পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১২ সংসদে পাস ॥ পর্নোগ্রাফির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ অবশেষে পর্নোগ্রাফি বিল সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ হলেও সামপ্রতিক সময়ে পর্নোগ্রাফিতে দেশ ছেয়ে গেছে। এমতাবস্থায় দেশের বিবেকবান মানুষদের দাবির প্রেক্ষিতে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।

পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১২ ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ হয়। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, বর্তমানে চলচ্চিত্র, স্যাটেলাইট, ওয়েবসাইট ও মোবাইলের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি মারাত্মক ব্যাধির মতো দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। পর্নোগ্রাফি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর শিকার হয়ে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় অপরাধ রোধ ও অরপাধীদের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিলে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা, বিচারিক আদালত, বিচার ও আপিল পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের শাস্তি, তদন্ত ও তল্লাশি পদ্ধতি এবং অপরাধের আমলযোগ্যতার বিষয়টি সন্নিবেশিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২ জানুয়ারি বিলটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। পরে ২৯ জানুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই। এছাড়া যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা লিফলেট বা এগুলোর নেগেটিভ বা সফট ভার্সনও পর্নোগ্রাফির আওতাভুক্ত হবে। বিলে বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন করা যাবে না। পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বা তার সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আরও ১৫ দিন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে আরও ৩০ দিন পর্যন্ত সময় নেয়া যাবে। বিলের ছয় নম্বর দফায় বলা হয়েছে, এজাতীয় অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার বা কোন পর্নোগ্রাফি সরঞ্জাম জব্দের জন্য তল্লাশি চালানো যাবে। শিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা এ উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করে চুক্তিপত্র তৈরি করলে অথবা কোন নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কারও মর্যাদাহানি বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা হলে এমনকি এজাতীয় কিছু সংরক্ষণ বা পরিবহন করা হলেও ২ থেকে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। বিলের ৮ নম্বর ধারার ৭ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তাকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনা যাবে। কেউ এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল করতে হবে। এছাড়া বিলে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকেও শাস্তির আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে এ আইনের খসড়া ২০১০ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।

এই আইনের ফলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন থেকে সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রকৃত অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে পারবেন।

Advertisements
Loading...