The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

যেখানে আছে সাদা বালুর মরুভূমি

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
White Balu-2
যেখানে আছে সাদা বালুর মরুভূমি

নুব্রায় গেলে দেখা মেলে সাদা বালুর মরুভূমি। লাদাখের সৌন্দর্য নয় উপত্যকা নুব্রা যেন স্বপ্নের দেশ। উপত্যকার গা ছুঁয়ে গিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন সিল্করুট। এখানেই রয়েছে শীতল মরু অঞ্চল। সাদা বালুর বিস্তৃত এ মরু অঞ্চল নুব্রার প্রধান আকর্ষণ। মরু অঞ্চলে দেখা মেলে দু’কুঁজ বিশিষ্ট ব্যাকট্রিয়ান উট। লে থেকে দু’দিনের ট্রিপে যাওয়া যায় নুব্রা উপত্যকায়। নুব্রা উপত্যকাকে ঘিরে আছে কারাকোরাম পর্বতমালা। উপত্যকা দিয়ে বয়ে চলেছে নুব্রা আর শিয়ক নদী। লে থেকে দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটার। লে থেকে সাউথ পুল্লু হয়ে প্রথমে আসতে হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরপথ খারদুংলা পাসে। উচ্চতা ১৮,৩৮০ ফুট। দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। এখানে পাসের ওপর দাঁড়িয়ে খুব কাছ থেকে দেখা যায় হিমশৃঙ্গের সারি। এরপর নর্থ পুল্লু, খারদুং গ্রাম, খালসার হয়ে যাওয়া যায় নুব্রা উপত্যকায়। খালসার থেকে একটি পথ গিয়েছে হুন্ডারের দিকে, আরেকটি গিয়েছে সুমোরের দিকে।

সুমোর গ্রাম গড়ে উঠেছে প্রাচীন সিল্করুটের গা ঘেঁসে। এর লাগোয়া গ্রামটিও সবুজে সাজানো। উপত্যকার সৌন্দর্য অনবদ্য। এ দিকে নুব্রার উচ্চতা প্রায় ১১ হাজার ফুট। খুব সবুজ এ উপত্যকার একাংশ। নুব্রা উপত্যকার বড় জনপদ ‘ডেসকিট’, ডেসকিটে রয়েছে প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো খাদান তাসিচোলিং মনস্ট্রি। পাহাড়ের মাথায় বানানো এই মনাস্ট্রিতে রয়েছে নানা রূপের মূর্তি, গৌতম বুদ্ধের চক্রপানি মূর্তি। মূর্তিগুলোর বেশির ভাগই মুখ ঢাকা। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিশেষ উৎসবের দিনে একবার দেবীর মুখ অনাবৃত করা হয়। নুব্রা থেকে দেখা যায় সাসের কাংড়ি হিমশৃঙ্গ। এখানের হুন্ডার গ্রামেও রয়েছে সাদা বালুর মরুভূমি।

নুব্রা উপত্যকায় এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এর আশপাশে রয়েছে বিচিত্ররূপী পাহাড়। অপরদিকে সিল্কু নদের খরস্রোতা রূপ বাড়তি পাওনা। এখানের সাদা বালুর মরুভূমিতে দু’কুঁজো উটে চেপে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যায়। ক্যামেল রাইডিং চালু থাকে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা ও বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত। হেঁটেও ঘোরা যায় কোল্ড ডেজার্টের বালিয়াড়িতে।

