The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ (০২-০১-১৩)

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
Hati-009
ভারতে ট্রেনের আঘাতে মারা গেছে পাঁচ হাতি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উড়িষ্যা রাজ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনের আঘাতে পাঁচ হাতি মারা গেছে। হাতিগুলো রাম্ভা বনাঞ্চলীয় এলাকায় রেলপথ পার হতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। উড়িষ্যা রাজ্যের স্থানীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা আরএন মহাপাত্র এ কথা জানান। উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ২৬,০০০ হাতি রয়েছে যা দেশটির ঐতিহ্যগত প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত।

প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছরে উড়িষ্যা রাজ্যে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ হাতি মারা গেছে। তবে অভিযোগ আছে, এর বেশির ভাগই স্থানীয় কৃষকদের বিষপ্রয়োগের ফলে মৃত্যুবরণ করেছে। এদিকে এ ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।

কড়ি যখন টাকা ছিল

সামান্য সামুদ্রিক শামুকের খোল অথচ কতই না মূল্যবান ছিল এক কালে! কড়ি ছিল বিনিময়ের মাধ্যম। কিন্তু আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি কড়ি দিয়ে কেনাকাটার সে-যুগের কথা। কড়ি মালদ্বীপের একটি সামুদ্রিক শামুকের খোল। এটি দেখতে ক্ষুদ্র ও উজ্জ্বল। এক কালে বাংলায় বিনিময়-মাধ্যম হিসেবে কড়ি ব্যবহূত হত। প্রাচীন ও মধ্যযুগেও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় এর ব্যবহার ছিল সবচেয়ে বেশি। সীমিত আকারে হলেও চীন ও ইউরোপেও কড়ি বিনিময়-মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হত। এটি সর্বত্র কড়ি নামে প্রচলিত থাকলেও এর আঞ্চলিক নামও ছিল, যেমন, সংস্কৃত ভাষায় কড়ির নাম ছিল কপর্দক। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য আখ্যানে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যম হিসেবে কড়ি বা কপর্দকের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তৃত উল্লেখ রয়েছে। এখনও কড়ি ও কপর্দক শব্দদ্বয় বাংলা ভাষায় চালু আছে, তবে ঠিক টাকা অর্থে নয়, আর্থিক পরিস্থিতি বোঝায় এমন অর্থে। সে যুগে রৌপ্যমুদ্রা প্রচলিত থাকলেও এর ব্যবহার শহর ও বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামাঞ্চলে কড়িই ছিল ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান মাধ্যম। মধ্যযুগীয় ঐতিহাসিক মাসুদী ও আবুল ফজল রচিত বিবরণীসমূহে বাজারমূল্য ধরা হয়েছে কড়ির মানদণ্ডে। বস্তুত, ভূমিরাজস্ব সংগ্রহে শস্যকর থেকে মুদ্রাকর ধাপে উত্তরণের প্রথম পর্বে কড়ি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় মুঘল আমলের রাজস্ব বন্দোবস্ত থেকে। সুলতানি আমলেও কড়ি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। মুঘল আমলে রায়তরা শস্য বা কড়ি যে কোনও মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে পারত। বাংলার সীমান্ত এলাকার রংপুর ও সিলেট জেলায় উনিশ শতকের শেষনাগাদও কড়ির প্রাধান্য ছিল।

কড়ি মুদ্রার সবচেয়ে অভিনব দিক হল এর গণনা-রীতি। এ রীতি কড়ির ব্যবহারের শেষযুগ পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল। কড়ির গণনাবিধি ছিল : ৪ কড়ি = ১ গণ্ডা; ৫ গণ্ডা = ১ বড়ি; ৪ বড়ি = ১ পণ; ১৬ পণ = ১ কাহন; এবং দশ কাহন = ১ টাকা (প্রায় ৩৪০ রতি ওজনের রৌপ্যমুদ্রা)।

কড়ির আরেকটি হিসাব-রীতি হচ্ছে : ৪ কড়ি = ১ গণ্ডা; ২০ গণ্ডা = ১ পণ; ৪ পণ = ১ আনা; ৪ আনা = ১ কাহন; ৪ কাহন = ১ টাকা (২৮,৮৮০ কড়ি), ভৌগোলিক আবিষ্কার-উত্তর যুগে ইউরোপীয় দেশগুলি প্রচুর কড়ি আমদানি করত। তবে তা দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহূত হত না। এসব কড়ি দিয়ে আফ্রিকার বাজার থেকে দাস ক্রয় করা হত। তখন আফ্রিকার একমাত্র বিনিময় মাধ্যম ছিল কড়ি।

