হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক ও ফ্রেডরিক ভ্যালেনটিসের অর্ন্তধানসহ কয়েকটি কাহিনী

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ আজ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। আজ রয়েছে হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক ও ফ্রেডরিক ভ্যালেনটিসের অর্ন্তধানসহ কয়েকটি কাহিনী।


শাগ হারবার-এর দুর্ঘটনা

জায়গাটি হল কানাডার Shag Harbour, Nova Scotia । ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসের ঘটনা। হঠাৎ করেই সেদিন এই এলাকার মানুষ এক অদ্ভুত বস্তু আকাশ থেকে সেখানে পড়তে দেখে। বস্তুটি কী ছিল সঠিক করে কেও বলতে পারল না। কানাডার সরকারি অনেক সংস্থা এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে এমনকি সরকারিভাবে পানির নিচে সেই বস্তুটির খোঁজে অভিযান চালানো হয়।
এমনকি আমেরিকার বিখ্যাত U.S. Condon Commitee UFO studz এই আকাশযানটির রহস্য উদ্ধারের জন্য বিস্তারিত অভিযান চালায়। কিন্তু কোন ব্যাখ্যাই পাচ্ছিল না কেও। অবশেষে কানাডিয়ান সরকার ঘোষণা দেয় অপরিচিত একটি আকাশযান এই ঘটনার সাথে জড়িত এবং এই আকাশযানটি পৃথিবীর কোন বস্তু নয়। কিন্তু তারপরই শুরু হল সত্য লুকোনোর চেষ্টা এবং একেক সময় একেক মনগড়া ব্যাখ্যা সরকারের তরফ থেকে।

ফ্রেডরিক ভ্যালেনটিসের অর্ন্তধান
১৯৭৮ সালের অক্টোবর মাসের ২১ তারিখের ঘটনা। ২০বছর বয়সী ঋৎবফবৎরপশ ঠধষবহঃরপয একটি হালকা ঈবংংহধ ১৮২খ বিমান চালিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে সেই সময় কোন কথাবার্তা ছাড়াই বিমানসহ ঋৎবফবৎরপশ গায়েব হয়ে যান। একেবারেই লাপাত্তা। কোন চিহ্নই নেই তার।
গায়েব হবার আগে রেডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন একটি অপরিচিত আকাশযান তিনি দেখেছেন। সেটি তার বিমানের গতিতেই তার দিকে ধেয়ে আসছে। এই তার শেষ যোগাযোগ পৃথিবীর কারও সাথে। এরপর তিনি আকাশ থেকে বিমানসহ একেবারেই গায়েব।
রেডিওতে তার শেষ কথা ছিল- ‘ওহ! বস্তুটা আমার কাছেই চলে এসেছে! কিন্তু এটা তো কোন আকাশযান নয়ঃ।’ এখানেই শেষ পৃথিবীর সাথে তার যোগাযোগ। অনেক খুঁজেও তাকে এবং তার বিমানের কোন চিহ্নই আর পাওয়া যায়নি।

হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত এই ওয়াটার পার্কটির নাম বেইজিং জাতীয় জলজ সেন্টার। জাতীয়ভাবে এর নাম ন্যাশনাল অ্যাকুয়াটিক সেন্টার। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে তৈরি করা হয় এই ওয়াটার পার্ক। এ পার্কটি পুরোপুরি আয়তকার ঘনক। তাই এর আরেক নাম ওয়াটার কিউব। ২০০৩ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ওয়াটার পার্কের ডিজাইন ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল অস্ট্রেলিয়ার পিটিডব্লিউ আর্কিটেক্টস, চীনের দুটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেস কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন সংক্ষেপে সিএসসিইসি এবং চায়না কনস্ট্রাকশন ডিজাইন ইন্টারন্যাশনাল সংক্ষেপে সিসিডিআই। ২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি এ পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই ওয়াটার পার্কের আয়তন প্রায় ৩২ হাজার বর্গমিটার, যার উচ্চতা ৩১ মিটার। এ পার্ক তৈরিতে মোট ব্যয় হয় ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসে সাঁতারুরা গতির ঝড় তুলে এই ওয়াটার পার্কে সৃষ্টি করেন ২৫টি বিশ্বরেকর্ড, যার মধ্যে স্বর্ণপদক জয়ী মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফিলিপস একাই গড়েন ৮টি বিশ্বরেকর্ড। অন্যান্য অলিম্পিক পুলের তুলনায় এর সুইমিং পুল আরও ১.৩১৪ মিটার বেশি গভীর। এ কারণে সাঁতার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সুইমিং পুলে ঝাঁপ দেয়ার কারণে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তা সাঁতারুদের গতি আরও ত্বরান্বিত করেছিল। অলিম্পিক গেমস শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালের জুনের শুরু থেকে কয়েক দিনের জন্য এটি জনসাধারণকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মানুষের ঢল দেখে ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর চীন সরকার এ ওয়াটার পার্ক আবার জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেয়। মানুষের মুগ্ধতা দেখে বিস্মিত চীন সরকার এই ওয়াটার পার্ককে অ্যামিউজমেন্ট ওয়াটার পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট অলিম্পিক গেমস উদযাপনের দ্বিতীয় বার্ষিকী পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ওয়াটার পার্কটি নতুন নাম হ্যাপি ম্যাজিক ওয়াটার পার্ক নামে যাত্রা শুরু করে। তবে কানাডার টরেন্টোভিত্তিক ফরেক নামক ডিজাইন ফার্মের সহায়তায় পার্কটির অনেক পরিবর্তনও আনা হয়। ভিন গ্রহের পরিবেশের ধাঁচে গড়ে তোলা হয় নতুন এই ওয়াটার পার্ক। তৈরি করা হয় কৃত্রিম সাগর। যেখানে পানির নীল বুদবুদ তৈরি হয় এবং ভাসমান জেলি ফিশেরও দেখা মেলে। ওয়াটার পার্কের মূল আকর্ষণ টিউব স্লাইড, টানেল স্লাইড ও স্পিড স্লাইড তো রয়েছেই, সঙ্গে আছে ১০টি বিভিন্ন রকমের চমৎকার জলখেলা রাইড। সব মিলিয়ে চীনের মানুষের কাছে নতুন এ আকর্ষণ মহাপ্রাচীরের পরে পরিণত হয়েছে দ্বিতীয় দ্রষ্টব্য স্থানে। টিকিটের চড়া দাম সত্ত্বেও মানুষের ঢল ঠেকানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এই ওয়াটার পার্কটিই এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ অ্যামিউজমেন্ট ওয়াটার পার্ক ।

