The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাবার অপচয় হচ্ছে!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ খাদ্যের অভাবে বিশ্বে কত মানুষই না মারা যাচ্ছে প্রতিদিন। কিন্তু সেই খাদ্য যদি অপচয় করা হয় তখন কেমন লাগবে আপনার? অথচ এমনই একটি খবর আজ আমাদের পড়তে হচ্ছে। প্রতিবছর সারাবিশ্বে যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয়, খামার থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অপচয় হয়ে যায় তার এক-তৃতীয়াংশ! যার পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি টন।

বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাবার অপচয় হচ্ছে! 1

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এভাবে প্রতিবছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাবার অপচয় হয়। ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে সদ্য শেষ হওয়া ইউনেপের টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে ‘ভবিষ্যৎ দুর্ভিক্ষ এড়ানো’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে ২৬ জুন টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং সুইডিশ ইন্সটিটিউট অব ফুড অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (এসআইকে) যৌথভাবে গত বছর জরিপ কাজটি সম্পন্ন করে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ভোক্তা সাধারণ প্রতিবছর প্রায় ২২ কোটি ২০ লাখ টন খাবার ভালো ও তাজা অবস্থায় ফেলে দেয়, যা গোটা সাব-সাহারান অঞ্চলে প্রতিবছরে উৎপাদিত খাদ্যের (২৩ কোটি টন) কাছাকাছি। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উৎপাদনস্থল থেকে ঘরের খাবার টেবিল পর্যন্ত যেতে যে লম্বা সময়ের দরকার পড়ে, এতে এই খাবার নষ্ট ও অপচয় হয়। প্রকৃতপক্ষে বেশির ভাগ খাবার নষ্ট হয় মধ্য ও উচ্চ আয়ের দেশে। সেখানকার ভোক্তারা ভালো ও তাজা খাবারও ফেলে দেয়। নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ খাবার কম অপচয় করে। তবে পরিবহনের সময় খাবার নষ্ট হয় বেশি। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় মাথাপিছু একজন লোক বছরে ২৮০ থেকে ৩০০ কেজি খাবার অপচয় করে। যেখানে আফ্রিকার গোটা সাব-সাহারান এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-এশিয়ায় মাথাপিছু খাবার অপচয় হয় তার অর্ধেকের (বছরে ১২০ থেকে ১৭০ কেজি) মতো।

এসআইকের গবেষক জেনি গুস্তাভসন দাবি করেন, কয়েকটি ধাপে খাবার নষ্ট ও অপচয় হয়ে থাকে। যেমন- কৃষি কাজে, ফসল কাটার পর, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ-পরিবহন এবং সবশেষে ভোক্তা পর্যায়ে খাবার অপচয় হয়। তার ভাষ্য মতে, উন্নয়নশীল দেশে ফসল কেটে ঘরে তোলা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি খাবার নষ্ট হয়। আর শিল্পোন্নত দেশে ৪০ শতাংশের বেশি খাবার অপচয় ঘটে খুচরা বিক্রয়স্থল ও ভোক্তা পর্যায়ে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির অধীন ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা তাদের মোট কেনা খাবারের ২৫ শতাংশ ফেলে দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভোক্তারা ফেলে দেয় মোট কেনা খাবারের এক-তৃতীয়াংশ। এর কারণ বাজারে নানা বিপণন প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ক্রেতারা চাহিদার চেয়ে বেশি খাবার কেনে। মেয়াদোত্তীর্ণ সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেও তারা অনেক খাবার ফেলে দেয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, উন্নয়নশীল দেশের খাদ্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন ছোটখাটো কৃষকরা। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, তাদের উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী যেন দ্রুত পরিবহন ও বিপণন সুবিধা পায়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এ ধরনের খাবার বিপর্যয় থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ভারতের মতো উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশকে কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার, সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা এবং বাজার সুবিধা গড়ে তোলার আহ্বান জানায় ইউনেপ।

খাদ্য বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হচ্ছে তা রোধ করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

Loading...