চিত্রিত গুহা ও ব্লু গ্রোটটোসহ নানা কাহিনী

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ আজ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

(গত সপ্তাহে আমরা বেশ কিছু আশ্চর্যজনক গুহার খবর আপনাদের দিয়েছিলাম। আজ আরও দু’টি আশ্চর্যজনক গুহার খবরসহ বেশ কিছু মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।)

ব্লু গ্রোটটো

এই গুহাটি ইতালির উপকূলীয় দ্বীপ ক্যাপরির কাছে অবস্থিত। এটি বিশ্বের ১০টি আশ্চর্যজনক গুহার একটি। এ গুহাটির প্রবেশ মুখ বেশ সরু হওয়ায় এর ভেতরে ঢোকা বেশ অসুবিধাজনক। তবে ঢোকা যাবে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং গুহামুখে পানি কম থাকে।

চিত্রিত গুহা

এটি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। এ গুহাটি সান্তা ক্রুজ দ্বীপের একটি অংশ। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পানি গুহা। এটি ১ হাজার ২০০ ফুট পর্যন্ত সটান লম্বা।
এ গুহার প্রবেশ মুখ ১৩০ ফুট উঁচু। এ গুহার ভেতরের দেয়ালে প্রাচীন যুগের বিভিন্ন চিত্র আঁকা আছে যা খ্রিস্টপূর্বের ১৫ হাজার থেকে ১০ হাজার বছর আগের। এ ছাড়া এর ভেতর বিভিন্ন ধরনের শৈবাল আছে। আর এর ভেতরে আছে একটি জলপ্রপাত। গুহার প্রবেশ মুখে একটি ঝরনাও আছে।

হালকা পাতলা চাপাখি

চাপাখি Ciconiiormes বর্গের Scolopacidae গোত্রের পাখি। এদের হালকা পাতলা গড়ন, লম্বা পা, লম্বা ও সরু ঠোঁট। এ পাখি দলবদ্ধভাবে বা একাকি পানিতে হাঁটে। ঠোঁটের আগা অত্যন্ত সংবেদনশীল আর সেই সুবাদে কাদা ও বালুর ভেতর না দেখেই খাদ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। গায়ের পালক ফ্যাকাসে, পিঠের দিকে সাধারণত বাদামি বা ধূসর রঙের ডোরা আর বুক ও পেট হালকা হলুদ, তাতে ছড়ানো দাগ বা ফোঁটা। কাদাভূমিতে চাপাখির বড় বড় দল একত্রে খাবার খায় এবং আশেপাশে ওড়াউড়ি করে। উত্তর গোলার্ধের প্রজননক্ষেত্রগুলো পাখিদের ঠোঁটের গড়নের জন্য ততটা উপযুক্ত না হলেও সেখানকার পর্যাপ্ত কীটপতঙ্গ ছোট ঠোঁট কমবয়সীদের অচিরেই প্রচুর খাদ্য জোগায়। উন্মুক্ত প্রান্তরে বাসা বাঁধার আগে ওরা ওড়াউড়ি করে ও সুরেলা বাঁশির সুরে ডাকে। খানিকটা জায়গা চেঁছে (খড়কুটো দিয়ে বাসা বানায় না) সেখানেই ৩-৪টি ডিম পাড়ে। তবে ৩ প্রজাতির চাপাখি মাটিতে ডিম পাড়ে না। পূর্ব গোলার্ধের নিঃসঙ্গ চাপাখি (Solitary Sandpiper) এবং পশ্চিম গোলার্ধের সবুজ চাপাখি (Green Sandpiper) ও কাঠ চাপাখি (Wood Sandpiper) গাছে অন্য পাখির পরিত্যক্ত বাসা ব্যবহার করে। পৃথিবীতে চাপাখির প্রজাতি সংখ্যা ১২, তার মধ্যে বাংলাদেশে ৮ প্রজাতির রয়েছে যার সবগুলিই পরিযায়ী।