পর্বতের নাম রকি

রকি পর্বতমালা মেক্সিকোর উত্তরপ্রান্ত থেকে শুরু হয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত। কানাডার এই পর্বতমালা ব্রিটিশ কলম্বিয়া এবং আলবার্ট রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে আছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, আজ থেকে প্রায় দশ কোটি বছর আগে অসংখ্য চূড়াবিশিষ্ট বিশাল এই পর্বতমালা খুবই ধীরগতিতে ভূত্বক ভেদ করে আকাশে মাথা তুলেছিল। এই পর্বতমালার পঞ্চাশটা শৃঙ্গের উচ্চতা দশ হাজার ফুটের বেশি। বর্তমানে কানাডিয়ান রকিস এক বিরাট পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। এখানকার শান্ত পরিবেশে প্রকৃতি ছড়িয়ে রেখেছে বরফাবৃত শৃঙ্গ ঝকঝকে হিমবাহ, ছবির মতো হ্রদ, ছোট-বড় ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির এক চিত্রকল্প। এখানেই রয়েছে বানফ শহর। এখান থেকে চওড়া পাকা রাস্তা চলে গেছে মাউন্টেনের দিকে। টানেল মাউন্টেনে কোনও টানেল নেই। একদা কানাডা প্যাসিফিক রেলওয়ে এই পাহাড়ে টানেল কেটে লাইন পাতার কথা ভাবলেও আর্থিক কারণে সেই পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে এই পাহাড়ে টানেল বানানো হবে এই ভাবনা থেকেই এর নাম হয়ে গেল টানেল মাউন্টেন। এখনও তাই চলছে। একটু পাকদণ্ডী হয়ে রাস্তা ক্রমশ ওপরে উঠছে। এর সামনে রয়েছে মাউন্ট রুন্ডাল এবং সালফার মাউন্টেনের প্রান্তরেখা। আরেকটু উপরে স্প্রে রিভার এবং বো রিভারের সঙ্গমস্থল। তার একটু উপরে ন্যাড়া খোলা জায়গা। এখানে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ে বানফ শহরের পুরোটা।

এছাড়াও দেখা যায় রুন্ডাল পর্বতের ভিত্তি থেকে শিখরে উঠে যাওয়া। আরেকটা মজার ব্যাপার কি, এখানে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত বানানো হয়েছে পাটাতন রাস্তা। কাঠের শক্ত শক্ত খুঁটির ওপর লাগানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। ওপরে সর্বত্রই কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া। প্রতিটি বাঁকেই রয়েছে অবজার্ভেশন ডেক। নিচে তাকালে দেখা যায় স্ট্রবেরি, স্প্রুস, ফার ইত্যাদি গাছের নিচে জমাটবাঁধা বরফ এবং তারই ফাঁকে ফাঁকে লতাগুল্ম ও আগাছা জাতীয় ছোট ছোট গাছ। সামনের দিকে একটার পর একটা নাম না জানা পর্বতশৃঙ্গ। একেকটা একেকরকম সুন্দর। কোনওটা পুরোপুরি বরফাবৃত, আবার কোনওটার শৃঙ্গটুকু। এখানের বো উপত্যকা দিয়ে বয়ে চলেছে ক্ষীণকায় বো নদী, নদীর ওপরের অনেক শিখর যুক্ত স্য-ব্যাক রেঞ্জ। বানফ শহর থেকে যাওয়া যায় জেসপার ন্যাশনাল পার্কের কলম্বিয়া আইসফিল্ড। যাওয়ার জন্য রয়েছে বাস। ভাড়া নেয়া হয় পঁচিশ ডলার করে। কলম্বিয়া আইসফিল্ড হল উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলের বৃহত্তম বরফঢাকা অঞ্চল। ৩২৫ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে এর বিস্তৃতি। এই বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হল উইলকক্স পাস। এখানে দাঁড়িয়ে আইসফিল্ডের ছ’টা বড় হিমবাহের তিনটেই পরিষ্কার দেখা যায়। এখানে দাঁড়িয়ে যে কেউ জানতে পারে, যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে সেটাও কিন্তু বরফের ওপর। আদি-অনন্তকাল ধরে জমাট বেঁধেছে এই বরফ। এর গভীরতা ৯৮৪ ফুট। যারা এখানে প্রথম যান তারা তো অবাক হন এই ভেবে যে, বাহ্‌ বরফের ওপর তো দাঁড়িয়ে রয়েছি। কোনও কোনও ট্যুরিস্ট এখানে এসে পার্কের সরঞ্জামকে সঙ্গে নিয়ে যান আথাবাস্কা গ্লোসিয়ার বা আথাবাস্কার চূড়ার দিকে, তার খরচ অনেক। এ পথের অর্ধবৃত্তাকার গিরিখাত ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হয়ে আছে। শত শত বছরের জলধারার ধাক্কায় চুনাপাথরের দেয়ালের গায়ে তৈরি হয়েছে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক ভাস্কর্য। এখানে ক্যানিয়নের গভীরতা প্রায় ১২৫ ফুট আর এর উপর থেকে অবিরাম ঝরে পড়ছে একটি ছোটখাটো জল প্রপাতের ধারা। জলের পতনের শক্তিতে নরম পাথর ক্ষয়ে গিয়ে শক্ত পাথরের গায়ে তৈরি হয়েছে আশ্চর্য আঁকিবুঁকি। এখানে আবহাওয়া অন্যরকম, যেন সর্বত্র কুয়াশাময় আচ্ছন্নে ঢাকা থাকে দিনের সারাক্ষণ।