দেওবন্দে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ

ছাত্রদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চ্যান্সেলর মাওলানা আবদুল খলিল ছাত্রদের মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ফোনের অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে এমন অভিযোগের পর শিক্ষা সংক্রান্ত কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ক্যামেরা-ভিডিও ফিচারবিহীন সাধারণ মোবাইল নিষিদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর কর্তৃপক্ষ ১৪ জন ছাত্রের কাছ থেকে স্মার্টফোন জব্দ করে ভেঙে ফেলে। ওসব ছাত্রকে পুনরায় এমন মোবাইল ব্যবহার না করতে সতর্ক করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে না। কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের কিছু করার না থাকায় বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তিন রাজ্যে সমকামী বিয়ের হিড়িক

নতুন বছরকে বরণ করতে মঙ্গলবার রাতভর সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছিল নানা মাত্রিক আয়োজন। এ রাতে খুব কম মানুষই ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। তারা নতুন বছরে জীবনকে উৎফুলস্ন আর আনন্দের মাঝে কাটানোর যেন দীক্ষা নিয়েছে। তবে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বসেছিল অন্যরকম এক আনন্দ আয়োজন। এদিন থেকেই সেখানে সমকামীতে অর্থাৎ পুরুষের সঙ্গে পুরুষের আবার নারীর সঙ্গে নারীর বিয়ে বৈধতা পেয়েছে। গত ৬ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এর স্বপক্ষে ভোট দিয়ে এ ধারাকে বৈধতা দিয়েছে জনগণ। তাই ম্যাসন-ডিক্সন লাইনে প্রথম বিয়ের পিড়িতে বসলেন দুই পুরুষ জেমস স্কেল (৬৮) ও তার বন্ধু উইলিয়াম তাসকার (৬০), সিটি হলে এ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাল্টিমোরের মেয়র স্টিফানি somokamiরাউলিং-ব্লেক। জেমস স্কেল ও উইলিয়াম তাস্কারের মধ্যে ৩৫ বছর ধরে সমকামিতা চলছে। তবে এবারই তারা বৈধতা পেলেন। তাই বিয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে জেমস স্কেলস বলেন, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে আমাদের বৈধতা দেয়া হয়েছে। আমরা প্রকাশ্যে বিয়ে করতে পারছি। এ সিটি হলেই ওই রাতে বিয়ে করেন আরও ৬ জোড়া পুরুষ। ওই রাজ্যের এইতো শুধু একটি অংশের খবর। এর বাইরে রাজ্যজুড়ে কতগুলো সমকামীর বিয়ে হয়েছে তার সঠিক হিসাব কেউ বলতে পারেন না আপাতত। তবে এ বিয়ে বৈধতা পাওয়ায় সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে সমকামীতে বিয়ে। তাই প্রকাশ্যে সাধারণ বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো আয়োজন করা হয় এ বিয়ে। বাল্টিমোর থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে আরও বলা হয়, জেমস স্কেল ও উইলিয়াম তাসকারের বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়র রাউলিং ব্লেক বলেছেন, সত্যিকার বিয়ে হলো বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক। এ রাতে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ব্রিজিত রোনেত। তিনি বয়ে করেছেন লিসা ওয়ালথার নামে আরেক নারীকে। তিনি বিয়ের পর বলেছেন, আমি এতদিন স্বপ্ন দেখতাম কেন্দ্রীয়ভাবে সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনে মেরিল্যান্ড, মেইনে ও ওয়াশিংটনে সমকামীতে বিয়েকে বৈধতা দিয়েছেন ভোটাররা। এর ফলে মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পরই ওই তিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় সমলিঙ্গে বিয়ের উৎসব। ব্রিজিত রোনেত (৫১) বিয়ে করেছেন লিসা ওয়ালথার (৫১)কে। তাদের বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে সিটি হলে। এরপর ব্রিজিত রোনেত বলেছেন, ৬ই ডিসেম্বর থেকে সমকামী দম্পতিরা বিয়ে করার লাইসেন্স পাচ্ছেন। তবে তা কার্যকর হয়নি নতুন বছর না আসা পর্যন্ত। ২০১১ সালে এ রাজ্যে সমকামী বিয়ের প্রস্তাব রাজ্যের সিনেটে পাস হয়। কিন্তু হাউজ অব ডেলিগেশনে তা স্থগিত ছিল। বাল্টিমোরের আর্চবিশপ এডউইন ও’ব্রাইন একটি চিঠিতে লিখেছিলেন গভর্নরের বিশ্বাসের বিপরীত ধারণা হলো সমলিঙ্গে বিয়ে। তারপর থেকেই তা আটকে যায়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...