হাওয়াই দ্বীপের নিনে

হাওয়াই দ্বীপের জাতীয় পাখি নিনে। প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপে ইউরোপীয়রা আসার আগ পর্যন্ত হাজার ধরনের পশুপাখি এবং গাছপালা ছিল। এ পশুপাখি এবং গাছপালা পৃথিবীর অন্য কোথাও আর ছিল না। এদের একটি ধরন নিনে অথবা হাওয়াইন হাঁস। তিনশ’ বছর আগে ইউরোপীয়রা যখন এখানে আসে তারা তাদের নিজস্ব কিছু পশুপাখি সঙ্গে করে এনেছিল। বিড়াল, বেজি, শূকর, ছাগল, ভেড়া এ ধরনের প্রাণী তারা নিয়ে এসেছিল। বিড়াল, বেজি এ দ্বীপের পাখির ডিম ও বাচ্চা খেয়ে শেষ করেছে আর ছাগল, ভেড়া, শূকরেরা গাছপালা, লতাপাতা খেয়েছে। গাছপালা এ দ্বীপের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিজস্ব খাদ্য ছিল। এছাড়া মানুষ সঙ্গে করে নিয়ে এল বন্দুক। তারা মাংসের জন্য, পশমের জন্য, পালকের জন্য পশুপাখি শিকার করতে শুরু করল। অল্পদিনের মধ্যে হাওয়াই দ্বীপের নিজস্ব গাছপালা ও পশুপাখির অনেকগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল। ১৯৪০-এর দিকে হাওয়াইন হাঁস বিলুপ্তির কাছে এসে পৌঁছল। মাত্র তিরিশটি হাঁস তখন বেঁচে আছে। ১৯৫০ সালে ব্রিটেনের ওয়াইল্ড ফাউল ট্রাস্ট দুটি নিনে নিয়ে এল। মনে করা হয়েছিল এগুলো একটি পুরুষ এবং একটি স্ত্রী হাঁস। কিন্তু কিছুদিন পর দুটো হাঁসই ডিম দিল। মানে দুটোই মেয়ে। হাওয়াই থেকে আর একটি পুরুষ হাঁস আনা হল। পরের বছর এ হাঁসদের নয়টি বাচ্চা হল। এরপর থেকে নিনে বাড়ছেই। কয়েকটি নিনে হাওয়াইতে এনে তাদের নিজস্ব মুক্ত ভুবনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিপদমুক্ত অবস্থায় নিনেরা এখানে অবস্থান করছে।

বার্বি নামের সেই পুতুল

বারবারা নামে ছিল ছোট্ট এক মেয়ে। সে রোজ তার কাগজের পুতুলগুলোর এক-একটা নাম দিত। তার মা রুথ হ্যান্ডলার একদিন দেখলেন, মেয়ের পুতুলগুলোর নাম বড়দের নামে। সাধারণত ছোটরা নিজের বা বন্ধুদের নামেই পুতুলের নাম দেয়। কিন্তু বারবারা এমন করল কেন? ব্যাপারটা ক’দিন লক্ষ করে হঠাৎ রুথের মাথায় একটা আইডিয়া এল। তিনি তার স্বামী এলিয়টকে ডেকে মেয়ের কীর্তির কথা জানালেন। আর বললেন, বাজারে এমন একটা পুতুলের দরকার, যার পরিচয় হবে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে। ছোটরা এমন পুতুলই চাইছে। এলিয়ট ছিলেন ম্যাটেল কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। যেটি ছিল একটি পুতুল-কোম্পানি। কিন্তু এলিয়ট রুথের প্রস্তাবে উৎসাহী হলেন না। ক’দিন পর ছেলেমেয়েদের নিয়ে রুথ ইউরোপ বেড়াতে গেলেন।

