তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (১০-১১-১২)

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তথ্য প্রযুক্তির হাওয়া। তাইতো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া ভাবাই যায় না। আজ তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (১০-১১-২০১২) এ বিশ্বের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তির খবর তুলে ধরা হলো।

হারিয়ে যাচ্ছে মাউস!

প্রযুক্তি দুনিয়াতে সব কিছুই যেন দ্রুত বিপ্লব হয় আবার সেই বিপ্লব হওয়া আবিষ্কার দ্রুতই হারিয়ে যায়! কমিপউটার পরিচালনা করার জন্য সব থেকে বেশি ব্যবহার করা বস্তুটির নাম মাউস। প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেন এমন কিছু প্রতিষ্ঠান বলছে, কমিপউটার প্রযুক্তিতে দৃশ্যমান বস্তুর মধ্যে সবার আগে বিদায় নেবে মাউস।

১৯৬৩ সালে প্রথম কমিপউটারের মাউস তৈরি করা হয়। পালো আলতোর স্ট্যানফোর্ডে এটি তৈরি করেছিলেন ডগলাস ইঙ্গলবার্ট ও বিল ইংলিশ। দুটি চাকার ওপর একটি কাঠের টুকরা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটিতে সংযুক্ত ছিল জয়স্টিক ও হেড পয়েন্ট ডিভাইস। মাউসের আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ আনেন স্টিভ জবস। ১৯৮০ সালে ম্যাকিনটোশ পিসির পূর্বসূরি লিসা কমিপউটারে প্রথমবারের মতো ছোট মাউস আনা হয়। এরপর এটি বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রথম মাউস আবিষ্কার করার সময় ইঙ্গলবার্টের মেয়ে ক্রিস্টিনার বয়স ছিল ৭ বছর। বর্তমানে তার বয়স ৫৭, তিনি বলেন, বাবা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু ধারণা করতে পারতেন। মাউস যে এত দিন টিকে থাকবে এ সমপর্কে তিনি কখনও ভাবতে পারেননি। বর্তমানে ক্রিস্টিনার ২০ ও ২৩ বছর বয়সী দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের কেউই আর মাউস ব্যবহার করেন না। কারণ পিসি বলতে তারা চেনেন আইপ্যাডকে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরই একই অবস্থা। দেশটির স্যান হোসের সান অ্যান্টোনিয়ো এবং লুসার স্কুলে ৭০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখার কাজে আইপড ব্যবহার করে। এখানকার শিক্ষকরাও ম্যাকের টাচপ্যাড ব্যবহার করেন। এ দুটি ডিভাইসই মাউস নয়, স্পর্শনির্ভর। সান অ্যান্টোনিওর শিক্ষক হান্না টেনপাস বলেন, এখানকার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা কখনও মাউস ব্যবহার করেনি।

টাচপেড দিয়ে পেজ স্ক্রল আপ ডাউন করা

ল্যাপটপে স্ক্রল বাটন না থাকায় স্ক্রলিং করা ঝামেলা হয়ে যায় কিন্তু ল্যাপটপের টাচপেড দিয়েও স্ক্রল করানো যায়। ল্যাপটপে টাচপেডে এক আঙুল দিয়ে মাউসের কার্সার পয়েন্ট মুভিং করা হয়। একইভাবে দু’আঙুল রেখে স্ক্রলিং করা যায়। ল্যাপটপের টাচপেডের ওপর দু’আঙুল রেখে যে কোন একটা আঙুল উপর নিচে মুভ করে স্ক্রল আপ ডাউন করা যাবে।

স্কাইপি: সহজ পদ্ধতিতে ভয়েস চ্যাটিং

কোন সফটওয়্যার ছাড়াই শুধু লগইন করেই স্কাইপিতে চ্যাটিং করা যাবে। এজন্য িি.িরসড়.রস সাইটে গিয়ে স্কাইপ নির্বাচন করে লগইন করে ভয়েস বা ভিডিও চ্যাটিং করতে পারেন। আইএমওতে স্কাইপ ছাড়াও একই সঙ্গে এমএসএস, ইয়াহু, এআইএম/আইসিকিউ, গুগল, মাই সেপস বা ফেসবুকের আইডি দ্বারা লগইন করেও চ্যাটিং করা যাবে। এছাড়াও আইএমও এর মাত্র ৯৬৪ কিলোবাইট ডেক্সটপ ক্লাইন্ট দ্বারাও একই সঙ্গে এমএসএস, ইয়াহু, এআইএম/আইসিকিউ, গুগল, মাই স্পেস বা স্কাইপি দিয়ে চ্যাটিং করতে পারবেন।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিলে ফোরজি

