সমুদ্রের মধ্যে এক মানবিক বিপর্যয়: নিষ্ঠুর এক মানবতা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সমুদ্রের মধ্যে এক মানবিক বিপর্যয়ে অভিবাসীরা। থাইল্যান্ড তাদের জলসীমায় ঢুকতে দেয়নি এসব অধিবাসীদের। হেলিকপ্টার থেকে কিছু পানি ও খাবার দেওয়া হয়েছে অমাবিকভাবে।

A humanitarian disaster of immigrants in the sea

গত কয়েক সপ্তাহের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিশ্বের বিবেকবান মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ইন্দোনেশীয়ার সুমাত্রা দ্বীপের আচেহ’র পূর্ব উপকূলে ডুবতে বসা একটি নৌকা হতে শিশু ও নারীসহ প্রায় ৮শ’ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। মালয়েশীয়া হতে বিতাড়িত হয়ে ইন্দোনেশীয়ার জলসীমায় নৌকাটি ডুবতে বসলে জেলেরা এসব অধিবাসীদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের ইন্দোনেশীয়ার আচেহ প্রদেশের লাংসা শহরে রাখা হয়েছে।

800 Bangladeshis refugees rescued

প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান এবং বাংলাদেশী অভিবাসী বহনকারী নৌকাগুলোকে ভিড়তে না দিয়ে সাগরে ঠেলে দেওয়ার নীতির কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। আর মালয়েশীয়ার উদ্দেশে এই মানবপাচার বন্ধে এবং ভেসে থাকা মানুষের জীবন বাঁচাতে আঞ্চলিক সমাধানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

A humanitarian disaster of immigrants in the sea-3

এদিকে গতকাল থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমা থেকে বিতাড়িত হওয়া একটি ট্রলারে একজন থাই সাংবাদিকের ভিডিওটি বিশ্ববাসীকে আরও ভাবিয়ে তুলেছে। এক মহা মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এটিকে। থাইল্যান্ডের সামরিক শাসক এক সাংবাদিককে ভিডিও ধারনের অনুমতি দিলে তিনি এক ভিডিওতে যে দৃশ্য ধারণ করেন তা দেখে হতভম্ব হন সবাই। খাদ্য অভাবে এক এক জন মানুষের পেট পিঠের সঙ্গে ঠেকে গেছে। থাই সরকার এসব অধিবাসীদের তাদের সীমানায় ঢুকতে দেয়নি। তাদের হেলিকপ্টারে অমানবিকভাবে পানি দেওয়ার দৃশ্য বিবেকবান মানুষকে কষ্ট দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর টহল নৌযান গত বুধবার পেনাং ও লাংকাওয়ী উপকূল থেকে দুটি নৌকাকে গভীর সাগরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় নৌকাটিও ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় থাকতে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা। উপকূলের কাছাকাছি অন্য আরেকটি নৌকায় ছিল ৪৭ জন অভিবাসী। ক্ষুধার্ত এসব মানুষ পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধারের জন্য মিনতি জানায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাঁদের উদ্ধার করে। এর আগে গত সপ্তাহে প্রায় এক হাজার অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করে ইন্দোনেশিয়া।

সমুদ্রে ভেসে থাকা অভিবাসীদের তীরে ভিড়তে না দিয়ে সমুদ্রে ফেরত পাঠানোর নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত এবং বন্দর খোলা রাখার আহ্‌বান জানিয়েছেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...