সেখানেই বাইল্ড লিলি পুতুলটি দেখে তো তিনি চমকে উঠলেন। এ তো সেই পুতুল, যার ছবি তার মনে অনেকদিন ধরেই আঁকা হয়ে আছে। তিনটি পুতুল কিনে ফেললেন তিনি। একটা পেল ছোট্ট বারবারা, সে তো জানা কথা। বাকি দু’টো রুথ নিয়ে এলেন নিজের দেশ ইউনাইটেড স্টেটসে। ইঞ্জিনিয়ার জ্যাক রাইনের সাহায্যে সেই পুতুলের সাজগোজ কিছুটা পালটালেন, আর আদরের মেয়ে বারবারার নামে তার নাম দিলেন‘ বার্বি’। ১৯৫৯ সালের ৯ মার্চ ‘আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল টয় ফেয়ার’-এ বার্বির সঙ্গে বিশ্ববাসীর দেখা হল। তারপর? একটা কথাই বলা যায়। সে এল, দেখল এবং জয় করল। ম্যাটেল কোম্পানি বার্বি উপহার দিয়ে সারা বিশ্বের বাজারে আলোড়ন ফেলে দিল। ২০০৯ সালে ৯ মার্চ তার ৫০ বছর পালিত হয়েছে নিউ ইয়র্কে দারুণ ধুমধাম করে। তবে তার বয়স কিন্তু একটুও বাড়েনি। আজও এই সাড়ে এগারো ইঞ্চির রোগা পুতুল-মেয়েকে নিজেদের খেলনাবাটির সংসারে পৃথিবীর প্রত্যেক ভাষার ছোটদের চাই-ই চাই। ম্যাটেল কোম্পানি ১৯৬৪ সালে লিলি পুতুলের স্বত্ব কিনে নেয় ও লিলি পুতুল তৈরি বন্ধ হয়। বার্বি পুতুল তৈরি করতে থাকে তারা। প্রথম থেকেই বার্বির পরনে ছিল একটা সাদা-কালো সাঁতারের কস্টিউম, মাথায় তোলা ছিল স্টাইলিশ গগল্‌স। বাজারে বেরনোর সময় এক ‘টিন-এজ ফ্যাশন মডেল’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম বছরই তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার বার্বি বিক্রি হয়ে যায়। বোঝা যায়, রুথ কতটা দূরদর্শী ছিলেন। ম্যাটেল কোম্পানির দাবি, আজও সারা বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে নাকি তিনটি করে বার্বি বিক্রি হয়। জনপ্রিয়তায় বার্বি কিন্তু সত্যি বিরল সৌভাগ্যের দাবিদার। ১৯৭৪ সালে নিউ ইয়র্কের টাইম্‌স স্কোয়ারের এক সপ্তাহের জন্য কিছু অংশের নামকরণ করা হয় ‘বার্বি বুলেভার্ড’, এমন সম্মান বিশ্বের আর কোনও পুতুলের ভাগ্যে জোটেনি। অঢেল সম্পত্তির মালিক বার্বির পুরো নাম বারবারা মিরিসেন্ট রবার্টস। জগিং ড্রেস থেকে নাইটসুট, তার পোশাকের ফিরিস্তি শুরু করলে শেষ হবে না। চল্লিশটার উপর পোষ্যের মধ্যে কুকুর, ঘোড়া ছাড়াও একটা সিংহশাবক আর পান্ডাও আছে। তার গোলাপি রঙের বার্বিহাউস যেন স্বপ্ন দিয়েই গাঁথা। বেশ ক’টি নামীদামি গাড়িও ওর গ্যারাজে। এই বার্বি কখনও বা মহাকাশচারী। আসলে যে-কোনও ছোট্ট মেয়েই বার্বির মধ্যে দিয়ে তার সব ইচ্ছেগুলোকে মিটিয়ে নিতে পারে।