রেডউড ফরেস্টের ভুতুড়ে জায়গা

ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ফরেস্ট বারমুডা ট্রায়াঙ্গালের চেয়ে কম রহস্যময় নয় । এ বনের ভেতর ১৫০ ফুট প্রশস্ত এমন একটি জায়গা আছে যেখানে পদার্থবিদ্যা এবং অভিকর্ষের কোন সূত্র খাটে না। জায়গাটির নাম মিস্ট্রি স্পট বা রহহস্যময় স্থান। মিস্ট্রি স্পটে ঢোকার পর একজন লম্বাটে মানুষকে তুলনামূলকভাবে মনে হয় খাটো। আবার পেছনে শূন্যের দিকে হেলে কোন দেয়াল বেয়ে ওঠার সময় কেউ নিচে পড়ে যায় না। অভিকর্ষের আজব আচরণের জন্য শূন্যে দু’পা তুলে দিয়ে চেয়ারের পেছনের দু’পায়ে ভর করে অনায়াসে হেলান দিয়ে বসে থাকলেও পড়ে যাবার ভয় থাকে না। কম্পাসও মাথা খারাপের মতো ভুল দিক নির্দেশ করে। সমতলে গলফ বল গড়ায় উপরের দিকে। এখানে আসা লোকজনের কেউ কেউ শরীরের ওজন হালকা অনুভব করলেও, অনেকেই আবার ভেতর ভেতর প্রচণ্ডচাপ অনুভব করেন। হালকা জুতো পায়ের লোকেদেরও কেমন যেন এক ধরনের ভর ভর অনুভব হয়। মিস্ট্রি স্পটের মাঝ বরাবর রয়েছে একটি কাঠের ঘর। জায়গাটির মালিকই ঘরটি তৈরি করেন। কিন্তু তখন তার জায়গাটির ভুতুড়ে আচরণ সম্বন্ধে একদমই জানা ছিল না। কাঠের বাড়ি বানাতে গিয়ে একইভাবে বারবার হেলে পড়ার কারণে তার টনক নড়ে। কী আর করা! হাজার চেষ্টা করেও সোজা করে ঘরটি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে শেষে দৈবের হাতেই এর ভাগ্য সঁপে দেন। কেনার পর পর মি. পার্থার নামের এই ভদ্রলোক জায়গাটি সমতল করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। ঘরটির দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কারো দিকে তাকালে দেখা যাবে সে হাস্যকরভাবে ঠিক কতটা পেছনের দিকে হেলে আছেন। আর ঘরের ভেতর রাখা টেবিলের কিনারা ঘেঁসে একদম বাইরের দিকে হেলে কোন একটি ছোট্ট মেয়ের অনায়াসে হেঁটে যাবার দৃশ্য দেখার পর নিজের চোখকেই বিশ্বাস করা কষ্টকর হবে। তারপরও নিজের চোখকে মেনে নিতেই হবে, কারণ পুরোপুরি একটি বাস্তব ছবি এটি। কেউ নিজে সেই টেবিলের কিনারা ঘেঁসে হাঁটলেও এই একই ঘটনা ঘটবে। কারণ আর কিছুই নয়, অভিকর্ষের আজব খেয়াল। আর কাঠের দেয়ালের সঙ্গে ৩৫ ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকা ছাদ ধরে ঝুলে থাকা কেউ ৪৫ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকবে। এ অবস্থায় তাকে মনে হবে গোল্ড মেডেল জেতা কোন বিশ্বখ্যাত জিমন্যাস্ট। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে উত্তর গোলার্র্ধের সব গাছই কোন কারণে বাঁকালে ঘড়ির কাঁটার দিকে বাঁকায়। কিন্তু মিস্ট্রি স্পটের গাছগুলো ঠিক এর উল্টো পাশে মানে দক্ষিণ গোলার্ধের গাছেদের মতো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। জায়গাটির অনেক গাছই এভাবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বেঁকে থাকতে দেখা যায়। ক্যালির্ফোনিয়ার তিনজন বিখ্যাত উদ্ভিদবিদেরও দাবি, এখানের গাছগুলো এমন আচরণ করে যেন তারা পৃথিবীর বিপরীত মানে নিরক্ষ রেখার অপর পাশে আছে। এই মিস্ট্রি স্পটে পুরোপুরি সমতল কোন কিছুকে মনে হয় অসমান। বার বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ধাঁধায় পরতে হয়। বৈজ্ঞানিক সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। পর্যটকদের অনেকের কাছেই প্রথম প্রথম এর সবকিছুই দেখার ভুল বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বারবার এসেছেন এমন অনেকেরই শেষ পর্যন্ত ভুল ভেঙেছে। তাদের বেশির ভাগের মতে জায়গাটির চুম্বকক্ষেত্রে বড় ধরনের গণ্ডগোল আছে, ঠিক রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো। ১৯৩৯-এর দিকে জায়গাটির অবাক করা সব বৈশিষ্ট জানতে প্রথম সার্ভে করা হয়। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে আবারও ক্যালির্ফোনিয়া থেকে তিনজন সার্ভেয়ার উপসাগরের দিকে সার্ভে করার জন্য আসেন। এসময় তারা এমন একটি অবাক করা এই জায়গা খুঁজে পান যেখানে তাদের যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকঠাক কাজ করছিল না। কিন্তু মিস্ট্রি স্পটের এতসব রহস্যময় আচরণের পেছনে আসলে কী আছে তার সমাধান এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...