ক্রমাগত লোকসানের কারণে চিনিকল গুলো টিকিয়ে রাখা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ দেশের কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারী শিল্প হিসেবে সরকার চিনি কল গুলোকে টিকিয়ে রাখতে আন্তরিক হলেও ক্রমাগত লোকসানের কারণে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সমপ্রতি বিএসএফআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় শিল্পপ্রতিমন্ত্রী এমন মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসানের কারণে সদিচ্ছা থাকার পরও চিনিকলগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। লোকসানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে এর প্রতিকারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশের চিনিকলগুলোতে যে পরিমাণ চিনি উৎপাদন হয়ে থাকে তাতে করে দেশের চিনির চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু ব্যবস্থাপনার নানা জটিলতা ও রাজনৈতিক কারণে প্রতিবছন প্রচুর টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারের সংশ্লিষ্ট এই বিভাগকে।

তবে এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চিনিকল রক্ষায় যে কোনো মূল্যে লোকসানের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি চিনিকলে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়া দরকার। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এ লোকসানি অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। অপরদিকে এই সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নেয়া কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আর তাই চিনিকলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই চিনিকলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দেশের বহু শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে।

চিনি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতারা মনে করেন, এই শিল্পকে লাভজনক করতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে এবং একই সঙ্গে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য লোককে এই সব প্রতিষ্ঠানের গুরু দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সৎ ও যোগ্য লোক এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে দেশের চিনিকলগুলো লোকসান গোনার কথা নয়। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যদি এই চিনি শিল্পে লাভ করতে পারে তাহলে আমরা কেনো লোকসান দেবো। এ বিষয়ে সরকারকে বিষদ আলোচনার মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আর সরকারের এই সেক্টরে নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ সব বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখতে হবে। আর তাহলে এই চিনি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। কারণ এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন ২০১২-১৩ আখ মাড়াই মৌসুমে রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩শ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে এ পরিমাণ চিনি উৎপাদন করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ মাসেই রাজশাহী, নাটোর ও নর্থ-বেঙ্গল সুগার মিলে একযোগে আখ মাড়াইয়ের মাধ্যমে মৌসুমের চিনি উৎপাদন শুরু হবে। অপরদিকে পাবনা সুগার মিল আগামী মাসের ৭ তারিখে উৎপাদন শুরু করবে বলে জানা গেছে।

Advertisements
Loading...