টুথব্রাশের জন্ম কথা

‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’ এই প্রবাদটি সবারই জানা। আর দাঁতের মর্যাদা দিতেই হয়ত তৈরি হয়েছিল টুথব্রাশের। এই টুথব্রাশ তৈরির পিছনে বেশ মজার ইতিহাস রয়েছে। টুথব্রাশ তৈরির আগে মানুষ বিভিন্ন গাছের ছোট ডাল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করত। দাঁত মাজার কাজে ব্যবহূত এসব ডালকে বলা হয় দাঁতন। ধারণা করা হয় এই দাঁতন ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সাল থেকে। তবে ১২ শতকের দিকে চীনে প্রথম এক ধরনের টুথব্রাশ তৈরি করা হয়। কথিক আছে, এই ব্রাশগুলো তৈরি করার জন্য ঘোড়ার লেজের পশম ব্যবহার করা হত। এসব ব্রাশের নামকরণ করা হয় ব্রিসল টুথব্রাশ। টুথব্রাশের সামনের দিকে পশমের মতো যে জিনিসগুলি লাগানো থাকে সেগুলোকে ব্রিসল বলে। এই ব্রাশে প্রথম ব্রিসল ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই এর নামকরণ করা হয় ‘ব্রিসল টুথব্রাশ’, এই ব্রিসল টুথব্রাশের ধারণা থেকেই আধুনিক টুথব্রাশ তৈরি করা হয়। ব্রিসল টুথব্রাশ তৈরি পর তা পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পরে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে বর্তমানে আমরা যে টুথব্রাশ ব্যবহার করি তার জনক ইংল্যান্ডে উইলিয়াম এডিস। এডিস ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ। ১৭৭০ সালের ইংল্যান্ডের আইন ভাঙার কারণে তাকে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে তার কোন কাজ না থাকায় এডিস সারাদিন বসে থাকত। বসে বসে ভাবতে ভাবতে একসময় এডিসের মাথায় ব্রিসল টুথব্রাশকে আরও উন্নত করার বুদ্ধি এল। সে একটা হাড় জোগাড় করে তাতে অনেকগুলো ফুঁটো করল। এবার জেলখানার প্রহরীদের কাছ থেকে কয়েকটি ব্রিসল টুথব্রাশও জোগাড় করল। তারপর সেই ফুটোগুলো দিয়ে ব্রিসল ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে আঠা দিয়ে আটকে দিল। আর তাতেই তৈরি হয়ে গেল একটা সুন্দর টুথব্রাশ। জেল থেকে বের হওয়ার পর এডিস ১৭৮০ সালে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই টুথব্রাশ বাজারে ছাড়ল। খুব অল্প সময়েই তা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করল। টুথব্রাশের সেই কোম্পানিটা এখনও আছে। যার নাম ‘উইজডম টুথব্রাশেস’, তবে আমেরিকার এইচ এন ওয়াডসওয়ার্থ ১৮৫৭ সালে টুথব্রাশের প্রথম পেটেন্ট করেন। তিনি অবশ্য টুথব্রাশে ব্রিসল হিসেবে বরাহের পশম ব্যবহার করেছিলেন। আমেরিকায় বাণিজ্যিকভাবে টুথব্রাশ বিক্রি শুরু হয় ১৮৮৫ সালে। তবে আমরা যে টুথব্রাশ ব্যবহার করি তাতে কিন্তু কোন পশুর পশমই ব্যবহার করা হয় না। পশুর পশমের পরিবর্তে এতে সিনথেটিক ব্রিসল ব্যবহার করা হয়। ১৯৩৮ সালে দ্যুপন্ট দ্য নেমোয়া এই সিনথেটিক ব্রিসলের টুথব্রাশ আবিষ্কার করেন। আর প্রথম ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ সুইজারল্যান্ডে তৈরি করা হয় ১৯৫৪ সালে। বর্তমানে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে টুথব্রাশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কেননা সুস্থ, সুন্দর ও রোগমুক্ত দাঁতের জন্য টুথব্রাশের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...