। মুলতানে একটি হাসপাতালের নার্সরা মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। মালালার উপর হামলাকে ‘সব মা ও মেয়েদের উপর হামলা’ বলে উল্লেখ করেন তারা। হামলার পরই পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান মালালার উপর হামলার কথা স্বীকার করে।

এর আগে মালালার আরোগ্যের জন্য শুক্রবার ১২ অক্টোবর বিশেষ প্রার্থনার আহ্‌বান জানিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুক্রবার সকালে মালালার জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে সব সরকারি কার্যালয়গুলোতে তার জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। লাহোরে ৫০ জনেরও বেশি ইমাম ও সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের মুসলিম পণ্ডিত এক যৌথ বিবৃতিতে মালালার উপর হামলাকে ‘ইসলাম ও শরিয়া পরিপন্থী ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইমামরা বলেন, ইসলাম নারীকে জ্ঞানার্জন করা থেকে বিরত রাখে না। সব পুরুষ ও নারীরই শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তালেবান অধ্যুুষিত সোয়াতে নারীশিক্ষার ওপর তালেবানি নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে বিবিসি অনলাইনের ব্লগে লেখালেখি শুরু করলে পরিচিত হয়ে ওঠে কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। এদিকে মালালার ওপর হামলার ঘটনা সারাবিশ্বে আলোচিত হওয়ার পর জনপ্রিয় পপশিল্পী ম্যাডোনা একটি কনসার্টে মালালাকে উৎসর্গ করেছেন তার একটি গান। সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে একজন ক্ষুদে মানবাধিকার কর্মীর ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার জন্য।

Advertisements
Loading...