আফ্রিকার পিগমি হিপো

পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন, আইভরি কোস্ট, গিনি আর লাইবেরিয়ার আদিবাসীরা মনে করতেন, পিগমি হিপো জন্তুরা খুবই ভয়ংকর। ওখানের প্রথম উপনিবেশিকরা মনে করতেন, ওরা গভীর অরণ্যের দৈত্যাকার বরাহ। উপকথা প্রচলিত ছিল যে, সুখের মধ্যে থাকা হিরের দ্যুতির সাহায্যে ঘন অন্ধকারেও ওরা অরণ্যে বিচরণ করতে পারে। ১৮৫৩ সালে প্রকৃতিবিদ স্যামুয়েল জি মর্টন প্রথম জানতে পারেন যে, পূর্বোক্ত ধারণাগুলির মতো অসংখ্য উপকথা ও রূপকথার আড়ালে থাকা প্রাণীটি প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকার অতিপরিচিত জলহস্তি বা হিপোর এক জ্ঞাতি ‘পিগমি হিপো’।

পিগমি হিপোর কাঁধের উচ্চতা ৭৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। এদের ওজন ১৮০ থেকে ২৭৫ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। যুদ্ধ, কৃষি ও কাঠের ব্যবসার চাপে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অরণ্য ধ্বংসের ক্রমবর্ধমান হার পিগমি হিপোদের প্রধান বিপদ। অত্যন্ত বিরল এবং নিশাচর হওয়ার জন্য কম হলেও শিকারের সমস্যাও আছে। তবে আশার কথা এই যে, পিগমি হিপোরা বন্দি অবস্থাতেও প্রজননে সক্ষম এবং বহু চিড়িয়াখানাতেই সফল প্রজনন সম্ভব হয়েছে। সেখান থেকে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে বন্য পরিবেশে পুনর্বাসন সম্ভব। পিগমি হিপোরা দলে থাকার বদলে একা একা থাকতে বেশি পছন্দ করে। এরা প্রায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটায়। কখনও সখনও দুটি বা তিনটির অস্থায়ী জোট দেখা যায়। দিনের গরম সময়টা জলা বা নদীর ধারে কাটালেও পুরো রাত্রিটা এবং ভোর ও সন্ধ্যাবেলা এরা ডাঙাতে খাবারের খোঁজেই কাটায়। উন্মুক্ত প্রান্তরের বদলে পিগমি হিপো ঘন রেইনফরেস্ট আর লো-ল্যান্ড ফরেস্টের বাসিন্দা। এরা নানা রকম ফল, পাতা, ফার্ণ আর ঘাস খায়। কখনও বা পিগমি হিপোরা নদী বা জলার তীরে পানিতে বড় হয়ে যাওয়া ভোঁদড়দের গর্তে বিশ্রাম নিয়ে থাকে।

