প্রসঙ্গ: পদ্মা সেতুর দুর্নীতি ॥ দুই আবুলকে বাদ দিয়েই দুদকের মামলা!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ অবশেষে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে বাদ দিয়ে অপর ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
2 Abul
বাংলাদেশ নিউজ২৪ডটকম জানিয়েছে, ১৭/১২/২০১২এজাহারের বর্ণনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম থাকলেও পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় কৌশলে তাদের এড়িয়ে গেলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এ দুজনকে বাদ দিয়েই সোমবার ১৭ ডিসেম্বর বেলা আড়াইটায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে রাজধানীর বনানী থানায়।

তবে এজাহারে পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীর অপরাধ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তকালে খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। দুদকের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে তদানিন্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, কানাডিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিন ও অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ দেন। এসএনসি লাভালিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রীর সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সাবেক পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী যোগাযোগ স্থাপনকারীর ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া রমেশ শাহদর (এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট) নোটবুকে কাজ পাওয়ার পর পদ্মা পিসিসি (প্রজেক্ট কমার্শিয়াল কস্ট/ প্রজেক্ট কমিটমেন্ট কস্ট) হিসেবে দরপত্র মূল্যের বিভিন্নি পার্সেন্টেজ প্রদানের হিসাবে তাদের বিষয়ে উলেস্নখ রয়েছে। তবে আলোচ্য ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রমুলক কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনে আবুল হোসেন চৌধুরী ও সৈয়দ আবুল হাসানের ভূমিকা রাখার বিষয়ে অপরাপর সাক্ষীদের সাক্ষ্য বা পরিপূরক সাক্ষ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অপরাধ সংঘটনে সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীর অপরাধ সংশিস্নষ্টতার বিষয়টি তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে।’

মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক সেতুসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট মো. মোস্তফা এবং এর ৩ কর্মকর্তা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহা ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল।
Padma-Bridge1
এ ৭ জনের বিরুদ্ধে এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ১৬১ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অপরাধ করার অভিপ্রায়ে অপরাধমুলক ষড়যন্ত্র করেন। যা দ-বিধির ১২০ (বি) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্মাণ কাজে পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পের নির্মাণ তদারকি পরামর্শক হিসেবে এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনাল কাজ পেলে ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হতো।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমকে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৮ অক্টোবর নিয়োগ করা হয় মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীকে। তিনি তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আবুল হোসেনকে নির্দোষ উলেস্নখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বিশ্বব্যাংক অসন্তোষ প্রকাশ করলে দুদকের ৪ জন উপপরিচালককে তদন্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা হয়।

এ পর্যায়ে ১৪ অক্টোবর ও ১ ডিসেম্বর দু’দফায় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঢাকা সফরে এসে কিছু গাইডলাইন দিয়ে যায়। গত ৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, দুদক নিরপেক্ষ তদন্ত না করলে পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না দাতা সংস্থাটি।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১শ’ ২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে গত ২৯ জুন। পরে সরকার অভিযোগ অনুসন্ধানে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করার পর ‘শর্তসাপেক্ষে’ বিশ্বব্যাংক আবার অর্থায়নে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।

Advertisements
Loading...