ব্রাজিলে পরবর্তী বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হতে এখনও দু’বছর বাকি। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ার আগেই ফোরজি সেবা চালু করতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে দেশটিতে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। নকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্ক ও ফ্লেক্সট্রনিকস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড পরবর্তী প্রজন্মের ফোরজি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্দেশ্যে এখানে কারখানা চালু করেছে। ফুটবল খেলার শীর্ষ জনপ্রিয় দেশ ব্রাজিল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এতসব আয়োজন করছে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ফোরজি প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র কোষ ছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ব্রাজিলিয়ান পুলিশ অ্যান্টি বোম্ব রোবট ব্যবহার করছে। এছাড়া দেশটির সরকার আয়োজক শহরগুলোর স্টেডিয়াম ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরামদায়ক ও প্রযুক্তিবান্ধব করার চেষ্টা করছে। ব্রাজিলে অপহরণ, খুন ও গুম নিত্যদিনের ঘটনা হলেও দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে কোন মূল্যে বিশ্বকাপকে একটি নিরাপদ ক্রীড়ানুষ্ঠান হিসেবে প্রমাণ করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ফেশিয়াল রিকগনিশন সফ্‌টওয়্যার নামক উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্রাজিলিয়ান পুলিশের পরিকল্পনার একটি অংশ, যার অধীনে পুলিশ সদস্যরা ফেশিয়াল রিকগনিশন (চেহারা শনাক্তকরণ) ইকুইপমেন্ট রয়েছে এ রকম চশমা পরে দাঙ্গাবাজ শনাক্তকরণ ও তাদের আটক করতে পারবেন। চশমার সঙ্গে থাকা ছোট আকারের ক্যামেরা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৪০০ চেহারার ছবি তোলা যাবে। ছবিগুলো ১ কোটি ৩০ লাখ চেহারা সংরক্ষণ করা যাবে এমন কোন কেন্দ্রীয় কমিপউটার ডাটাবেজে পাঠানো হবে। এছাড়া ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবল ও ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিমিপক উপলক্ষে দেশটির সরকার ওয়েব পোর্টাল চালু করেছে। ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোয় বসছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বলে পরিচিত অলিমিপক গেমস। শুধু ব্রাজিলেই প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ব্যয় আগামী বছরের জন্য ১৫০ কোটি ডলার ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশই চতুর্থ প্রজন্মের সেলফোন নেটওয়ার্কজনিত। এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ড্রেস রিহার্সাল হিসেবে ২০১৩ সালে ব্রাজিলে কনফেডারেশন্স কাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সে লক্ষ্যে আয়োজক শহরগুলোয় ভালো মানের সেলফোন নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করার জন্য সেলফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অঙ্গীকারবদ্ধ। স্মল সেল টেকনোলজি নামে একটি নতুন প্রযুক্তি নকিয়া সিমেন্স চালু করতে যাচ্ছে। ফোরজির মতোই বিশ্বকাপ ফুটবলকে উদ্দেশ্য করে প্রতিষ্ঠানটি এ প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতে ১৭ শতাংশ আয় বেড়েছে এয়ারটেলের

গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় ভারতী এয়ারটেল এখন বিশ্বে চতুর্থ মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে উঠে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বিশ্বের ২০টি দেশে তাদের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। গত এক বছরে এর গ্রাহক ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তাদের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সার্বিকভাবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে এয়ারটেলের আয় ২০ হাজার ২৭৩ কোটি ভারতীয় রুপি। আগের বছর একই সময়ে তাদের আয় ছিল ১৭ হাজার ২৭০ কোটি ভারতীয় রুপি। বৃহসপতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এয়ারটেল এ তথ্য জানায়। বিশ্বের অন্যতম টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এয়ারটেলের এশিয়া ও আফ্রিকাজুড়ে ২০টি দেশে কার্যক্রম রয়েছে। এর মধ্যে টুজি এবং থ্রিজির পাশাপাশি মোবাইল সেবা, ফিল্ড লাইন, ব্রডব্যান্ড, আইপিটিভি, ইত্যাদি সেবা রয়েছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...