পার্বত্য ভূমি বিরোধ ॥ পাহাড়ি সংগঠনগুলোর বিরোধিতা ॥ নিষ্পত্তি কমিশনের বিচার কার্যক্রম আজ শুরু

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥ পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতা সত্ত্বেও আজ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আজ ও কাল খাগড়াছড়ি জেলার ৫০টি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে কমিশনের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিচারিক কার্যক্রমে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসককে মামলার ১ নম্বর আইনি প্রতিপক্ষ করা হয়েছে এবং মামলা চলাকালে তার একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কমিশনের একটি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান তিন পার্বত্য জেলা থেকে পাওয়া প্রায় ৫ হাজার আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় আড়াই হাজার আবেদনকে বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। খাগড়াছড়িস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত বিচারিক আদালতে খাগড়াছড়ি জেলার সদর, মহালছড়ি, দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও পানছড়ি উপজেলার মোট ৫০টি আবেদনের নোটিশের ওপর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, এর আগে ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আঞ্চলিক পরিষদসহ পাহাড়ি সংগঠনের বিরোধিতার কারণে তা হয়নি। কমিশনের সদস্যসচিব মোঃ আবদুল হামিদ জানান, খাগড়াছড়ি জেলার আবেদনবকারীদের জন্য শুরু হওয়া এ বিচারিক আদালতে ৫ জনের কোরামের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্তত তিনজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে সকাল ১০টায় বিচার কাজ শুরু হবে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিচার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে পাহাড়ি সংগঠনগুলো। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এক বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ সংশোধন ব্যতিরেকে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু করলে পার্বত্যবাসীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে। অন্যদিকে ইউনাইটেড পিপল্‌স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসিত খীসা ও সাধারণ সম্পাদক রবিশংকর চাকমা এক বিবৃতিতে অবিলম্বে বিতর্কিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন কর্তৃক একতরফাভাবে জারিকৃত শুনানির নোটিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। ইউপিডিএফ নেতৃদ্বয় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে শুনানির নোটিশ বাতিল করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিচার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শহরের স্বনির্ভর বাজার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চেঙ্গী স্কয়ারে এলে পুলিশের বাধার মুখে চেঙ্গী স্কয়ারে তারা সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চরণসিংহ তংচঙ্গ্যা, জিকো ত্রিপুরা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আপ্রুসি মার্মা। তথ্য সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।

Advertisements
Loading...