নানা বিড়ম্বনায় বিশ্বের স্থূলকায় ব্যক্তি ইংল্যান্ডের মেসন

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বিশ্বের সবচেয়ে স্থূলকায় ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাফোল্কের বাসিন্দা পল মেসন (৫১), পেশায় পোস্টম্যান। সাবেক এ খেতাবধারী ৪৪৫ কেজি ওজন নিয়ে তার মহাবিড়ম্বনার যেনো শেষ নেই। তাই তাকে শেষ পর্যন্ত ওজন কমাতে হয়েছে।
MASON
প্রায় আধ টন ওজনের এ মানুষটি দাঁড়ানো বা হাঁটার কথা ভাবতেই পারতেন না। মেসনকে একবার হাসপাতালে নেয়ার জন্য তো তার বাড়ির সামনের দেয়ালটাই ভেঙে ফেলতে হয়েছিল। ছোট ক্রেনজাতীয় যন্ত্রসহ একটি ট্রাকের সাহায্যে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলো। তার সৌভাগ্য যে, অবিশ্বাস্য এ ওজনটাও কমেছে অবিশ্বাস্যভাবেই। ২৮৬ কেজি ওজন তার শরীর থেকে ঝরে গেছে। বর্তমানে তার ওজন ১৫৯ কেজি। দুই-তৃতীয়াংশ ওজন কমে যাওয়ার পর এখন তিনি নতুন বিড়ম্বনায় পড়েছেন শরীরের অতিরিক্ত চামড়া নিয়ে। দুই বছর আগে তার দেহে অতিরিক্ত মেদ কমাতে একটি এনএইচএস সার্জারি করানো হয়েছিল। তার পরেই এই অভূতপূর্ব ফলাফল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার ক্যালোরির খাবার খেতেন মেসন। এখন তিনি ওজন আরও কমাতে বদ্ধপরিকর।

চিকিৎসকরা বলছেন, তার শরীরের ওজন একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত ওজন কমানোর সার্জারি করা উচিত হবে না। অবশ্য সে জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। মেসন জানিয়েছেন, তার শরীরের অতিরিক্ত চামড়ার জন্য তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। হাঁটলেই চামড়া ঝুলে পড়ে। শুধু তাই নয়। চামড়ার অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাঁটুর ওপরের ত্বক ফেটে যায়। তাছাড়া সার্জারির মাধ্যমে অতিরিক্ত চামড়া কমিয়ে ফেললে ওজনটাও আরও কমবে। মেসন একটি বই লিখছেন। সেখানে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা লিখছেন। মানুষকে খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সমস্যা বা ‘ইটিং ডিসঅর্ডার’ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। অলঙ্কার সামগ্রীর প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল মেসনের। নিজের জুয়েলারির ব্যবসা চালু করলেন তিনি। এখন তার ইচ্ছা ড্রাইভিং শেখা, ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাওয়া ও একজন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সংসার সাজানো। নিজের জীবনটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তিনি। সবকিছুকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে ও উপলব্ধি করতে চান।

মেসনের অবিশ্বাস্য এ ওজনের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তার খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে। কম্পালসিভ ইটিং ডিসঅর্ডারে ভুগতে থাকায় তিনি একজন স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় ১০ গুন বেশি খাবার খেতেন। তিনি জানান, ২০ বছর বয়সের পর তার পিতার মৃত্যুর সময় থেকেই এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। এমনকি তিনি তার পোস্টম্যানের চাকরিটা পর্যন্ত ছাড়তে বাধ্য হলেন। ওজন এতোটাই সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল যে, তিনি চিঠিগুলো ঠিকমতো বিলি করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। শেষ পর্যায়ে তার অতিরিক্ত ওজন মেসনকে বিছানায় শুতে বাধ্য করে। নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা এমনকি দাঁড়াতেও পারতেন না তিনি। স্থানীয় কাউন্সিলের পরিচর্যাকারীরা সর্বক্ষণ তার খোঁজ-খবর রাখতেন। ২০০২ সালের ঘটনা। হার্নিয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের তারিখ চলে এলো। দমকল কর্মীরা তার বাড়িতে গেলেন। তিনি আগে যে বাড়িতে থাকতেন সেটার সামনের দেয়াল ভাঙলেন। ছোট ক্রেনজাতীয় যন্ত্রসহ একটি ট্রাকের সাহায্যে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলো। এরপর মেসনের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ একটি বাড়ি দেয়া হলো। তিনি যাতে একটু নড়াচড়া করতে পারেন সেভাবে বাড়ির দরজাগুলো তৈরি করা হলো। আর ওজন বেশ খানিকটা কমার পর মেসন এখন তার মোটরচালিত হুইলচেয়ারে চড়ে বাইরে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কিছু দূর হাঁটতেও পারেন।

তাহলে বুঝুন অতিরিক্ত সব কিছুই খারাপ সেটি মোটা-চিকন কিন্বা অন্যকিছুই হোক। -অনলাইন পত্রিকা অবলম্বনে।

Advertisements
Loading...