অরণ্যের নাম দশটি গ্রাম

কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে দাচিগ্রাম ২২ কিলোমিটার দূরে। ১৪১ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এই অরণ্য। ‘দাচিগাম’-এর আক্ষরিক অর্থ ‘দশটি গ্রাম’। কথিত আছে, এই অঞ্চলকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করার সময় এর মধ্যে অবস্থিত ১০টি গ্রামকে স্থানান্তরিত করা হয়। তাই এ অরণ্যের নাম দাচিগ্রাম। পশ্চিম হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে গঠিত এ দাচিগাম ন্যাশনাল পার্ক। ৫ হাজার থেকে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতার মধ্যে এর বিস্তৃতি। উচ্চতার তারতম্যের জন্য অরণ্য প্রকৃতি আর বন্য প্রাণের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এ অরণ্য। এ অরণ্যে কোথাও রয়েছে পাহাড়ের ঢালে গ্রাসল্যান্ড। কোথাও বা ঘন কাঠের জঙ্গল। আবার ট্রি-লাইনের ওপরে এ জঙ্গলের উপর দিকে রয়েছে খাড়াই পাথর আর পাথুরের ক্লিফ। দাচিগামের মূল অরণ্যে ঢুকতে বিশেষ পারমিট লাগে। শ্রীনগরের ট্যুরিস্ট রিসিপশন সেন্টার থেকে পারমিট করিয়ে দেখে আসা যায় দাচিগাম রেসকিউ সেন্টার। জঙ্গলে ঢুকেই দেখা মেলে নানান প্রজাতির পাখি। সহজেই দেখা মেলে চোখ জুড়ানো ঝলমলে রঙের ময়ূরের। র্কচ, ফার, ওক, ডইলো, পপলার, থ্যাজলনটি, চেস্টনাট বৃক্ষ ছড়িয়ে রয়েছে, যা কিনা দাচিগাম বনাঞ্চলের অপরূপ শোভা।

এখানে সারাদিনই রকমারি সবুজ, কমলা আর খয়েরির সমন্বয়ে রঙবাহারি শুকনো পাতার কার্পেটের ওপর পড়ে আছে রঙ-বেরঙের ফল। কমলা রঙা ওক ফলের কথা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। পাকলে এ ফল খেতে আসে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারের দল। এরাই এ অরণ্যে রাজত্ব করে থাকে। দাচিগাম অরণ্যে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারের মুখোমুখি হওয়াটা বিপজ্জনক হতে পারে। এরা খুবই হিংস্র, কোনও কারণ ছাড়াই মানুষকে আক্রমণ করে। তাই এ অরণ্যে যারা আসেন, তারা সবাই একসঙ্গে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলাচল করেন। এখানে দলছুট হওয়া কোনও মতেই যাবে না, তাহলেই বিপদ। রক্ষা নেই। এখানের অরণ্যে রয়েছে হাঙ্গুল। এরা এক ধরনের হরিণ, অর্থাৎ এদের বলা হয় ‘হাঙ্গুল রেড ডিয়ার’, এদের সংখ্য দিন দিন কমছে। আনুমানিক ৩৪০টি হাঙ্গুল রয়েছে জাম্বু কাশ্মীর আর হিমালয়ের কয়েকটি অঞ্চলে। ব্ল্যাক বিয়ার, অর্থাৎ কালো ভল্লুক যদি দেখা মেলে তাহলে তো কথাই নেই। বিরাট এ কালো ভল্লুকের বুকের এক অংশের রঙ সাদাটে হলুদ। প্রথম দর্শনে মনে হয় যেন সাদা মালা পরে আছে এরা। ঋতু বিশেষে হিমালয়ের ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। লম্বায় এরা ৫ ফুটের কম-বেশি হয়। এদের ওজন হয় ২০০ থেকে ২৬০ কেজির মধ্যে। শীতে ঘুমের পর সেই ওজন বেড়ে ৪০০ কেজি অবধি হয়। এরা সর্বভুক। ফল, বাদাম, মধু, পোকামাকড় সবই খায়। খাবারের অভাব হলে গৃহপালিত পশুও শিকার করে খায়। জঙ্গল সংকোচন, ভল্লুক শিকার ইত্যাদি কারণে এ অদ্ভুত সুন্দর আর বলশালী প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির পথে। বসন্তে দাচিগাম অরণ্যের শোভা হয় অনন্য। নানান রকম ফুলের রঙের ছটায় এখন মনে হয় জঙ্গলে যেন চলছে হোলি খেলা। ভল্লুকও তখন আনন্দে নাচে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...